আড়াইহাজারে সুমনের ছত্রছায়ায় নিরাপদে আমেরিকা পৌছায় সাবেক এমপি বাবু!
নারায়ণগঞ্জ- ২ (আড়াইহাজার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর দেশত্যাগকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান সুমনের সঙ্গে নজরুল ইসলাম বাবুর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়েই উঠছে নানা প্রশ্ন। খোদ বিএনপি দলীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের পর সুমনের বাসায় আশ্রয় নেন স্বৈরাচারের দোসর ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু। এমনকি তাকে নিরাপদে দেশ ছাড়া অবদি সর্ব সহযোগিতা করেন বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান সুমন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে অরাজকতা করতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন যে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে তার জন্য দায়ী খোদ বিএনপির একটি অংশ। বিশেষ করে, আড়াইহাজারে নিষিদ্ধ সংগঠনটির ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয় ওই অঞ্চলের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের সক্রিয়তায়। তবে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান সুমন যদি সাবেক এমপি বাবুকে দেশত্যাগে সাহায্য না করতো তাহলে এখন উপজেলায় অরাজকতা করার সাহস পেতো না এরা; এমনটাই বলছেন খোদ বিএনপি নেতাকর্মীরা। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে একটি অভিযোগ ও প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে; আর তা হলো- ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নজরুল ইসলাম বাবু দেশত্যাগের সময় তাকে ঠিক কি কারণে দেশত্যাগে সহযোগিতা করেছিলেন মাহমুদুর রহমান সুমন? বিষয়টি রাজনৈতিকাঙ্গনে চলছে ব্যপক আলোচনা।
এ বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান সুমনকে মুঠোফোন করা হলে খবর নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, এসব মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই না। যারা আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তোলে- আপনার মাধ্যমে আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ঠিক কি প্রমাণ বা তথ্যের ভিত্তিতে তারা এসব নোংরা অপপ্রচার আমার নামে করে?
তিনি আরও বলেন, আমি একটা কথা বলতে চাই যে, একটি অংশ আমার নামে অযথা মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
যদি তাই হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আপনি কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেনো বা সেই অংশটি কারা? এমন প্রশ্নের সদ্যুত্তর দিতে পারেননি বিএনপি নেতা সুমন!
এদিকে, নজরুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে সুমনের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে অতীতেও সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের দাবি ও পাল্টা দাবি প্রকাশিত হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে তাদের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার অভিযোগ তোলা হয়েছিল; অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্যও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, ২০২৩ সালের একটি টেলিভিশন টকশোতে তৎকালীন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু ও বিএনপির নেতা মাহমুদুর রহমান সুমন একসঙ্গে আড়াইহাজারের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনে বাবুকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, সুমনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি এবং তিনি বিএনপির একজন সাহসী প্রার্থী।
অন্যদিকে, আড়াইহাজার উপজেলায় মাহমুদুর রহমান সুমন ছাড়াও বিএনপির আরও অনেক নেতা রয়েছেন; যাদের কারও বিরুদ্ধে সাবেক এমপি বাবুকে দেশত্যাগে সহযোগীতা করার মতো গুরুত্বর অভিযোগ উঠেনি! তাহলে কেনো সাবেক এমপি বাবুর পলায়নের প্রসঙ্গে শুধু বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান সুমনের নাম ঘুরে ফিরে উঠে আসে?
আপনার মতামত লিখুন