নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি দুই প্রতারককে গণধোলাই
নারায়ণগঞ্জ শহরের শাহ সুযা রোডের পাইকপাড়া এলাকায় একটি বেকারিতে প্রবেশ করে ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (০৭ মে) সন্ধ্যায় পাইকপাড়া বড় গোরস্থান সংলগ্ন ফুড কর্ণার বেকারিতে এ ঘটনা ঘটে।
আটক দুই ব্যক্তি হলেন আহম্মদ আলীসহ তার এক সহযোগী। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বেকারি কর্তৃপক্ষের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে আরও সাংবাদিক ও প্রশাসনের লোকজন এনে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুড কর্ণার বেকারির কর্ণধার জসিমের সঙ্গে ওই দুই ব্যক্তির কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হন। এ সময় বেকারি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেন, দুই ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন এবং টাকা দাবি করছেন।
এলাকাবাসী জানান, সন্দেহ হলে তারা দুই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। তখন তারা নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি পরিচিত পত্রিকার নাম উল্লেখ করলেও কোনো বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। পরে উপস্থিত জনতা তাদের আচরণে সন্দেহ প্রকাশ করে এবং প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক করে।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর করে বলে জানা গেছে। পরে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে পুলিশে সোপর্দ না করে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ফুড কর্ণার বেকারির কর্ণধার জসিম বলেন, “আমার বেকারি পাইকপাড়া বড় গোরস্থানের সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। দুই ব্যক্তি আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, আমার বেকারির খাবার খেয়ে এক শিশু অসুস্থ হয়েছে। আমি বিস্তারিত জানতে চাইলে তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। পরে তারা দেখা করতে চাইলে আমি দোকানে আসতে বলি।”
তিনি আরও বলেন, “দোকানে এসে তারা আমার ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। এক লাখ টাকা না দিলে আরও সাংবাদিক ও প্রশাসনের লোক এনে ব্যবসার ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেন। পরে আমরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা কোনো বৈধ আইডি দেখাতে পারেননি। তখন স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তাদের আটক করে।”
এছাড়া এ ধরনের অভিযোগে আহম্মদ আলীসহ বেশ কিছু প্রতারকের বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। তারপরও এই প্রতারক চক্র সরকারি কিছু দপ্তরে তাদের সাংবাদিক পরিচয় প্রভাব খাটান। এ ঘটনায় পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন