ঢাকা   রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি ও ঝুঁট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি-আবদুল্লাহ আল আমিন এমপি



নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি ও ঝুঁট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি-আবদুল্লাহ আল আমিন এমপি

গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর নারায়ণগঞ্জে বাস-টেম্পু স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, ঝুঁট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত এবং মাদক ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন  । এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানুষ পরিবর্তন ও সাম্যের জন্য জীবন দিয়েছে, কোনো নতুন জালেমের জুলুম সহ্য করার জন্য নয়।

​বিএনপি ও ছাত্রদলের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের অপকর্মের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললেই একটি পক্ষের গায়ে লাগছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

​বিবৃতিতে নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রতিক একাধিক সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির ঘটনার তীব্র সমালোচনা করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলো হলো ফতুল্লায় গার্মেন্টস পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীতে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া রিয়াদ চৌধুরীকে এখনো অনেকে নেতা মেনে চলছেন।  ঝুঁট ব্যবসার দখলদারিত্বকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় মাদ্রাসার ১০ বছরের এক নিরীহ শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে।  চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাতদের রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পদে বসানো হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে উস্কানি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্রদলের সভাপতি একজন জুলাই যোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও, শেখ হাসিনাকে সমর্থনকারী ও গণআন্দোলনকে 'তাণ্ডব' আখ্যা দেওয়া ফ্যাসিস্ট দোসর হাতেমকে কলেজ থেকে বিতাড়িত করায়, দলের শীর্ষ নেতারা তাকে মাফ চাইতে বাধ্য করেছেন। ​"আওয়ামী লীগের মার্কা নৌকার অবৈধ নির্বাচনের চেয়ারম্যানদের নেতা মানতে যাদের লজ্জা হয় না, তাদের চাঁদাবাজ বা গুন্ডা বললে গা জ্বালাপোড়া করে। যদি এসব সত্য কথা শুনলে শরীর চুলকায়, তবে দয়া করে চুলকানির মলম ব্যবহার করুন এবং নিজেদের সংশোধন করুন।" ​বিবৃতিতে নিজের রাজনৈতিক অতীত ও ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওই নেতা বলেন, বর্তমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং ডিআইটি পীর মাওলানা আব্দুল আউয়ালের সাথে তিনি অতীতে একই সাথে জেল খেটেছেন।

তিনি বলেন, "নারায়ণগঞ্জ কোর্টে খোঁজ নিলে জানা যাবে শেখ হাসিনার আমলে আমার বিরুদ্ধে ১৭টি রাজনৈতিক মামলা ছিল। পুলিশ সুপার কার্যালয়ে রিমান্ডে নিয়ে পিটিয়ে আমার ডান হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, ১৫ দিন কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তবুও কোনোদিন ওসমানের চাটাচাটি করিনি বা হাসিনাকে পরোয়া করিনি।"

​তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে পড়াশোনা করে এখন টেম্পু স্ট্যান্ডের ১০ টাকার চাঁদাবাজির টাকা কিংবা ঝুঁট ব্যবসার অবৈধ আয়ে রাজনীতি করার কোনো প্রশ্নই আসে না। যেহেতু কোনো অন্যায় সুবিধা নেওয়া হয় না, তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে কারো তোয়াক্কা করার প্রয়োজন পড়ে না। ​বক্তব্যের শেষাংশে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আওয়ামী লীগ এবং ফ্যাসিস্ট শক্তির বাইরে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে তাদের ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। বিগত বছরগুলোতে যারা স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মাঠে ছিলেন, তাদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। ​তবে আন্দোলনের সুফল নস্যাৎ করে যারা অপকর্মে লিপ্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে কথা বলা এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন এই নেতা।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি ও ঝুঁট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি-আবদুল্লাহ আল আমিন এমপি

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর নারায়ণগঞ্জে বাস-টেম্পু স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, ঝুঁট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত এবং মাদক ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন  । এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানুষ পরিবর্তন ও সাম্যের জন্য জীবন দিয়েছে, কোনো নতুন জালেমের জুলুম সহ্য করার জন্য নয়।

​বিএনপি ও ছাত্রদলের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের অপকর্মের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললেই একটি পক্ষের গায়ে লাগছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

​বিবৃতিতে নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রতিক একাধিক সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির ঘটনার তীব্র সমালোচনা করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলো হলো ফতুল্লায় গার্মেন্টস পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীতে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া রিয়াদ চৌধুরীকে এখনো অনেকে নেতা মেনে চলছেন।  ঝুঁট ব্যবসার দখলদারিত্বকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় মাদ্রাসার ১০ বছরের এক নিরীহ শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে।  চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাতদের রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পদে বসানো হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে উস্কানি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্রদলের সভাপতি একজন জুলাই যোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও, শেখ হাসিনাকে সমর্থনকারী ও গণআন্দোলনকে 'তাণ্ডব' আখ্যা দেওয়া ফ্যাসিস্ট দোসর হাতেমকে কলেজ থেকে বিতাড়িত করায়, দলের শীর্ষ নেতারা তাকে মাফ চাইতে বাধ্য করেছেন। ​"আওয়ামী লীগের মার্কা নৌকার অবৈধ নির্বাচনের চেয়ারম্যানদের নেতা মানতে যাদের লজ্জা হয় না, তাদের চাঁদাবাজ বা গুন্ডা বললে গা জ্বালাপোড়া করে। যদি এসব সত্য কথা শুনলে শরীর চুলকায়, তবে দয়া করে চুলকানির মলম ব্যবহার করুন এবং নিজেদের সংশোধন করুন।" ​বিবৃতিতে নিজের রাজনৈতিক অতীত ও ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওই নেতা বলেন, বর্তমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং ডিআইটি পীর মাওলানা আব্দুল আউয়ালের সাথে তিনি অতীতে একই সাথে জেল খেটেছেন।

তিনি বলেন, "নারায়ণগঞ্জ কোর্টে খোঁজ নিলে জানা যাবে শেখ হাসিনার আমলে আমার বিরুদ্ধে ১৭টি রাজনৈতিক মামলা ছিল। পুলিশ সুপার কার্যালয়ে রিমান্ডে নিয়ে পিটিয়ে আমার ডান হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, ১৫ দিন কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তবুও কোনোদিন ওসমানের চাটাচাটি করিনি বা হাসিনাকে পরোয়া করিনি।"

​তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে পড়াশোনা করে এখন টেম্পু স্ট্যান্ডের ১০ টাকার চাঁদাবাজির টাকা কিংবা ঝুঁট ব্যবসার অবৈধ আয়ে রাজনীতি করার কোনো প্রশ্নই আসে না। যেহেতু কোনো অন্যায় সুবিধা নেওয়া হয় না, তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে কারো তোয়াক্কা করার প্রয়োজন পড়ে না। ​বক্তব্যের শেষাংশে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আওয়ামী লীগ এবং ফ্যাসিস্ট শক্তির বাইরে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে তাদের ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। বিগত বছরগুলোতে যারা স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মাঠে ছিলেন, তাদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। ​তবে আন্দোলনের সুফল নস্যাৎ করে যারা অপকর্মে লিপ্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে কথা বলা এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন এই নেতা।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত