‎সাংবাদিকতার আড়ালে নোয়াখাইল্লা রাসেলের জালিয়াতির তথ্য ফাসঁ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নিজের অন্ধকার অতীত ও অপকর্ম আড়াল করতে ‘সাংবাদিক’ পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে কথিত ‘নোয়াখাইল্লা রাসেল’। পবিত্র সাংবাদিকতা পেশাকে পুঁজি করে সে এক ভয়ংকর ‘অপরাধ সিন্ডিকেট’ গড়ে তুলেছে। এলাকায় একসময় প্রতারক ও দালালি কারবারী হিসেবে পরিচিত এই রাসেল এখন নিজেকে সাংবাদিক দাবি করে সাধারণ মানুষের জানমাল ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। সাংবাদিকতার দোহাই দিয়ে সে একাধারে জমির দালালি, ইন্স্যুরেন্সের দালালি এবং অনুমোদনহীন হারবাল ওষুধের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কে এই নোয়াকাইল্লা রাসেল? স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাসেল মূলত বন্দরে বহিরাগত আঞ্চলিকভাবে নোয়াখাইল্লা হিসেবে পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ছোটখাটো প্রতারণার সাথে জড়িত ছিল।
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে বিবাদমান জমি নিয়ে। এলাকার কোথাও জমি সংক্রান্ত কোনো বিরোধের খবর পেলেই রাসেল সেখানে সাংবাদিক পরিচয়ে হাজির হয়। এরপর সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে এক পক্ষকে ভয় দেখিয়ে এবং অন্য পক্ষের হয়ে দালালি করে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। কখনও কখনও সে নিজেই ‘শালিস-বিচার’ বসায় এবং জমির কাগজপত্রের ভয় দেখিয়ে নিরীহ মানুষদের জিম্মি করে। ল্যান্ড অফিস ও বিভিন্ন দপ্তরে সে নিজেকে বড় সাংবাদিক দাবি করে দালালি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।
রাসেল বিভিন্ন নামসর্বস্ব ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং সাধারণ মানুষকে ইন্স্যুরেন্স করতে বাধ্য করে। পাশাপাশি অনুমোদনহীন ও ক্ষতিকর হারবাল ওষুধ বিক্রি করা তার আয়ের অন্যতম উৎস। রাসেলের কথিত ‘সাংবাদিক কার্যালয়ে’ বসে এসব মানহীন ওষুধের গুণগান গেয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করা হচ্ছে।
বন্দরের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে বলছেন, রাসেলের কাছে সাংবাদিকতা মানেই হলো অপরাধ করার ছাড়পত্র। সে তার গলায় ঝোলানো পরিচয়পত্রকে ‘সুরক্ষা কবচ’ মনে করে। ইন্স্যুরেন্সের দালালি থেকে শুরু করে জমির দালালি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সে ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ে নিজের আধিপত্য বজায় রাখে। তার অত্যাচারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ গৃহস্থ পরিবারগুলো এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
বন্দরের অভিজ্ঞ সংবাদকর্মীরা বলছেন, সাংবাদিকতার সাথে ইন্স্যুরেন্স, হারবাল বা জমির দালালি—এসবের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। রাসেল মূলত এই মহৎ পেশার আড়ালে একজন ‘পেশাদার প্রতারক’। তার কারণে পুরো জেলার সাংবাদিক সমাজের সম্মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা এখন হুমকির মুখে।
ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, সাংবাদিকতার নাম করে যে বহুমুখী জালিয়াতি ও দালালি সে চালিয়ে যাচ্ছে, তা তদন্ত করে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন