ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ বাসভাড়া: ৪ ঘণ্টার বৈঠকও ব্যর্থ, ক্ষোভ প্রকাশ ইউএনও’র
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নতুন বাসভাড়া নির্ধারণ নিয়ে ছাত্র প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও বাস মালিক-চালকদের সমন্বয়ে আয়োজিত টানা ৪ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়াই ব্যর্থ হয়েছে।
গতকাল ৩০ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা অডোটিরিয়ামে (বুধবার) বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও নতুন ভাড়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
বৈঠকে নাগরিক কমিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের রাফিউর রাব্বি এবং ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ চৌধুরী। এছাড়াও জেলা গণসংহতি আন্দোলনের আহ্বায়ক তরিকুল সুজন, ফারহানা মুনা, খেলাফত মজলিসের মহানগর সেক্রেটারি মুফতি শেখ শাব্বীর, এনসিপি নেতা শওকত আলী এবং 'উৎসব' ও 'বন্ধন' পরিবহন মালিক ও ড্রাইভার নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্র প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।
সভায় ভাড়া কমানো এবং যৌক্তিক হার নির্ধারণের বিষয়ে ছাত্র প্রতিনিধি ও বাস মালিকদের মধ্যকার বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে দীর্ঘ চার ঘণ্টার আলোচনায় কোনো সমঝোতা তৈরি হয়নি। বারবার চেষ্টা করেও দুই পক্ষকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে আনা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ সময ধরে আলোচনার কোনো সমাধান না আসায় একপর্যায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সভাপতি ও সদর ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন। তিনি মেজাজ হারিয়ে বলেন, "আমাদের সময়ের মূল্য আছে। এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো হতাশাজনক।"
বৈঠকটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়া শেষ হওয়ায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের বাসভাড়া নিয়ে যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বহাল রয়েছে। নতুন করে আবার কবে বৈঠক হবে—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। তবে ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে নতুন কর্মসূচি আসবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন