বন্দর-নবীগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকট, হোটেলগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার নবীগঞ্জ এবং এর আশপাশের বিশাল এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবারে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সন্ধ্যা নামলেই বাসাবাড়িতে গ্যাসের চুলা একেবারে নিভে যায় কিংবা যেটুকু থাকে তাতে চা ফুোটানোও অসম্ভব হয়ে পড়ে। ভূক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কাইতাখালী, নোয়াদ্দা, তিনগাঁও এবং পদুঘর এলাকার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। টানা কয়েকদিন ধরে রান্নাবান্না বন্ধ থাকায় গৃহিণীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না করতে না পেরে বিকল্প হিসেবে রেস্তোরাঁ ও হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের। গত ১২ অক্টোবর (সোমবার) রাতে নবীগঞ্জ বাজারের খাবার হোটেলগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রাতের খাবারের জন্য সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পার্সেল সংগ্রহ করতে দেখা যায়। অনেক হোটেলে অল্প সময়ের মধ্যেই খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে অনেককে।
নবীগঞ্জের এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দিনে কিছুটা সময় হালকা গ্যাস থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে একেবারে গ্যাস থাকে না। রাতে চুলা জলেই না। গত রাতে বাজার থেকে খাবার কিনে খেতে হয়েছে, তাও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে। এভাবে কতদিন চলবে?"
আরেক গৃহিণী জানান, বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার বা মাটির চুলা ব্যবহারের সুযোগ সবার নেই। গ্যাস বিল নিয়মিত পরিশোধ করা সত্ত্বেও সময়মতো গ্যাস না পাওয়া অত্যন্ত অন্যায্য।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে এ সংকট চললেও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। দ্রুত এই তীব্র গ্যাস সংকট নিরসন করে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন নবীগঞ্জ ও আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
আপনার মতামত লিখুন