নারায়ণগঞ্জ জেলায় ১১ দলীয় ঐক্যর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাংলাদেশ ১১ দলীয় ঐক্য নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র, ন্যায় বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আজ ০৪ জুলাই (শনিবার) বিকেল ৫.০০ টায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার শিবু মার্কেটে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি সাইনবোর্ড থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে যাওয়ার প্রধান সড়কে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকারের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন এন সি পি নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক জুবায়ের সরদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল কাদের নদভী, জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারী মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান, এস সিপি নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব জুবায়ের তামজিদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারী মাওলানা মুহাম্মদ এমদাদুল্লাহ, অধ্যাপক মাসুদুর রহমান গিয়াস প্রমূখ, নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আবু সাঈদ মুন্না, জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাসুদুর রহমান গিয়াস, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল বাকী, দেওয়ান খোরশেদ আলম, মাওলানা মুজিবুর রহমান মিয়াজী, মুফতী জাহাঙ্গীর আলমসহ উপজেলা আমীরবৃন্দ ও কয়েক হাজার নেতা-কর্মী।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মমিনুল হক সরকার বলেন, জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে অনন্য নজির হয়ে রয়েছে। যদি জুলাই না হতো তাহলে এই সরকার ক্ষমতায় আসতে পারতো না। অথচ মাত্র ৫১% ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসে প্রায় ৭০% মানুষের গণরায়কে তারা অস্বীকার করছে। যদি জুলাই সনদ না মানেন তাহলে তাবার এদেশের মানুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা মেহনতি মানুষকে সাথে নিয়ে রাস্তায় আবার নেমে আসবে। তখন আর মানুষকে থামাতে পারবেন না। সুতরাং মানুষের গণরায়কে মেনে নেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির নারায়ণগঞ্জ জেলার আহবায়ক জুবায়ের সরদার বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা করছেন। আমরা বলে দিতে চাই যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানা করেন তাহলে আপনার গদিও টালবাহানা করবে। যদি অতিশীঘ্রই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হয় তাহলে আবার জুলাই নেমে আসবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মাওলানা ওবাইদুল কাদের নদভী বলেন, এদেশ স্বাধীন হওয়ার পর শেখ মুজিবুর রহমান ভারতের হাতে এদেশকে তুলে দিতে চেয়েছিলেন। সেসময় জিয়াউর রহমানের হাতে দেশ রক্ষা হয়েছিল। গত ১৭ বছরে শেখ হাসিনা ও তার বাপের মতো এদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল কিন্তু আমাদের দেশের দামাল ছেলেরা তাদের জীবন দিয়ে, প্রাণ দিয়ে, রক্ত দিয়ে এদেশ কে রক্ষা করেছিল। যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে তারা রক্ত দিয়েছিল সে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন না হলে আবার এদেশের দামাল ছেলেরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।
এনসিপির নেতা জুবায়ের তামজিদ বলেন, আমরা যুগে যুগে রক্ত দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। যদি প্রয়োজন হয় আবার রক্ত দিব। বর্তমান সরকার জুলাই সনদ নিয়ে যদি কোন টালবাহানা করে আবার আমরা মাঠে নামব। আমরা কোনদিন এ বিষয়ে ছাড় দিব না।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, আপনারা সকলে জানেন কিভাবে জুলাই আন্দোলনে জনগণকে হত্যা করা হয়েছিল। আজকে যেজন্য রাস্তায় দাড়িয়েছি যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হতো তাহলে আজ আমাদের এখানে দাড়াতে হতো না। কিন্তু আজ সরকারী দলের লোকজন জুলাই নিয়ে হাসি তামাশায় মেতে উঠেছে। দেখলে মনে হয় সরিষার মধ্যে ভূত আছে। আজকে যারা জুলাই আন্দলন নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছেন তারা মূলত আবার ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠার চেষ্টা করছে।
জুলাই আন্দোলনে শহিদের পিতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ৭০% মানুষের রায়কে অবজ্ঞা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে কিন্তু আমি বলতে চাই অক্ষরে অক্ষরে নয় প্রতিটি পয়েন্টে পয়েন্টে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমি শহিদের বাবা হিসেবে ১১ দলের এই আন্দোলনের সাথে সহমত পোষণ করছি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির সংগঠক নিরব রায়হান বলেন, দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলছি, যে আশা নিয়ে জুলাই কায়েম হয়েছিল। বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়ন করছে না। বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদের স্বরূপ তৈরি করছে। জামায়াতসহ আমরা ১১ দলীয় ঐক্য একতাবদ্ধ আছি। আবার যদি শেখ হাসিনার মত ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার চেষ্টা করা হয় আবার এদেশে জুলাই কায়েম হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের তদারককারী আবু সাঈদ মোঃ মুন্না বলেন, জুলাই আগস্টের বিপ্লবের পর মানুষ যা কামনা করেছিল তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তারা জুলাই সনদ মেনে নিতে পারছে না। আমি তাদেরকে বলতে চাই, যদি জুলাই সনদ মেনে নিতে না পারেন তাহলে মানুষ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রতি আস্থাহীন পরবে। মানুষ আস্থাহীন হয়ে পরলে কাদের নিয়ে রাজনীতি করবেন। সুতরাং আসুন জুলাই সনদ মেনে নিয়ে মানুষের আস্থা কায়েম করি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ মাসুদুর রহমান গিয়াস বলেন, শেখ হাসিনা এদেশে খুন ও গুমের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তাই এদেশে জুলাই নেমে এসেছিল। আবার যদি এদেশে খুন ও গুমের ও রাজত্ব কায়েম হয় তাহলে এদেশের মানুষ তা মেনে নিবে না।
আপনার মতামত লিখুন