ঢাকা   বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

বিতর্কিত ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্রের কান্ডে গ্রাহক অতিষ্ঠ



বিতর্কিত ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্রের কান্ডে গ্রাহক অতিষ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বিতর্কিত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথকে পদায়নের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ এই অফিসে পদায়ন করায় এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

গত ৪ মার্চ বুধবার সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ করে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে আসেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পরিদর্শনের সময় একাধিক সেবা গ্রহীতারা নামজারী না পেয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। 

এসময় এক সেবা গ্রহিতার নামজারী সঠিক থাকায় তৎকালীন সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ও তার সহকারী নামজারী সঠিক যাচাই-বাছাই করে দিয়ে দেয়ার কথা জানান। 

পরে ওই ভূমি কর্মকর্তার বদলি হলে একদিন পরই সিদ্ধিরগঞ্জ গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিতর্কিত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথকে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পদায়ন করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 

এদিকে ওই সেবা গ্রহীতা দুলাল চন্দ্রের কাছে ওই নামজারী চাইলে তিনি নামজারীটি বাতিল করে দেন। পরে ওই সেবা গ্রহীতা আবারো নতুন করে নামজারির নাম্বার ফেলে উক্ত অফিস সহ স্থানীয় সাংবাদিকদের অবগত করেন। 

এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার দুই সাংবাদিক ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথকে প্রশ্ন করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তার নিজস্ব ভাড়া করা সিন্ডিকেট দিয়ে সাংবাদিকদের হুমকি ধামকি দেন। 

এসময় এক সাংবাদিক মোবাইলে ভিডিও ধারন করলে তার মোবাইল কেড়ে নেন দুলাল চন্দ্র। পরে দুলাল চন্দ্রর নির্দেশে সাংবাদিকদের উল্টো ভিডিও করেন এবং এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে টাকা দাবির মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালান অথচ ওই সাংবাদিক তার সাথে কোন কথাই বলেনি যা অত্র অফিসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাবে। 

এদিকে স্থানীয় সাংবাদিকসহ নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক তার বিষয় বলেন, যে কোন সাংবাদিক দুলাল চন্দ্রের বক্তব্য নিতে গেলে অযথাই তার পালিত সিন্ডিকেট দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করে পরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়ে হয়রানির চেষ্টা করেন। 

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, দুলাল চন্দ্র দেবনাথ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ বাণিজ্য, গ্রাহক হয়রানি এবং দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সঙ্গে জড়িত। তার নিজস্ব সিন্ডিকেট দিয়ে অফিসের কার্যকলাপ চালান।  তাদের দাবি, গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য আসা সাধারণ মানুষের কাছে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা, হয়রানি করা এবং কাজ বিলম্বিত করার মতো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্য, “আগে চোর ছিল, এখন ডাকাত আসছে।” এমন মন্তব্য করে তারা বলেন, বিতর্কিত এই কর্মকর্তাকে সিদ্ধিরগঞ্জে পদায়ন করায় সাধারণ মানুষ আরও ভোগান্তিতে পড়বে। 

অতীতে নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে সেখানকার বাসিন্দাদেরও ব্যাপক হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তার আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়লে এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিবাদের মুখে কর্তৃপক্ষ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন তদবিরের মাধ্যমে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি হয়ে আসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকেই তিনি ১২ থেকে ১৪ জনের একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জমির নামজারি, খতিয়ান সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজের জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ওই সিন্ডিকেট দিয়ে বিভিন্ন সাংবাদিক হুমকি ধামকি দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ান । 

শুধু তাই নয় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, এক নারীকে কুপ্রস্তাব দেয়ার। এ ঘটনায় ওই নারী নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য এলএ শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমি আক্তারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। শুধু ওই নারীই নয়, আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে রহস্যজনকভাবে এসব অভিযোগের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর। 

কদমতলী এলাকার বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন জানান, প্রায় এক বছর আগে তিনি নিজের ক্রয়কৃত চার শতাংশ জমির নামজারি করার জন্য গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। সেখানে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথ তাকে জানান যে, তার জমিটি অন্য একজনের নামে নামজারি হয়ে গেছে এবং সেটি সংশোধন করতে হলে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লাগবে। বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমি এত টাকা দিতে পারিনি। তাই আজও আমার জমির নামজারি করতে পারিনি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুলাল চন্দ্র দেবনাথ সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং ঘুষ না দিলে নানা অজুহাতে কাজ আটকে রাখেন। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এলাকাবাসীর দাবি করে বলেন,  দুলাল চন্দ্র দেবনাথ ঘুষ বাণিজ্য, গ্রাহক হয়রানি এবং দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। বিভিন্ন সময় এসব অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি,তার খুঁটির জোর কোথায়? 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, দুলাল চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে ঘুষ ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দুলাল চন্দ্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলেন ওই সাংবাদিককে। তিনি আরো বলেন, পূর্বে তার বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ থাকলে সেটিও পর্যালোচনা করা হবে। “কোনো ভূমি কর্মকর্তা যদি অপরাধ করে থাকেন, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি ভূমি অফিস আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


বিতর্কিত ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্রের কান্ডে গ্রাহক অতিষ্ঠ

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বিতর্কিত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথকে পদায়নের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ এই অফিসে পদায়ন করায় এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

গত ৪ মার্চ বুধবার সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ করে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে আসেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পরিদর্শনের সময় একাধিক সেবা গ্রহীতারা নামজারী না পেয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। 

এসময় এক সেবা গ্রহিতার নামজারী সঠিক থাকায় তৎকালীন সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ও তার সহকারী নামজারী সঠিক যাচাই-বাছাই করে দিয়ে দেয়ার কথা জানান। 

পরে ওই ভূমি কর্মকর্তার বদলি হলে একদিন পরই সিদ্ধিরগঞ্জ গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিতর্কিত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথকে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পদায়ন করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 

এদিকে ওই সেবা গ্রহীতা দুলাল চন্দ্রের কাছে ওই নামজারী চাইলে তিনি নামজারীটি বাতিল করে দেন। পরে ওই সেবা গ্রহীতা আবারো নতুন করে নামজারির নাম্বার ফেলে উক্ত অফিস সহ স্থানীয় সাংবাদিকদের অবগত করেন। 

এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার দুই সাংবাদিক ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথকে প্রশ্ন করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তার নিজস্ব ভাড়া করা সিন্ডিকেট দিয়ে সাংবাদিকদের হুমকি ধামকি দেন। 

এসময় এক সাংবাদিক মোবাইলে ভিডিও ধারন করলে তার মোবাইল কেড়ে নেন দুলাল চন্দ্র। পরে দুলাল চন্দ্রর নির্দেশে সাংবাদিকদের উল্টো ভিডিও করেন এবং এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে টাকা দাবির মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালান অথচ ওই সাংবাদিক তার সাথে কোন কথাই বলেনি যা অত্র অফিসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাবে। 

এদিকে স্থানীয় সাংবাদিকসহ নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক তার বিষয় বলেন, যে কোন সাংবাদিক দুলাল চন্দ্রের বক্তব্য নিতে গেলে অযথাই তার পালিত সিন্ডিকেট দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করে পরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়ে হয়রানির চেষ্টা করেন। 

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, দুলাল চন্দ্র দেবনাথ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ বাণিজ্য, গ্রাহক হয়রানি এবং দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সঙ্গে জড়িত। তার নিজস্ব সিন্ডিকেট দিয়ে অফিসের কার্যকলাপ চালান।  তাদের দাবি, গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য আসা সাধারণ মানুষের কাছে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা, হয়রানি করা এবং কাজ বিলম্বিত করার মতো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্য, “আগে চোর ছিল, এখন ডাকাত আসছে।” এমন মন্তব্য করে তারা বলেন, বিতর্কিত এই কর্মকর্তাকে সিদ্ধিরগঞ্জে পদায়ন করায় সাধারণ মানুষ আরও ভোগান্তিতে পড়বে। 

অতীতে নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে সেখানকার বাসিন্দাদেরও ব্যাপক হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তার আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়লে এলাকাবাসীর তীব্র প্রতিবাদের মুখে কর্তৃপক্ষ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন তদবিরের মাধ্যমে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি হয়ে আসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকেই তিনি ১২ থেকে ১৪ জনের একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জমির নামজারি, খতিয়ান সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজের জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ওই সিন্ডিকেট দিয়ে বিভিন্ন সাংবাদিক হুমকি ধামকি দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ান । 

শুধু তাই নয় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, এক নারীকে কুপ্রস্তাব দেয়ার। এ ঘটনায় ওই নারী নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য এলএ শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমি আক্তারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। শুধু ওই নারীই নয়, আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে রহস্যজনকভাবে এসব অভিযোগের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর। 

কদমতলী এলাকার বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন জানান, প্রায় এক বছর আগে তিনি নিজের ক্রয়কৃত চার শতাংশ জমির নামজারি করার জন্য গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। সেখানে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথ তাকে জানান যে, তার জমিটি অন্য একজনের নামে নামজারি হয়ে গেছে এবং সেটি সংশোধন করতে হলে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লাগবে। বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমি এত টাকা দিতে পারিনি। তাই আজও আমার জমির নামজারি করতে পারিনি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুলাল চন্দ্র দেবনাথ সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং ঘুষ না দিলে নানা অজুহাতে কাজ আটকে রাখেন। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এলাকাবাসীর দাবি করে বলেন,  দুলাল চন্দ্র দেবনাথ ঘুষ বাণিজ্য, গ্রাহক হয়রানি এবং দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। বিভিন্ন সময় এসব অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি,তার খুঁটির জোর কোথায়? 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, দুলাল চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে ঘুষ ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দুলাল চন্দ্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলেন ওই সাংবাদিককে। তিনি আরো বলেন, পূর্বে তার বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ থাকলে সেটিও পর্যালোচনা করা হবে। “কোনো ভূমি কর্মকর্তা যদি অপরাধ করে থাকেন, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি ভূমি অফিস আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ আল মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত