মাহমুদনগরে সমাজসেবকের মুখোশে মদের আসর!
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মাহমুদনগর এলাকায় সমাজসেবার আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ ও রমরমা মাদক ব্যবসার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী প্রবীণ ব্যক্তির নেতৃত্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি সচেতন মহলের।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর মাহমুদনগর কলাবাগান এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে তাসের আসর বসিয়ে মদের বোতল সামনে নিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মিন্টু মিয়া। তিনি ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মাহমুদনগর কলাবাগান এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে তিনি সমাজসেবকের মুখোশ পরে ঘুরে বেড়ান, কিন্তু রাতের আঁধারে বা আড়ালে তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপের আসর বসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিন্টু মিয়ার নাতি বিল্লাল এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।
স্থানীয় ‘কুরাইল্লা বাড়ির’ শেল্টারে বিল্লাল দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। স্থানীয় এলাকাবাসী মাদক ব্যবসার বিষয়টি জানলেও প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে সরাসরি মুখ খুলতে সাহস পান না।
বাসিন্দাদের দাবি, পুরো মাদক কারবারের নেপথ্যে প্রধান অভিভাবক ও আশ্রয়দাতা হিসেবে ভূমিকা রাখছেন দাদা মিন্টু মিয়া।
জানা যায়, মাহমুদনগর এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য স্থানীয় সচেতন মহল দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি মাদক ব্যবসা বন্ধ করা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মামুনের সঙ্গে অভিযুক্ত মিন্টু মিয়ার তীব্র বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। তবে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা বাধা দিতে গেলে মিন্টু মিয়া ও তার নাতি বিল্লাল বিভিন্ন কৌশল ও প্রভাব খাটিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকায় দিন দিন মাদকের প্রাদুর্ভাব ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও তরুণ সমাজ। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মিন্টু মিয়া ও তার নাতি বিল্লালসহ সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন মাহমুদনগর বাসী।
আপনার মতামত লিখুন