সিদ্ধিরগঞ্জে হুমকির মুখে নিহত সজীবের পরিবার জিডি করেও মেলেনি পুলিশি সহায়তা
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পরিবহন শ্রমিক সজীব (৩২) হত্যা মামলার আসামিদের স্বজন ও মাদক চক্রের অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নিহতের পরিবার।
এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেও প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা মিলছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ফলে নিহত সজীবের মা, স্ত্রী ও সন্তানসহ পুরো পরিবার এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার( ৮ অক্টোবর) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ অভিযোগ করেন নিহত সজীবের মা ও মামলার বাদী শিরিনা আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে শিরিনা আক্তার বলেন, ঘটনার চার দিন পর র্যাব সদস্যরা মামলার প্রধান আসামি মাইকেল (৪৫) ও তার ছেলে মো. আপনকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশে হস্তান্তর করে। কিন্তু গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর ৪০ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ আসামি মাইকেল ও তার ছেলের কাছ থেকে কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়নি।
এতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া এজাহারভুক্ত অন্য আসামিসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আট থেকে ১০ জন এখনো অধরা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন পলাতক আসামিরা এবং গ্রেপ্তারকৃতদের স্বজনরা মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছে। মামলা না তুললে তাকে ও তার ছোট ছেলে সজলসহ পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একাধিকবার জানানো ও জিডি করা সত্ত্বেও পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, উল্টো আসামিদের হুমকির মাত্রা আরও বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এবং ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আকুল আবেদন জানান নিহত সজীবের মা। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী, একমাত্র স্কুলপড়ুয়া সন্তান ও বোন উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে আসামিরা অধরা থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাদের দাবি, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় এলাকায় আগের মতোই মাদক ব্যবসা চলাচ্ছে। অবিলম্বে সজীবের খুনিদের গ্রেপ্তার ও এলাকা মাদকমুক্ত করার দাবি জানান তারা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানাযায়,গত ২৪ আগস্ট রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ধনকুন্ডা ক্যানেলপাড় এলাকায় নিজ বাসায় ফেরার পথে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় মো. সজীবকে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে মাইকেল, আপন, তাহসিন, নুরুজ্জামান, আকাশ ও ইমনসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-৬২) দায়ের করেন।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হুমকির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত শেষে দ্রুতই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন