ফতুল্লা স্টেডিয়ামের সামনে ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে ডিসি অফিস ঘেরাও
দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘব এবং সড়কে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা স্টেডিয়াম সংলগ্ন প্রধান সড়কে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে 'জাতীয় ছাত্রশক্তি', নারায়ণগঞ্জ শাখা ও স্থানীয় এলাকাবাসীর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে ছাত্রশক্তির শতাধিক নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা সমবেত হন। ‘নিরাপদ সড়ক চাই, ফুটওভার ব্রিজ চাই’ এবং ‘ব্রিজ লাগবে, ব্রিজ দে; নিরাপদে বাঁচতে দে’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আন্দোলনকারীরা জানান, ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। গত ২৬ মার্চ ও ২১ এপ্রিল—এই দুদিনে সড়কে দুজন পথচারী নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেলা ২টার পর ছাত্রশক্তির একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে।
এ সময় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মাহফুজ খান বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে আমরা স্মারকলিপি দিচ্ছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এখানে প্রায় ২০ জনের মতো প্রাণহানি হয়েছে। আমরা কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ চাই না, কিন্তু জীবনের নিরাপত্তা চাই। দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি, যতক্ষণ ব্রিজ তৈরি না হয়, ততক্ষণ ওই পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন ও সড়কের লাইটগুলো সংস্কার করতে হবে।"
জেলা প্রশাসক আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি অনুমোদিতm হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার নিয়োগ এবং বাজেট বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগছে। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে বরাদ্দ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।ডিসি বলেন চুরির জায়গা গুলোতে সিসি টিভি ক্যামেরা বসানো হবে।
অন্যদিকে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) প্রতিনিধি জানান, একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরুর আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ওই এলাকায় জেব্রা ক্রসিং অঙ্কন ও ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া সড়কে বাতির চুরির সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আগামী এক মাসের মধ্যে লাইটগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
তবে প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
আপনার মতামত লিখুন