আলীরটেক গঞ্জকুমারিয়া যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার চেষ্টা থানায় অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ ফাতেমা তুজ জোহরাকে (২০) পিটিয়ে ও ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ সদর থানার আলীরটেক ইউনিয়নের গঞ্জকুমারিয়ার স্বামী মো. পারভেজ (২৪) ও দেবর মো. অনিকের (১৮) বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে (০১/০৬/২০২৩ তারিখে) প্রেমের সম্পর্কের জেরে ফাতেমা তুজ জোহরার সাথে মো. পারভেজের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী পারভেজ ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করে আসছেন এবং বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন করে আসছিলেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর মা নগদ ৪,০০,০০০ (চার লাখ) টাকা প্রদান করলেও মাদক ও জুয়ার নেশায় সেই টাকা নষ্ট করে স্বামী আরও টাকার জন্য মারধর ও হুমকি দিতে শুরু করেন।
এর প্রতিকারে ভুক্তভোগী তিনটি এনজিও থেকে ১,৫০,০০০ টাকা এবং স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে আরও ৬০,০০০ টাকা তুলে একটি অটো গাড়ি কিনে দেন, যা ২ নং আসামি অনিক চালালেও কিস্তির টাকা পরিশোধ করা হতো না। এ বিষয়ে কিছু বললেই আসামিরা তাকে বেধড়ক মারধর করতেন। এছাড়া স্বামী পারভেজ অন্যত্র পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে তার ওপর আরও বেশি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০/১০/২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাড়িতে মা ও বোন না থাকার সুযোগে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ফাতেমা তুজ জোহরার ওপর হামলা চালায়। কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করার একপর্যায়ে ২ নং আসামি চুল ধরে রেখে ১ নং আসামি ইট দিয়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত করেন। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে গেলে আসামিরা তাকে মৃত ভেবে গুম করার চেষ্টা চালায়। ঠিক সেসময় মা ও বোন বাড়িতে এসে তাকে উদ্ধার করতে গেলে আসামিরা তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন তাকে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করেন। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আত্মীয়স্বজনের সাথে আলোচনা করে থানায় এসে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
আপনার মতামত লিখুন