২০নং ওয়ার্ড বিএনপিকে ধ্বংস করতে একজন মনির পাঠানই যথেষ্ট: ক্ষুব্ধ তৃণমূল
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির পাঠানের নানা বিতর্কিত ভূমিকা ও সুবিধাবাদী কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে। দলবিরোধী অপকর্ম ও নাম ভাঙিয়ে আধিপত্য বিস্তারের কারণে তার বিরুদ্ধে এ অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কর্মীদের একাংশের মতে, বিএনপির মতো বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে সামাজিকভাবে কলঙ্কিত ও সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এক মনির পাঠানই যথেষ্ট।
অনুসন্ধানে ও তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগে জানা যায়, বিগত ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেন মনির পাঠান। সে সময় তিনি প্রকাশ্যে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী (ফুটবল প্রতীক) মাকসুদ হোসেনের পোলিং এজেন্ট হয়ে দিন-রাত কাজ করেন।
রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড টেনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রবীণ কর্মী জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর বিদেশে অবস্থান শেষে দেশে ফিরে তিনি বিগত আওয়ামী লীগের সহযোগী রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। বন্দর উপজেলার তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানুর হাত ধরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সাথে ঘনিষ্ঠ আঁতাত রেখে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। পরবর্তীতে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের ঠিক আগ মুহূর্তে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াতের বলয়ে ভিড়ে ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন তিনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পদ পাওয়ার পর থেকেই মনির পাঠান এবং তার ছেলে মুন্না বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এলাকায় নানা অপকর্ম ও একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এমন সুবিধাবাদী আচরণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য জেল-জুলুম সহ্য করা ত্যাগী নেতা-কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
দলের নীতি-নির্ধারকদের কাছে স্থানীয় তৃণমূলের জোর দাবি, অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত করে ওয়ার্ড বিএনপিকে সুবিধাবাদীদের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং বিতর্কিত মনির পাঠানের বিরুদ্ধে উপযুক্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন