ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে সোনারগাঁয়ের বৈধ অবৈধ সকল সেক্টর যাদের নিয়ন্ত্রণে!



বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে সোনারগাঁয়ের বৈধ অবৈধ সকল সেক্টর যাদের নিয়ন্ত্রণে!

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সোনারগাঁও উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাধীন বিভিন্ন বৈধ ও অবৈধ সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছেন বিএনপির বেশকটি সিন্ডিকেট। এসব সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করে একেকজন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর এসব সেক্টর নিয়ন্ত্রণে নেন তারা। কিন্তু বিএনপির এসব শীর্ষ নেতারা আঙ্গুল ফুলে একেকজন গলাগাছ হলেও মাঠ পর্যায়ের রাজপথের নেতাকর্মীদের কোনো সুযোগ সুবিধা দিতে নারাজ।

স্থানীয়রা জানান, সোনারগাঁও উপজেলার সবচেয়ে বেশি আয়ের উৎসের জায়গা হলো কাঁচপুর বিসিক এলাকা সহ এর আশপাশের এলাকা এবং পিরোজপুর ইউনিয়নের পুরো এলাকা। যেখানে দৈনিক কোটি কোটি টাকার বৈধ অবৈধ ব্যবসা বানিজ্য হয়। পুরো কাঁচপুরের অন্যতম নিয়ন্ত্রক উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী সেলিম হক রুমী। বিসিকের ঝুট ব্যবসা থেকে শুরু করে ফুটপাতের চাঁদাবাজি ও পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করে সেলিম হক ‍রুমী ইতিমধ্যে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে আছেন কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোমেন খান। কাঁচপুরের সকল ইট বালু সিমেন্ট ও পাথর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ সহ চাঁদাবাজিতে আছে এই সিন্ডিকেট। দখলবাজি ও চাঁদাবাজিতে আছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালাউদ্দীন সালুও।

সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্থা ও এর আশপাশের এলাকার ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যিনি জাতীয়পার্টিতে যোগদান করেছিলেন সেই আতাউর রহমান। ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজির দায়ে তাকে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তারও করেছিল। তার ভাতিজারা নিয়ন্ত্রণে আছে মাদক ব্যবস্থা। পরিবহন ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে আছেন আতাউর রহমানের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু। পৌরসভার সকল ইট বালু সিমেন্ট ও পাথর ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এখন পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মিয়ার হাতে। টিপুরদি চৈতি কম্পোজিটসহ মোগরাপাড়ার উত্তর পাশের মিল কারখানাগুলোর নিয়ন্ত্রণে আছে জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ মিঠু ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোতালেব মিয়া। মোতালেব মিয়ার ভাগিনাদের নিয়ন্ত্রণে আছে মাদকের ব্যবসা।

পিরোজপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ চুনা কারখানার নিয়ন্ত্রণ বিএনপির বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ ও তার ভাই আব্দুল জলিল। এ ছাড়াও ড্রেজার ও বালুর ব্যবসাও আছে তাদের নিয়ন্ত্রণে। সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকার ড্রেজার, বালু ব্যবসা, জমির ব্যবস্থা সহ সকল সেক্টর নিয়ন্ত্রণে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাফির উদ্দীন মজনু ও তার ভাই মোহনের হাতে। নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ড্রেজার ব্যবসা ও মিল কলকারখানার ঝুট ও কাছরার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এখন নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের হাতে। পৌরসভা ও বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের বালুর ব্যবসা, ড্রেজার ব্যবসা, জমির ব্যবসার নিয়ন্ত্রক বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল আল মামুনের হাতে।

জামপুর ইউনিয়নের জমির ব্যবসা, ড্রেজার ব্যবসাসহ বিভিন্ন মিল কারখানার সকল নিয়ন্ত্রক আওয়ামীলীগ নেতা গোলজার হোসেন প্রধানের হাতে। বারদী ইউনিয়নের বারদী বাজার ও আশ্রমের সকল সেক্টর নিয়ন্ত্রণে যুবদল নেতা আব্দুল আলী ও তার ভাই করিম রহমান। ৫ আগস্টের পর শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন আব্দুল আলী। পৌরসভায় মাদকের ব্যবসার নিয়ন্ত্রক এখন পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল হক সেন্টু। তার সহযোগী মাদক ব্যবসায়ী মাদক সহ গ্রেপ্তার হয়েছে লুঙ্গি মিজান। সাদিপুর ইউনিয়নের ড্রেজার ব্যবসা ও জমির ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ যুবদল নেতা মোহাম্মদ কাউসার।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে সোনারগাঁয়ের বৈধ অবৈধ সকল সেক্টর যাদের নিয়ন্ত্রণে!

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সোনারগাঁও উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাধীন বিভিন্ন বৈধ ও অবৈধ সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছেন বিএনপির বেশকটি সিন্ডিকেট। এসব সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করে একেকজন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর এসব সেক্টর নিয়ন্ত্রণে নেন তারা। কিন্তু বিএনপির এসব শীর্ষ নেতারা আঙ্গুল ফুলে একেকজন গলাগাছ হলেও মাঠ পর্যায়ের রাজপথের নেতাকর্মীদের কোনো সুযোগ সুবিধা দিতে নারাজ।


স্থানীয়রা জানান, সোনারগাঁও উপজেলার সবচেয়ে বেশি আয়ের উৎসের জায়গা হলো কাঁচপুর বিসিক এলাকা সহ এর আশপাশের এলাকা এবং পিরোজপুর ইউনিয়নের পুরো এলাকা। যেখানে দৈনিক কোটি কোটি টাকার বৈধ অবৈধ ব্যবসা বানিজ্য হয়। পুরো কাঁচপুরের অন্যতম নিয়ন্ত্রক উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী সেলিম হক রুমী। বিসিকের ঝুট ব্যবসা থেকে শুরু করে ফুটপাতের চাঁদাবাজি ও পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করে সেলিম হক ‍রুমী ইতিমধ্যে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে আছেন কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোমেন খান। কাঁচপুরের সকল ইট বালু সিমেন্ট ও পাথর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ সহ চাঁদাবাজিতে আছে এই সিন্ডিকেট। দখলবাজি ও চাঁদাবাজিতে আছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালাউদ্দীন সালুও।


সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্থা ও এর আশপাশের এলাকার ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যিনি জাতীয়পার্টিতে যোগদান করেছিলেন সেই আতাউর রহমান। ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজির দায়ে তাকে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তারও করেছিল। তার ভাতিজারা নিয়ন্ত্রণে আছে মাদক ব্যবস্থা। পরিবহন ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে আছেন আতাউর রহমানের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু। পৌরসভার সকল ইট বালু সিমেন্ট ও পাথর ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এখন পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মিয়ার হাতে। টিপুরদি চৈতি কম্পোজিটসহ মোগরাপাড়ার উত্তর পাশের মিল কারখানাগুলোর নিয়ন্ত্রণে আছে জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ মিঠু ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোতালেব মিয়া। মোতালেব মিয়ার ভাগিনাদের নিয়ন্ত্রণে আছে মাদকের ব্যবসা।


পিরোজপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ চুনা কারখানার নিয়ন্ত্রণ বিএনপির বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ ও তার ভাই আব্দুল জলিল। এ ছাড়াও ড্রেজার ও বালুর ব্যবসাও আছে তাদের নিয়ন্ত্রণে। সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকার ড্রেজার, বালু ব্যবসা, জমির ব্যবস্থা সহ সকল সেক্টর নিয়ন্ত্রণে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাফির উদ্দীন মজনু ও তার ভাই মোহনের হাতে। নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ড্রেজার ব্যবসা ও মিল কলকারখানার ঝুট ও কাছরার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এখন নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের হাতে। পৌরসভা ও বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের বালুর ব্যবসা, ড্রেজার ব্যবসা, জমির ব্যবসার নিয়ন্ত্রক বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল আল মামুনের হাতে।


জামপুর ইউনিয়নের জমির ব্যবসা, ড্রেজার ব্যবসাসহ বিভিন্ন মিল কারখানার সকল নিয়ন্ত্রক আওয়ামীলীগ নেতা গোলজার হোসেন প্রধানের হাতে। বারদী ইউনিয়নের বারদী বাজার ও আশ্রমের সকল সেক্টর নিয়ন্ত্রণে যুবদল নেতা আব্দুল আলী ও তার ভাই করিম রহমান। ৫ আগস্টের পর শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন আব্দুল আলী। পৌরসভায় মাদকের ব্যবসার নিয়ন্ত্রক এখন পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল হক সেন্টু। তার সহযোগী মাদক ব্যবসায়ী মাদক সহ গ্রেপ্তার হয়েছে লুঙ্গি মিজান। সাদিপুর ইউনিয়নের ড্রেজার ব্যবসা ও জমির ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ যুবদল নেতা মোহাম্মদ কাউসার।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত