বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সিরাজদিখানের পদ্মহেম ধামে ৬ বন্ধুর স্মরণীয় ভ্রমণ
কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে বৃষ্টির দিনে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটল নারায়ণগঞ্জের ছয় বন্ধুর একটি বিশেষ দিন। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে হঠাৎ সিদ্ধান্তে তারা ঘুরে এলেন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালিগাঁও এলাকার দোষরপাড়া পদ্মহেম ধাম (লালনের আখড়া বা বাউল বাড়ি)।
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে যোহরের নামাজের পর একসাথেই যাত্রা শুরু করেন ছয় বন্ধু। যাত্রাপথে বক্তাবলী থেকে সংগ্রহ করেন স্থানীয় মিষ্টি ও নিমকি। এরপর মিশনপাড়া মোড় থেকে অটোরিকশায় চড়ে ডিগ্রিচর ঘাটে পৌঁছে ট্রলারে নদী পার হন তারা। সেখান থেকে পুনরায় অটোরিকশায় মিষ্টি-নিমকির স্বাদ নিতে নিতে আড্ডার ছলে পদ্মহেম ধামের উদ্দেশে রওনা দেন।
বিকাল চারটার দিকে পদ্মহেম ধামে পৌঁছান ভ্রমণকারীরা। অটোরিকশা থেকে নেমে বাটার বান, কলা ও জসিম ভাইয়ের বিশেষ তদারকিতে সেদ্ধ করা ডিম খেয়ে কিছুটা ক্লান্তি দূর করেন। প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও ইছামতী নদীতে নৌকায় ঘোরার ইচ্ছা দমে যায়নি তাদের। বন্ধু ইউসুফ দরদাম করে আধা ঘণ্টার জন্য একটি ছোট নৌকা ভাড়া করেন। চলন্ত নৌকায় ধীরগতিতে ভেসে দুই তীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নদীতে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য তাদের ভ্রমণে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।
নৌকা ভ্রমণ শেষে পদ্মহেম ধামের ছোট্ট টিনের মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করেন ছয় বন্ধু। স্থানীয় একটি দোকানে চা পানের পর বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে তারা ফেরার পথ ধরেন। সন্ধ্যার আজানের সময় ডিগ্রিচর ঘাটে পৌঁছে ঘাটের পাশের মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন এবং স্থানীয় বাজার থেকে দই খেয়ে আবার পথ চলেন।
ফেরার পথে বালিগাঁও এলাকায় কাশফুলের নরম ছোঁয়া ভ্রমণের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করে। দিনের এই স্মৃতিকে ধরে রাখতে কাশফুলের সঙ্গে দলবেঁধে বেশ কিছু ছবি তুলে ফ্রেমবন্দি হন বন্ধুরা। বৃষ্টিভেজা পথ, নদী পারাপার, ইছামতীতে নৌকাভ্রমণ, নামাজ, আড্ডা ও স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদে ছয় বন্ধুর একদিনের এই সফর হয়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।
আপনার মতামত লিখুন