আদালত পৃথকীকরণের প্রস্তাবে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবীদের প্রতিবাদ ও বিকল্প প্রস্তাবে সংবাদ সম্মেলন
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পৃথক স্থানে পরিচালনার প্রস্তাবের প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী অধিকার রক্ষা পরিষদ’। বিচ্ছিন্ন স্থানে আদালত পরিচালনা করা হলে বিচারপ্রার্থী জনগণ এবং আইনজীবীদের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়বে উল্লেখ করে ২০ আগষ্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে বারভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলার জনসংখ্যা ৩৯ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ জন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষ জেলা আদালত প্রাঙ্গণে যাতায়াত করেন। বর্তমানে সারা দেশের নিম্ন আদালতগুলোতে ৪০ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আদালত বিভক্ত করা হলে নানা সমস্যার সৃষ্টি হবে। বিচারপ্রার্থী জনগণের সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় ঘটবে, মামলা-মোকদ্দমা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব বাড়বে, আইনজীবী ও বিচার-সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ব্যাহত হবে,সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি আরও কঠিন হয়ে পড়বে, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ব্যয় ও জটিলতা বৃদ্ধি পাবে, নারায়ণগঞ্জ শহরের তীব্র যানজটের কারণে বিচারিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে।
এসময় পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনজীবী সমাজ কিছু বাস্তবসম্মত প্রস্তাব তুলে ধরেছে। তারা জানান, বর্তমান নতুন কোর্ট ভবনের আশপাশেই পর্যাপ্ত সরকারি ও অধিগ্রহণযোগ্য ভূমি রয়েছে। বিশেষ করে— নতুন কোর্ট ভবনের পেছনের গণপূর্ত বিভাগের (PWD) জমি,নতুন কোর্ট ভবনের দক্ষিণ পাশের খালি স্থান, নতুন কোর্ট ভবনের পশ্চিম পাশের খালি স্থান।
আইনজীবীরা মনে করেন, আলাদা স্থানে আদালত স্থানান্তর না করে বর্তমান ভবনের পাশের স্থানগুলো ব্যবহার করেই বিচারিক কার্যক্রম একই প্রাঙ্গণে বজায় রাখা সম্ভব।
এসময় নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির আইনজীবী অধিকার রক্ষা পরিষদের আহবায়ক সিনিয়র এডভোকেট এম এ হাফিজ মোল্লাহর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র এডভোকেট মাইনউদ্দিন মিয়া, এডভোকেট আবদুল সামাদ মোল্লা, এডভোকেট জাহাঙ্গীর দেওয়ান, এডভোকেট মো নিজামউদ্দিন, এডভোকেট ইস্রাফিল মিয়া,ও এডভোকেট মাসুদুর রহমান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন