গোদাগাড়ী ভূমি অফিসের পিয়নের বিরুদ্ধে পুকুর ইজারা বাণিজ্যের অভিযোগ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক (পিয়ন) আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে খাস পুকুর ইজারায় ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু:
প্রভাব বিস্তার: অফিস সহায়ক পদে কর্মরত থেকেও আতিকুর রহমান খাস পুকুর লিজ সংক্রান্ত ফাইলের কাজে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করেন।
অর্থ লেনদেন: লিজ পাইয়ে দেওয়া, পুকুরের তালিকা পরিবর্তন ও জাবেদা নকলসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা দেওয়ার বিনিময়ে তিনি অর্থের দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রমাণপত্র: লিজযোগ্য নয় এমন পুকুর কম মূল্যে বন্দোবস্ত দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণের রসিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণ জমা দিয়েছেন অভিযোগকারী।
অতিরিক্ত ফি: লিজ চুক্তিনামা সম্পাদনের নামে দলিলপ্রতি অতিরিক্ত এক হাজার টাকা আদায়েরও অভিযোগ উঠেছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: অভিযুক্ত আতিকুর রহমান সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে এ বিষয়ে সশরীরে কথা বলার অনুরোধ জানান। গোদাগাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম জানান, “এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সিন্ডিকেট আতঙ্ক: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলমহাল ও খাস পুকুর ইজারাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইজারার সুবিধা নিচ্ছে।
অভিযোগকারী রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি এই অভিযোগের অনুলিপি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রাজশাহী জেলা কার্যালয়েও পাঠিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন