নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: বাউফলের একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে দগ্ধ হয়ে পটুয়াখালীর বাউফলের একই পরিবারের পাঁচজন সদস্যেরই করুণ মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শুক্রবার (১৫ মে) সকালে গৃহবধূ সায়মা বেগমের (৩২) মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পুরো পরিবারটির শেষ চিহ্নটুকুও মুছে গেল।
নিহতদের সবার বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামে।
বাড়িওয়ালার অবহেলা ও সেই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চরম অভাব-অনটনের কারণে পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন দিনমজুর আবুল কালাম (৫০)। দুর্ঘটনার দুইদিন আগে ঘরের গ্যাসের পাইপে লিকেজ টের পেয়ে তারা বাড়ির মালিককে জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ির মালিক এতে কোনো কর্ণপাত করেননি।
গত রোববার (১০ মে) সকালে আবুল কালাম দেশলাই জ্বালানোর সাথে সাথেই পুরো ঘরে গ্যাস সিলিন্ডারের জমে থাকা গ্যাসে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে দগ্ধ হন আবুল কালাম, তাঁর স্ত্রী সায়মা বেগম এবং তাঁদের তিন সন্তান—মুন্নি (১০), মুন্না (৮) ও কথা (৭)।
একে একে নিভে গেল পাঁচটি প্রাণ
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় পাঁচজনকেই ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গত সোমবার (১১ মে) প্রথমে মারা যান পরিবারের কর্তা আবুল কালাম।
এরপর বুধবার (১৩ মে) ছোট মেয়ে কথা, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে ছেলে মুন্না এবং বিকেলে বড় মেয়ে মুন্নি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সর্বশেষ আজ শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে স্ত্রী সায়মা বেগমের মৃত্যুর মাধ্যমে একটি সাজানো পরিবার চিরতরে হারিয়ে গেল।
টাকার অভাবে আটকে ছিল লাশ, দাফন আগামীকাল
গত সোমবার আবুল কালামের লাশ তাঁর নিজ গ্রামে এনে দাফন করা হলেও, টাকার অভাবে বাকি চারজনের লাশ হাসপাতালের হিমাগারেই আটকে ছিল। পরবর্তীতে একটি স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের আর্থিক সহায়তায় লাশগুলো বাড়িতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আজ শুক্রবার রাতে অ্যাম্বুলেন্সযোগে লাশ নিয়ে স্বজনরা বাউফলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। আগামীকাল শনিবার (১৬ মে) সকালে লাশগুলো গ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সকাল ৮টায় উত্তর কনকদিয়া গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হবে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং বেদনাদায়ক। আমরা খোঁজখবর রাখছি এবং নিহতের গ্রামের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল সকালে চারজনের লাশ এলাকায় পৌঁছালে সকাল ৮টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।"
একই পরিবারের এমন অবর্ণনীয় মৃত্যুতে উত্তর কনকদিয়া গ্রামসহ পুরো বাউফল উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আপনার মতামত লিখুন