ঢাকা   সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

কথিত সাংবাদিক ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের ৩৪ ধারা বাণিজ্য তুঙ্গে



কথিত সাংবাদিক ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের ৩৪ ধারা বাণিজ্য তুঙ্গে

মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত পুলিশের সোর্সরাই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার হর্তাকর্তা। ওসি থেকে শুরু করে উপ-পরিদর্শকরাও চলেন সোর্সদের কথামত। ফলে আইনশৃঙ্খলা ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে পুলিশ। ওসি হিসেবে মোহাম্মদ এমদাদুল হক যোগদান করার পর থেকেই বেড়ে গেছে ৩৪ ধারা বাণিজ্য। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে ক্ষোভ। 

জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িতরা কাজ করছে পুলিশের সোর্স হিসেবে। এসব সোর্সদের অনকই নামসর্বস্ব পত্রিকা, অনুমোদিত অননাইল পোর্টালের কার্ড কিনে সাংবাদিক পরিচয়ে পুলিশের সাথে সখ্যতা করে নিশ্চিন্তে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থানা অবস্থান করে এসব সোর্সরা পুলিশের সাথে মিলে তদ্ববির বাণিজ্য করছে। একাধিক সোর্সের আত্মীয়রা এলাকার মাদক সম্্রাট হিসেবে পরিচিত। 

ফলে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করলে তাদের ছাড়িয়ে আনার জন্য কোমর বেঁধে নেমে পড়ে সোর্সরা। এতে অদর্শিক পুলিশ অফিসার বিরক্ত বোধ করছে। তাদের কথা না শুনলে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে বদলি করার হুমকি ধমকি দিয়ে থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে পুলিশ অফিসাররা সাংবাদিক নামধারী সোর্সদের কথায় উঠবস করছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একজন উপ-পরিদর্শক ক্ষোভের সাথে বলেন, সবসময় থানার সামনে অবস্থান করা কিছু নামসর্বস্ব গণমাধ্যমকর্মীর কথা না শুনলে আওয়ামী লীগের দোসর বানিয়ে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেয়। কোন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার করলে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তারা জোরালো তদ্ববির করে। আবার কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার না করার জন্য অনুরোধ করে থাকে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, যে সব মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার না করার অনুরোধ করা হয়, তারা সাংবাদিকের ঘনিষ্ট আত্মীয়। 

অভিযোগ রয়েেেছ, কিছুদিন আগে আদমজী বিহারী কলোনির ব্যবসায়ী রমজানকে গ্রেপ্তার করে মাদক উদ্ধার করতে না পেরেও ৩ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়েও পরে ৫০ পিস  ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় তাকে আদালতে চালান করা হয়েছে। নিমাইকাশারী এলাকার মাদক ব্যবসায়ী সুমী, সুমনা ও একজন বাউল শিল্পীকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় ওসি এমদাদুল হক নিজে। পরে রাতে বিশেষ পেশার একজনের তদবিরে দেনদরবার করে ৭০ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে সুুমনা ও বাউল শিল্পীকে ছেড়ে নিয়ে সুমীকে ১৫ পিস ইয়াবার মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেপ্তার বাণিজ্য শুরু করেছে। নিরিহ নিরপরাধ লোকদের গ্রেপ্তার করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ৩৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করে। গত কয়েকমাস ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পুলিশ আইনের ৩৪ ধারা বাণিজ্য জমজমাট হয়ে উঠে। বিষেশ করে মোহাম্মদ এমদাদুল হক ওসি হিসেবে যোগদান করার পর থেকেই ৩৪ ধারা বাণিজ্য বেড়ে গেছে। 

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। আবার তাদের ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠালেও মাদক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন অপরাধীদের সাথে তাদের গ্রুপ ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে পুলিশ। ফলে আরাধী না হয়েও ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো নিরপরাধ লোকগুলোর ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে। এ নিয়েও দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ। অপরাধি হিসেবে নিরপরাধ লোকদের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। 

জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, সোর্সের কথায় পুলিশ চলে এমন কথা ভিত্তিহীন। তবে কোন সোর্স যদি অপরাধের সাথে জড়িত থাকে প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর ৩৪ ধারাও একটি অপরাধ। তাই তাদের ছবি দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


কথিত সাংবাদিক ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের ৩৪ ধারা বাণিজ্য তুঙ্গে

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত পুলিশের সোর্সরাই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার হর্তাকর্তা। ওসি থেকে শুরু করে উপ-পরিদর্শকরাও চলেন সোর্সদের কথামত। ফলে আইনশৃঙ্খলা ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে পুলিশ। ওসি হিসেবে মোহাম্মদ এমদাদুল হক যোগদান করার পর থেকেই বেড়ে গেছে ৩৪ ধারা বাণিজ্য। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে ক্ষোভ। 

জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িতরা কাজ করছে পুলিশের সোর্স হিসেবে। এসব সোর্সদের অনকই নামসর্বস্ব পত্রিকা, অনুমোদিত অননাইল পোর্টালের কার্ড কিনে সাংবাদিক পরিচয়ে পুলিশের সাথে সখ্যতা করে নিশ্চিন্তে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থানা অবস্থান করে এসব সোর্সরা পুলিশের সাথে মিলে তদ্ববির বাণিজ্য করছে। একাধিক সোর্সের আত্মীয়রা এলাকার মাদক সম্্রাট হিসেবে পরিচিত। 


ফলে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করলে তাদের ছাড়িয়ে আনার জন্য কোমর বেঁধে নেমে পড়ে সোর্সরা। এতে অদর্শিক পুলিশ অফিসার বিরক্ত বোধ করছে। তাদের কথা না শুনলে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে বদলি করার হুমকি ধমকি দিয়ে থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে পুলিশ অফিসাররা সাংবাদিক নামধারী সোর্সদের কথায় উঠবস করছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একজন উপ-পরিদর্শক ক্ষোভের সাথে বলেন, সবসময় থানার সামনে অবস্থান করা কিছু নামসর্বস্ব গণমাধ্যমকর্মীর কথা না শুনলে আওয়ামী লীগের দোসর বানিয়ে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেয়। কোন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার করলে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তারা জোরালো তদ্ববির করে। আবার কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার না করার জন্য অনুরোধ করে থাকে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, যে সব মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার না করার অনুরোধ করা হয়, তারা সাংবাদিকের ঘনিষ্ট আত্মীয়। 

অভিযোগ রয়েেেছ, কিছুদিন আগে আদমজী বিহারী কলোনির ব্যবসায়ী রমজানকে গ্রেপ্তার করে মাদক উদ্ধার করতে না পেরেও ৩ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়েও পরে ৫০ পিস  ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় তাকে আদালতে চালান করা হয়েছে। নিমাইকাশারী এলাকার মাদক ব্যবসায়ী সুমী, সুমনা ও একজন বাউল শিল্পীকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় ওসি এমদাদুল হক নিজে। পরে রাতে বিশেষ পেশার একজনের তদবিরে দেনদরবার করে ৭০ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে সুুমনা ও বাউল শিল্পীকে ছেড়ে নিয়ে সুমীকে ১৫ পিস ইয়াবার মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেপ্তার বাণিজ্য শুরু করেছে। নিরিহ নিরপরাধ লোকদের গ্রেপ্তার করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ৩৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করে। গত কয়েকমাস ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পুলিশ আইনের ৩৪ ধারা বাণিজ্য জমজমাট হয়ে উঠে। বিষেশ করে মোহাম্মদ এমদাদুল হক ওসি হিসেবে যোগদান করার পর থেকেই ৩৪ ধারা বাণিজ্য বেড়ে গেছে। 

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। আবার তাদের ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠালেও মাদক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন অপরাধীদের সাথে তাদের গ্রুপ ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে পুলিশ। ফলে আরাধী না হয়েও ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো নিরপরাধ লোকগুলোর ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে। এ নিয়েও দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ। অপরাধি হিসেবে নিরপরাধ লোকদের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। 

জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, সোর্সের কথায় পুলিশ চলে এমন কথা ভিত্তিহীন। তবে কোন সোর্স যদি অপরাধের সাথে জড়িত থাকে প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর ৩৪ ধারাও একটি অপরাধ। তাই তাদের ছবি দেওয়া হয়।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত