আড়াইহাজারে স্বপ্ন সুপার শপের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও চাকরিচ্যুতির অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত স্বপ্ন সুপার শপের এক সাবেক নারী কর্মী প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, কর্মস্থলে মানসিক নির্যাতন, অতিরিক্ত কাজ করানো, বেতন কর্তন এবং অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ তুলেছেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট আড়াইহাজার শাখায় চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর নতুন শোরুম চালুর কাজে অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, চাকরিতে যোগদানের কিছুদিন পর থেকেই ম্যানেজার তাকে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক প্রস্তাব দিতে শুরু করেন। তিনি এসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে তার দায়িত্বের বাইরে বাথরুম পরিষ্কার, শোরুমের ফ্লোর মোছা ও বাইরের রাস্তা ঝাড়ু দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজ করানো হতো।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগের এক কর্মকর্তাকে জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নিয়মিত কাজ করার পরও তাকে অনেক দিন অনুপস্থিত (Absent) দেখিয়ে বেতন থেকে অর্থ কেটে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পরও তাকে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য করা হতো। ছুটির দিনেও দীর্ঘ সময় ডিউটি শেষে নির্ধারিত সময়ে ছুটি না দিয়ে অতিরিক্ত কাজ দেওয়া হতো।
অভিযোগে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ৪ মার্চ কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ সময় তার মানসিক সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করা হয়, যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন। চাকরি ছাড়ার পর প্রথম মাসের বেতন থেকে আটকে রাখা ১০ দিনের বেতনও তাকে পরিশোধ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, তার পরিবর্তে নতুন এক নারী কর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ওই নিয়োগে অনিয়ম ছিল। একই সঙ্গে শোরুমের সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে ম্যানেজার ও ওই কর্মীর অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিজের চোখে দেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
সর্বশেষ তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কেনাকাটার উদ্দেশ্যে শোরুমে গেলে ম্যানেজার তাকে কেনাকাটা না করলে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না বলে জানিয়ে অপমানজনক আচরণ করেন এবং শোরুম থেকে বের করে দেন।
বারংবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত ম্যানেজার নুরুজ্জামানের বক্তব্য আমরা নিতে পারিনি।
এই ঘটনায় এলাকার মধ্যে অনেক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। জনগণের দাবি ঘটনার সুস্থ তদন্ত করে নারীদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত কল্পে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। আর যদি এই নারীর দাবি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
আপনার মতামত লিখুন