ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

আলীরটেকে বিএনপি নেতাদের লুটপাট: ৮ কোটি টাকার হিসাব নিয়ে তোলপাড়



আলীরটেকে বিএনপি নেতাদের লুটপাট: ৮ কোটি টাকার হিসাব নিয়ে তোলপাড়
আলীরটেকে বিএনপি নেতাদের লুটপাট

নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ জাকির হোসেনের নাম ভাঙিয়ে ও দলের পদ-পদবি ব্যবহার করে সরকারি সম্পত্তি এবং ইজারা বাণিজ্য থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান ও সহ-সভাপতি মাহবুব আলম জুলহাসের বিরুদ্ধে। তাদের ক্ষমতার দাপটে অতীষ্ঠ স্থানীয় এলাকাবাসী ও দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো ইজারা বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য: অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আব্দুর রহমান ও মাহবুব আলম জুলহাস ডিক্রীরচর খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে সরকারি আইন অমান্য করে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলা থেকে মাত্র ৮-৯ লাখ টাকায় খেয়াঘাট ইজারা নিলেও, পরবর্তীতে চক্রটি সেই ঘাটটি ইয়াসিন নামের এক ব্যক্তির কাছে ৯২ লাখ টাকায় দ্বিতীয়বার ইজারা দেয়। সরকারি আইন অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। নিয়মবহির্ভূত এই প্রক্রিয়ায় হাতিয়ে নেওয়া ৮২ লাখ টাকা আব্দুর রহমান, মাহবুব আলম জুলহাস ও আব্দুল ওয়াহাব সরকার গংদের পকেটে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

লুটপাটের অন্যান্য অভিযোগ: ১. পশুর হাট ও অর্থ আত্মসাৎ: গত বছর ডিক্রীরচর খেয়াঘাটের পশুর হাটের কালেকশনের দুটি বই সরিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। এছাড়া গরুর হাটের অংশীদারদের লভ্যাংশ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। ২. মাদ্রাসা ও সামাজিক উন্নয়নের নামে ভুয়া হিসাব: মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নের কথা বলে এই চক্রটি ৯টি মাদ্রাসায় বছরে ৩০ হাজার টাকা করে প্রদানের দাবি করলেও, বাস্তবে মাত্র ৩টি মাদ্রাসায় নামমাত্র টাকা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ৩. মাটি কাটার সিন্ডিকেট: খেয়াঘাট, সরকারি খাল ও আশেপাশের জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

নেতৃত্বের ব্যর্থতা ও দলীয় বিভেদ: অভিযোগ রয়েছে, আব্দুর রহমান ও জুলহাস নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকলেও দলীয় কর্মসূচি পালনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এমনকি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিও তারা পালন করতে পারেননি। এদের চাটুকারিতায় চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষীরা আজ তার কাছ থেকে দূরে সরে গেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এই দুই নেতার অপকর্মের দায়ভার শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যানকেই বহন করতে হবে।

জনগণের দাবি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ: সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, গত ১০ বছরে মসজিদ, মাদ্রাসা ও সামাজিক উন্নয়নের নামে ডিক্রীরচর খেয়াঘাট থেকে আয়কৃত প্রায় ৮ কোটি টাকার হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। স্থানীয়রা এই অনিয়মের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

দায়িত্বশীলদের বক্তব্য: অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলীরটেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান মুঠোফোনে জানান, ৯টি মাদ্রাসাকে বছরে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তবে কোন কোন মাদ্রাসায় এই টাকা দেওয়া হয়েছে, তার কোনো তালিকা তিনি প্রদান করতে পারেননি।

অন্যদিকে, মাহবুব আলম জুলহাসের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের প্রশ্রয়ে এই চক্রটি দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


আলীরটেকে বিএনপি নেতাদের লুটপাট: ৮ কোটি টাকার হিসাব নিয়ে তোলপাড়

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ জাকির হোসেনের নাম ভাঙিয়ে ও দলের পদ-পদবি ব্যবহার করে সরকারি সম্পত্তি এবং ইজারা বাণিজ্য থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান ও সহ-সভাপতি মাহবুব আলম জুলহাসের বিরুদ্ধে। তাদের ক্ষমতার দাপটে অতীষ্ঠ স্থানীয় এলাকাবাসী ও দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো ইজারা বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য: অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আব্দুর রহমান ও মাহবুব আলম জুলহাস ডিক্রীরচর খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে সরকারি আইন অমান্য করে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলা থেকে মাত্র ৮-৯ লাখ টাকায় খেয়াঘাট ইজারা নিলেও, পরবর্তীতে চক্রটি সেই ঘাটটি ইয়াসিন নামের এক ব্যক্তির কাছে ৯২ লাখ টাকায় দ্বিতীয়বার ইজারা দেয়। সরকারি আইন অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। নিয়মবহির্ভূত এই প্রক্রিয়ায় হাতিয়ে নেওয়া ৮২ লাখ টাকা আব্দুর রহমান, মাহবুব আলম জুলহাস ও আব্দুল ওয়াহাব সরকার গংদের পকেটে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

লুটপাটের অন্যান্য অভিযোগ: ১. পশুর হাট ও অর্থ আত্মসাৎ: গত বছর ডিক্রীরচর খেয়াঘাটের পশুর হাটের কালেকশনের দুটি বই সরিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। এছাড়া গরুর হাটের অংশীদারদের লভ্যাংশ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। ২. মাদ্রাসা ও সামাজিক উন্নয়নের নামে ভুয়া হিসাব: মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নের কথা বলে এই চক্রটি ৯টি মাদ্রাসায় বছরে ৩০ হাজার টাকা করে প্রদানের দাবি করলেও, বাস্তবে মাত্র ৩টি মাদ্রাসায় নামমাত্র টাকা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ৩. মাটি কাটার সিন্ডিকেট: খেয়াঘাট, সরকারি খাল ও আশেপাশের জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

নেতৃত্বের ব্যর্থতা ও দলীয় বিভেদ: অভিযোগ রয়েছে, আব্দুর রহমান ও জুলহাস নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকলেও দলীয় কর্মসূচি পালনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এমনকি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিও তারা পালন করতে পারেননি। এদের চাটুকারিতায় চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষীরা আজ তার কাছ থেকে দূরে সরে গেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এই দুই নেতার অপকর্মের দায়ভার শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যানকেই বহন করতে হবে।

জনগণের দাবি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ: সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, গত ১০ বছরে মসজিদ, মাদ্রাসা ও সামাজিক উন্নয়নের নামে ডিক্রীরচর খেয়াঘাট থেকে আয়কৃত প্রায় ৮ কোটি টাকার হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। স্থানীয়রা এই অনিয়মের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

দায়িত্বশীলদের বক্তব্য: অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলীরটেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান মুঠোফোনে জানান, ৯টি মাদ্রাসাকে বছরে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তবে কোন কোন মাদ্রাসায় এই টাকা দেওয়া হয়েছে, তার কোনো তালিকা তিনি প্রদান করতে পারেননি।

অন্যদিকে, মাহবুব আলম জুলহাসের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের প্রশ্রয়ে এই চক্রটি দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত