ঢাকা   শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

গলাচিপায় বৃদ্ধ দম্পতিকে জিম্মি করে ৪৬ লাখ টাকার জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ


মোঃ রানা
মোঃ রানা
| ফটো কার্ড

গলাচিপায় বৃদ্ধ দম্পতিকে জিম্মি করে ৪৬ লাখ টাকার জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
অভিযুক্ত সজল বিশ্বাস

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বিশ্বাস ও সরলতার সুযোগ নিয়ে এক বৃদ্ধ হিন্দু দম্পতিকে জিম্মি করে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা মূল্যের জমি জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সজল বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দম্পতি হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা বিচিত্র ভূঁইয়া এবং তার স্ত্রী মিলা রানী। তাদের সন্তানরা ভারতে বসবাস করায় এই বৃদ্ধ দম্পতি বাড়িতে একাই থাকতেন।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বিচিত্র ভূঁইয়ার পৈত্রিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি মামলা চলছিল। চলতি বছরের গত ১৮ মার্চ (১৮.০৩.২০২৬) আদালত মামলার রায় বিচিত্র ভূঁইয়ার পক্ষে দেন। মামলা জেতার পর জমির রেকর্ড সংশোধন এবং দাখিলা (জমির কর) দেওয়ার জন্য সরল বিশ্বাসে তারা একই এলাকার সজল বিশ্বাসের সাহায্য নেন। সজল বিশ্বাস ওই এলাকার ক্ষীতির চন্দ্র বিশ্বাস ও তারা রানীর ছেলে।

অভিযোগ রয়েছে, জমির কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সজল বিশ্বাস তার নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে বৃদ্ধ বিচিত্র ভূঁইয়াকে জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দলিলে স্বাক্ষর ও টিপসই নেন। পরবর্তীতে গত ৭ মে (০৭.০৫.২০২৬) বৃহস্পতিবার গলাচিপা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে গিয়ে বৃদ্ধ দম্পতিকে দলিল দিয়ে আসতে বাধ্য করা হয়। এর মাধ্যমে তাদের মোট ১ একর ৩৮ শতাংশ জমি নিজের নামে লিখে নেন সজল বিশ্বাস।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১ একর ৩৮ শতাংশ (মোট ৪৬ করা) জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪৬ লক্ষ টাকা। কিন্তু সজল বিশ্বাস ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোরপূর্বক মাত্র ৭ লক্ষ টাকা ধরিয়ে দেন, যা প্রতি করা জমির মূল্য দাঁড়ায় মাত্র ১৫ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, জমি লিখে নেওয়ার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে জোরপূর্বক ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত সজল বিশ্বাসের (সজল মাস্টার) মূল বাড়ি বরিশাল জেলার গৌরনদীতে। তিনি মূলত গলাচিপায় তার নানার বাড়িতে বসবাস করেন। নানার কোনো ওয়ারিশ না থাকায় এবং তার মা একমাত্র মেয়ে হওয়ায় তিনি এখানে স্থায়ী হন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সজল বিশ্বাস এলাকায় একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও খারাপ প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত। নানার বাড়িতে বড় হয়ে তিনি আশেপাশের সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। এমনকি নানার জমি দেখিয়ে এলাকার মানুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং বাড়ির ওপর দিয়ে কাউকে যাতায়াত করতে দিচ্ছেন না।

এই জঘন্য ও প্রতারণামূলক ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী বিচিত্র ভূঁইয়ার পরিবার এবং এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সজল বিশ্বাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং জোরপূর্বক লিখে নেওয়া জমি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


গলাচিপায় বৃদ্ধ দম্পতিকে জিম্মি করে ৪৬ লাখ টাকার জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বিশ্বাস ও সরলতার সুযোগ নিয়ে এক বৃদ্ধ হিন্দু দম্পতিকে জিম্মি করে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা মূল্যের জমি জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সজল বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দম্পতি হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা বিচিত্র ভূঁইয়া এবং তার স্ত্রী মিলা রানী। তাদের সন্তানরা ভারতে বসবাস করায় এই বৃদ্ধ দম্পতি বাড়িতে একাই থাকতেন।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বিচিত্র ভূঁইয়ার পৈত্রিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি মামলা চলছিল। চলতি বছরের গত ১৮ মার্চ (১৮.০৩.২০২৬) আদালত মামলার রায় বিচিত্র ভূঁইয়ার পক্ষে দেন। মামলা জেতার পর জমির রেকর্ড সংশোধন এবং দাখিলা (জমির কর) দেওয়ার জন্য সরল বিশ্বাসে তারা একই এলাকার সজল বিশ্বাসের সাহায্য নেন। সজল বিশ্বাস ওই এলাকার ক্ষীতির চন্দ্র বিশ্বাস ও তারা রানীর ছেলে।

অভিযোগ রয়েছে, জমির কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সজল বিশ্বাস তার নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে বৃদ্ধ বিচিত্র ভূঁইয়াকে জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দলিলে স্বাক্ষর ও টিপসই নেন। পরবর্তীতে গত ৭ মে (০৭.০৫.২০২৬) বৃহস্পতিবার গলাচিপা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে গিয়ে বৃদ্ধ দম্পতিকে দলিল দিয়ে আসতে বাধ্য করা হয়। এর মাধ্যমে তাদের মোট ১ একর ৩৮ শতাংশ জমি নিজের নামে লিখে নেন সজল বিশ্বাস।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১ একর ৩৮ শতাংশ (মোট ৪৬ করা) জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪৬ লক্ষ টাকা। কিন্তু সজল বিশ্বাস ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোরপূর্বক মাত্র ৭ লক্ষ টাকা ধরিয়ে দেন, যা প্রতি করা জমির মূল্য দাঁড়ায় মাত্র ১৫ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, জমি লিখে নেওয়ার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে জোরপূর্বক ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত সজল বিশ্বাসের (সজল মাস্টার) মূল বাড়ি বরিশাল জেলার গৌরনদীতে। তিনি মূলত গলাচিপায় তার নানার বাড়িতে বসবাস করেন। নানার কোনো ওয়ারিশ না থাকায় এবং তার মা একমাত্র মেয়ে হওয়ায় তিনি এখানে স্থায়ী হন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সজল বিশ্বাস এলাকায় একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও খারাপ প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত। নানার বাড়িতে বড় হয়ে তিনি আশেপাশের সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। এমনকি নানার জমি দেখিয়ে এলাকার মানুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং বাড়ির ওপর দিয়ে কাউকে যাতায়াত করতে দিচ্ছেন না।

এই জঘন্য ও প্রতারণামূলক ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী বিচিত্র ভূঁইয়ার পরিবার এবং এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সজল বিশ্বাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং জোরপূর্বক লিখে নেওয়া জমি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত