ঢাকা   রোববার, ১৭ মে ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

পবিপ্রবিতে ভিসি-প্রো-ভিসি দ্বন্দ্ব চরমে: শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, যুবদল নেতাসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা



পবিপ্রবিতে ভিসি-প্রো-ভিসি দ্বন্দ্ব চরমে: শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, যুবদল নেতাসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
পবিপ্রবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আন্দোলনে হামলা,নেপথ্যে ভিসি-প্রোভিসি দ্বন্দ্ব ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ভিসি ও প্রো-ভিসির মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপাচার্যের (ভিসি) পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত অংশের ওপর স্থানীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর একটি পক্ষ এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় থাকা ক্যাম্পাসে এই সংঘাতের ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মুকিত মিয়া বাদী হয়ে স্থানীয় দুমকি থানায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্থানীয় যুবদল নেতা রিপন শরীফকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং গত বুধবার ইতিমধ্যে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দ্বন্দ্বের সূত্রপাত: রিজেন্ট বোর্ড ও পদোন্নতির বাছাই বোর্ড

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বিগত প্রায় ছয় মাস ধরে চলমান ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম এবং প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. এস.এম হেমায়েত জাহানের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বই অবশেষে এই প্রকাশ্য সংঘাতের রূপ নিয়েছে। এই বিভাজনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭তম রিজেন্ট বোর্ডের সভা ও একই মাসে অনুষ্ঠিত পদোন্নতির বাছাই বোর্ড।

প্রো-ভিসি পন্থী শিক্ষকদের অভিযোগ, রিজেন্ট বোর্ডের সভায় গৃহীত হয়নি এমন কিছু সিদ্ধান্তকে বোর্ডের নামে অফিস আদেশ জারির মাধ্যমে একক ক্ষমতাবলে বাস্তবায়ন করেছেন ভিসি। আলোচ্যসূচির ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী ২৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ২১ জনের পদোন্নতি ও পর্যায়োন্নয়ন স্থগিত রেখে মাত্র ৩ জনের ক্ষেত্রে তা অনুমোদন দেওয়া হয়। বাছাই বোর্ডের সুপারিশের পর ভিসি কর্তৃক নতুন আরেকটি রিভিউ কমিটি গঠনকে বিধিবহির্ভূত দাবি করছেন তারা।

অন্যদিকে ভিসি পন্থী সূত্র জানায়, শর্তপূরণ না হওয়ায় প্রো-ভিসির অনুসারী মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. এ.বি.এম. সাইফুল ইসলামের পদোন্নতি এবং অধ্যাপক জামাল হোসেনের স্ত্রী জিনাত নাসরিন সুলতানার সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগের বিষয়টি রিজেন্ট বোর্ডে অননুমোদিত হয়। এসব সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে না আসায় শিক্ষকদের একাংশ ভিসির ওপর চড়াও হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্পষ্ট বিভক্তি তৈরি হয়। এর জেরে উভয় পক্ষ আলাদাভাবে বিজয় দিবসও উদযাপন করে।

ঢাকায় লিয়াজোঁ অফিসে হেনস্তা ও ডিন অপসারণ নাটক

বিরোধের রেশ ধরে তৎকালীন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইকতিয়ার হোসেন ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে প্রো-ভিসির অনুসারী অধ্যাপক জামাল হোসেন কর্তৃক হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে রেজিস্ট্রার নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি জানালে গত ১ জানুয়ারি নতুন রেজিস্ট্রার হিসেবে অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমানকে নিয়োগ দেন ভিসি।

এরই মধ্যে গত ৫ জানুয়ারি কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. হেমায়ত জাহানের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। ডিন দেলোয়ারের পদত্যাগের দাবিতে প্রো-ভিসি গ্রুপ ভিসির বাসভবন ঘেরাও করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ক্যাম্পাসের এই অচলাবস্থা নিরসনে গত ৭ জানুয়ারি (বুধবার) সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। তার মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠকে অধ্যাপক ড. দেলোয়ারকে ডিন হিসেবে স্বপদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে বৈঠক শেষে আলতাফ হোসেন ও ভিসি ক্যাম্পাস ত্যাগ করার পরপরই সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরে ড. দেলোয়ারকে ডিন পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ‘ট্যাগিং’ রাজনীতি

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করলে পবিপ্রবির এই দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পায়। ভিসি অধ্যাপক কাজী রফিক ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক হেমায়েত জাহান একে অপরকে ‘জামায়াতপন্থী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ মার্চ ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘পটুয়াখালীবাসী’র ব্যানারে উভয়কেই জামায়াতপন্থী দাবি করে দুই শীর্ষ কর্তারই পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়।

রেজিস্ট্রারকে জিম্মি করে চিঠিতে সই নেওয়ার অভিযোগ

গত ১১ মার্চ (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিস্ট্রার একটি লিখিত ব্যাখ্যায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, রিজেন্ট বোর্ডে পদোন্নতি অননুমোদিত হওয়া শিক্ষক ড. এ.বি.এম. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল শিক্ষক ও কর্মকর্তা তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট চিঠিতে ভিসির অনুমোদন ছাড়া স্বাক্ষর করতে অনীহা প্রকাশ করায় তাকে কার্যত জিম্মি করা হয়। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্মানহানির আশঙ্কায় তিনি ‘অনিচ্ছাসত্ত্বেও’ ওই আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। এ ছাড়া অ্যানিম্যাল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের কম্বাইন্ড ডিগ্রি নিয়েও দুই পক্ষের বিভক্তি চরমে পৌঁছায়।

উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

প্রো-ভিসি ড. হেমায়েত জাহানের অনুসারীদের দাবি, বর্তমান ভিসি ড. কাজী রফিকুল ইসলামের সীমাহীন দুর্নীতি ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। অকারণে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের শোকজ নোটিশ দেওয়া হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। বর্তমানে তারা হামলার প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাডেমিক ডায়রি-ক্যালেন্ডার তৈরিতে বাধা এবং 'জুলাই কর্নার'-এর ফলক নষ্টের অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট দাবি করে বলেন, “যে বিষয়গুলোর সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না, সেসব বিষয়ে একজন ভিসি কীভাবে মন্তব্য করেন তা বোধগম্য নয়।” হামলার পেছনে উপাচার্যের ইন্ধন রয়েছে ইঙ্গিত করে তিনি দাবি করেন, ঘটনার আগের দিন ভিসি কনফারেন্স রুমে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে বৈঠক করেছিলেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম  বলেন, “ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। যারা অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ লুটপাট, টেন্ডার থেকে অবৈধ কমিশন গ্রহণ, খামারের মৌসুমি শ্রমিকের নামে ভুয়া বিল উত্তোলন, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এখন তারা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের দুর্নীতি, মব সৃষ্টির অপচেষ্টা কিংবা শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টকারী ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করবে না। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এস.এম হেমায়েত জাহানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এই মুহূর্তে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


পবিপ্রবিতে ভিসি-প্রো-ভিসি দ্বন্দ্ব চরমে: শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, যুবদল নেতাসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ভিসি ও প্রো-ভিসির মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপাচার্যের (ভিসি) পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত অংশের ওপর স্থানীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর একটি পক্ষ এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় থাকা ক্যাম্পাসে এই সংঘাতের ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মুকিত মিয়া বাদী হয়ে স্থানীয় দুমকি থানায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্থানীয় যুবদল নেতা রিপন শরীফকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং গত বুধবার ইতিমধ্যে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দ্বন্দ্বের সূত্রপাত: রিজেন্ট বোর্ড ও পদোন্নতির বাছাই বোর্ড

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বিগত প্রায় ছয় মাস ধরে চলমান ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম এবং প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. এস.এম হেমায়েত জাহানের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বই অবশেষে এই প্রকাশ্য সংঘাতের রূপ নিয়েছে। এই বিভাজনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭তম রিজেন্ট বোর্ডের সভা ও একই মাসে অনুষ্ঠিত পদোন্নতির বাছাই বোর্ড।

প্রো-ভিসি পন্থী শিক্ষকদের অভিযোগ, রিজেন্ট বোর্ডের সভায় গৃহীত হয়নি এমন কিছু সিদ্ধান্তকে বোর্ডের নামে অফিস আদেশ জারির মাধ্যমে একক ক্ষমতাবলে বাস্তবায়ন করেছেন ভিসি। আলোচ্যসূচির ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী ২৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ২১ জনের পদোন্নতি ও পর্যায়োন্নয়ন স্থগিত রেখে মাত্র ৩ জনের ক্ষেত্রে তা অনুমোদন দেওয়া হয়। বাছাই বোর্ডের সুপারিশের পর ভিসি কর্তৃক নতুন আরেকটি রিভিউ কমিটি গঠনকে বিধিবহির্ভূত দাবি করছেন তারা।

অন্যদিকে ভিসি পন্থী সূত্র জানায়, শর্তপূরণ না হওয়ায় প্রো-ভিসির অনুসারী মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. এ.বি.এম. সাইফুল ইসলামের পদোন্নতি এবং অধ্যাপক জামাল হোসেনের স্ত্রী জিনাত নাসরিন সুলতানার সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগের বিষয়টি রিজেন্ট বোর্ডে অননুমোদিত হয়। এসব সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে না আসায় শিক্ষকদের একাংশ ভিসির ওপর চড়াও হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্পষ্ট বিভক্তি তৈরি হয়। এর জেরে উভয় পক্ষ আলাদাভাবে বিজয় দিবসও উদযাপন করে।

ঢাকায় লিয়াজোঁ অফিসে হেনস্তা ও ডিন অপসারণ নাটক

বিরোধের রেশ ধরে তৎকালীন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইকতিয়ার হোসেন ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে প্রো-ভিসির অনুসারী অধ্যাপক জামাল হোসেন কর্তৃক হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে রেজিস্ট্রার নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি জানালে গত ১ জানুয়ারি নতুন রেজিস্ট্রার হিসেবে অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমানকে নিয়োগ দেন ভিসি।

এরই মধ্যে গত ৫ জানুয়ারি কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. হেমায়ত জাহানের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। ডিন দেলোয়ারের পদত্যাগের দাবিতে প্রো-ভিসি গ্রুপ ভিসির বাসভবন ঘেরাও করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ক্যাম্পাসের এই অচলাবস্থা নিরসনে গত ৭ জানুয়ারি (বুধবার) সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। তার মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠকে অধ্যাপক ড. দেলোয়ারকে ডিন হিসেবে স্বপদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে বৈঠক শেষে আলতাফ হোসেন ও ভিসি ক্যাম্পাস ত্যাগ করার পরপরই সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরে ড. দেলোয়ারকে ডিন পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ‘ট্যাগিং’ রাজনীতি

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করলে পবিপ্রবির এই দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পায়। ভিসি অধ্যাপক কাজী রফিক ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক হেমায়েত জাহান একে অপরকে ‘জামায়াতপন্থী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ মার্চ ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘পটুয়াখালীবাসী’র ব্যানারে উভয়কেই জামায়াতপন্থী দাবি করে দুই শীর্ষ কর্তারই পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়।

রেজিস্ট্রারকে জিম্মি করে চিঠিতে সই নেওয়ার অভিযোগ

গত ১১ মার্চ (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিস্ট্রার একটি লিখিত ব্যাখ্যায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, রিজেন্ট বোর্ডে পদোন্নতি অননুমোদিত হওয়া শিক্ষক ড. এ.বি.এম. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল শিক্ষক ও কর্মকর্তা তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট চিঠিতে ভিসির অনুমোদন ছাড়া স্বাক্ষর করতে অনীহা প্রকাশ করায় তাকে কার্যত জিম্মি করা হয়। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্মানহানির আশঙ্কায় তিনি ‘অনিচ্ছাসত্ত্বেও’ ওই আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। এ ছাড়া অ্যানিম্যাল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের কম্বাইন্ড ডিগ্রি নিয়েও দুই পক্ষের বিভক্তি চরমে পৌঁছায়।

উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

প্রো-ভিসি ড. হেমায়েত জাহানের অনুসারীদের দাবি, বর্তমান ভিসি ড. কাজী রফিকুল ইসলামের সীমাহীন দুর্নীতি ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। অকারণে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের শোকজ নোটিশ দেওয়া হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। বর্তমানে তারা হামলার প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাডেমিক ডায়রি-ক্যালেন্ডার তৈরিতে বাধা এবং 'জুলাই কর্নার'-এর ফলক নষ্টের অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট দাবি করে বলেন, “যে বিষয়গুলোর সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না, সেসব বিষয়ে একজন ভিসি কীভাবে মন্তব্য করেন তা বোধগম্য নয়।” হামলার পেছনে উপাচার্যের ইন্ধন রয়েছে ইঙ্গিত করে তিনি দাবি করেন, ঘটনার আগের দিন ভিসি কনফারেন্স রুমে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে বৈঠক করেছিলেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম  বলেন, “ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। যারা অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ লুটপাট, টেন্ডার থেকে অবৈধ কমিশন গ্রহণ, খামারের মৌসুমি শ্রমিকের নামে ভুয়া বিল উত্তোলন, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এখন তারা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের দুর্নীতি, মব সৃষ্টির অপচেষ্টা কিংবা শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টকারী ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করবে না। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এস.এম হেমায়েত জাহানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এই মুহূর্তে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত