বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন সোনারগাঁও জাদুঘর-এর অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত দাবি
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (সোনারগাঁও জাদুঘর)-এর ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ি বাণিজ্যিক শুটিংয়ে ব্যবহারের অভিযোগ, স্থাপনার সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি, কারুপল্লীর দোকান বরাদ্দ এবং আর্থিক-প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কথিত অনিয়ম-দুর্নীতির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির আহ্বায়ক শাহেদ কায়েস এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বড় সরদার বাড়ি প্রায় পাঁচশ বছরের পুরোনো। ২০১২ সালে রেস্টোরেশন চুক্তির পর প্রায় পাঁচ বছর কাজ শেষে ২০১৭ সালে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শেষ হয় এবং ২০১৮ সালে এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। রেস্টোরেশনে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
কমিটির অভিযোগ, সম্প্রতি ‘কোক স্টুডিও বাংলা সিজন ৪’-এর ভিডিও ও কোকা-কোলার বিজ্ঞাপন নির্মাণের জন্য বড় সরদার বাড়ি টানা ৯৬ ঘণ্টা বা চার দিন ছয় লাখ টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়। শুটিংয়ে ভারী ক্যামেরা, জেনারেটর, আলোকসজ্জা ও সাউন্ড সিস্টেমসহ বিপুল সরঞ্জাম এবং প্রায় দুই শতাধিক কলাকুশলী ছিলেন। এতে ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি কমিটির।
তাদের আরও অভিযোগ, রেস্টোরেশন প্রকল্পের পরিচালক ও স্থপতি অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম. আহমেদ শুটিংয়ের আগে ভারী সরঞ্জাম ব্যবহারে সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে শুটিং না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপরও শুটিং হয়ে থাকলে কার অনুমোদনে তা হয়েছে, তা তদন্তের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কারুপল্লীর দোকান বরাদ্দে প্রকৃত কারুশিল্পীদের বঞ্চনা এবং সুবিধাজনক স্থানে দোকান পেতে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
এ ছাড়া সুবর্ণজয়ন্তী ও বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত টেন্ডার ছাড়া প্রায় অর্ধকোটি টাকার কাজ দেওয়া, প্রায় ২০ লাখ টাকার ভুয়া বিল-চেকের অভিযোগ, অনুমোদন ছাড়া তিন কোটি টাকার বেশি ব্যয়, এটিএম শেডে ৩০ লাখ টাকার বেশি বিল, কোরবানি শেডে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিল, বড় সরদার বাড়ির মেরামতে প্রায় ছয় লাখ, শ্রমিকের নামে প্রায় ১২ লাখ এবং কারুশিল্পীদের কাঁচামালের নামে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ভুয়া বিলের অভিযোগ তোলা হয়।
পরিচালনা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বেসরকারি ব্যাংকে সরকারি অর্থ রাখা, স্মারকগ্রন্থে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিল এবং সরকারি ডাকবাংলোয় ভাড়া না দিয়ে অবস্থানের অভিযোগও করা হয়।
কমিটি জানায়, এসব অভিযোগ প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে নয়, স্বাধীন তদন্তের দাবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারা বড় সরদার বাড়ির জরুরি কারিগরি পরিদর্শন, সব আর্থিক নথির বিশেষ নিরীক্ষা, দোকান বরাদ্দের স্বচ্ছতা এবং অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা ও সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন