ঢাকা   সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

রূপগঞ্জে সৌদি প্রবাসী মাসুম হত্যা: আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ



রূপগঞ্জে সৌদি প্রবাসী মাসুম হত্যা: আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়নের টাওরা গ্রামের বাসিন্দা এবং সৌদি প্রবাসী মাসুম মিয়া (২৫) হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১ জুন সোমবার বিকেলে উপজেলার ভোলাবো-টাওরা সড়কে নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মানববন্ধনে সংহতি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

মানববন্ধন পূর্বক এক প্রতিবাদ সভায় নিহত মাসুমের পরিবার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন:

নারগিস আক্তার (নিহত মাসুমের মা ও সৌদি প্রবাসী)

খোশে আক্তার (নিহতের নানী)

রমজান হোসেন (নিহতের বন্ধু ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী)

আনোয়ার হোসেন আনু (ভোলাবো ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক)

আব্দুস সাত্তার (স্থানীয় যুবদল নেতা)

পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টাওরা পশ্চিমপাড়া এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে সৌদি প্রবাসী মাসুম মিয়াকে পাঁচদোনা থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পুলিশ কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি।

বক্তাদের অভিযোগ: "পুলিশের দাবিকৃত আর্থিক সুবিধা (ঘুষ) না দেওয়ায় এখনও মাসুম মিয়া হত্যা মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।"

মানববন্ধন শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি টাওরা গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আসামিদের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেয়।

যেভাবে ঘটেছিল প্রবাসীকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় মাসুম মিয়া ও তার বন্ধু রমজান হোসেন মোটরসাইকেলে করে পাঁচদোনা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে টাওরা মধ্যপাড়া কামরানের দোকানের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা প্রথমে বাঁশ দিয়ে তাদের আঘাত করে।

আঘাতের পর মাসুম মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়লে রাজু মিয়া ও তার সহযোগীরা তাকে উপুর্যপরি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।

এ সময় বন্ধু রমজান হোসেনকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুমকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয়।

অভিযোগ অস্বীকার রূপগঞ্জ থানা পুলিশের

এদিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আনীত আর্থিক সুবিধার (ঘুষ) অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন রূপগঞ্জ থানার অভিযুক্ত কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন।

তিনি জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য নয়। সৌদি প্রবাসী মাসুম মিয়া হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অত্যন্ত তৎপর রয়েছে এবং দ্রুতই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬


রূপগঞ্জে সৌদি প্রবাসী মাসুম হত্যা: আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়নের টাওরা গ্রামের বাসিন্দা এবং সৌদি প্রবাসী মাসুম মিয়া (২৫) হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১ জুন সোমবার বিকেলে উপজেলার ভোলাবো-টাওরা সড়কে নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মানববন্ধনে সংহতি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

মানববন্ধন পূর্বক এক প্রতিবাদ সভায় নিহত মাসুমের পরিবার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন:

নারগিস আক্তার (নিহত মাসুমের মা ও সৌদি প্রবাসী)

খোশে আক্তার (নিহতের নানী)

রমজান হোসেন (নিহতের বন্ধু ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী)

আনোয়ার হোসেন আনু (ভোলাবো ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক)

আব্দুস সাত্তার (স্থানীয় যুবদল নেতা)

পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টাওরা পশ্চিমপাড়া এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে সৌদি প্রবাসী মাসুম মিয়াকে পাঁচদোনা থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পুলিশ কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি।

বক্তাদের অভিযোগ: "পুলিশের দাবিকৃত আর্থিক সুবিধা (ঘুষ) না দেওয়ায় এখনও মাসুম মিয়া হত্যা মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।"

মানববন্ধন শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি টাওরা গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আসামিদের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেয়।

যেভাবে ঘটেছিল প্রবাসীকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় মাসুম মিয়া ও তার বন্ধু রমজান হোসেন মোটরসাইকেলে করে পাঁচদোনা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে টাওরা মধ্যপাড়া কামরানের দোকানের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা প্রথমে বাঁশ দিয়ে তাদের আঘাত করে।

আঘাতের পর মাসুম মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়লে রাজু মিয়া ও তার সহযোগীরা তাকে উপুর্যপরি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।

এ সময় বন্ধু রমজান হোসেনকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুমকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয়।

অভিযোগ অস্বীকার রূপগঞ্জ থানা পুলিশের

এদিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আনীত আর্থিক সুবিধার (ঘুষ) অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন রূপগঞ্জ থানার অভিযুক্ত কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন।

তিনি জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য নয়। সৌদি প্রবাসী মাসুম মিয়া হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অত্যন্ত তৎপর রয়েছে এবং দ্রুতই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত