নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী বুলবুল হত্যা: ৬ ঘণ্টার মধ্যে মূলহোতা সিফাতসহ গ্রেফতার ১১
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সহায়তার জেরে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ব্যবসায়ী জাহিদ আল আমিন বুলবুলকে (৪০) কুপিয়ে হত্যার ঘটনার মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে ২১ আগষ্ট শুক্রবার সকালে প্রধান আসামি শীর্ষ দুষ্কৃতকারী শেখ সিফাতসহ (৩২) ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একাধিক দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জাহিদ আল আমিন বুলবুল ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করেছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শেখ সিফাত ও তার বাহিনী ২৪ জুলাই ২০২৪ রাতে বুলবুলের অটো রিকশার গ্যারেজ থেকে প্রায় ১৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার মালামাল লুট করে। ওই ঘটনায় মামলা করলে আসামিরা তাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
এরই জেরে গত ২০ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮:৪০ মিনিটে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দর সালেহ নগর এলাকায় আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বুলবুলের পথরোধ করে। ১ নং আসামি শেখ সিফাতের প্রকাশ্য হুকুম ও নেতৃত্বে আসামিরা তাকে চাপাতি, রামদা, সুইচ গিয়ার ও এসএস পাইপ দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করে। উদ্ধার করে জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ২১ আগস্ট বন্দর থানায় মামলা (নং-৪০, ধারা- ৩০২/৩৪) দায়ের করা হয়।
ঘটনার পরপরই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর তত্ত্বাবধানে ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স অভিযান শুরু করে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষ ও বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জামাল উদ্দিনের দল রাত ৩:৩০ মিনিটে শাহী মসজিদ সংলগ্ন সিফাতের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে সিফাত ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে।
এসময় ১টি ছ্যান দা, ১টি স্টিলের চাপাতি ও ১টি প্লাস্টিকের বাটযুক্ত ছুরি। ২টি সুইচ গিয়ার চাকু ও ১টি ওয়াকিটকি। ৫টি লোহার ও এসএস পাইপ, জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো— শেখ সিফাত (৩২), জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন (২৯), মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), রিয়াদ (৩৩), মোঃ সিয়াম (২৫), মোসাঃ মিনারা (৩৫), নাসিমা (৩৬), রুমা (৩৬), ইফরান (২৯), ইয়াসমিন (৪০) এবং সিজান ওরফে জিসান (২৬)।
পুলিশ জানায়, ধৃত শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, হোয়াইট জুম্মনের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের সাথে জড়িত। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন