ঢাকা   শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

নির্বাচনে মান্নানকে পরাজিত করতে গিয়াসের সঙ্গে সেলিমের যোগসূত্র ফাঁস!



নির্বাচনে মান্নানকে পরাজিত করতে গিয়াসের সঙ্গে সেলিমের যোগসূত্র ফাঁস!

নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানকে পরাজিত করতে সোনারগাঁয়ে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রেখেছেন সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী সেলিম হক রুমী ও কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোমেন খান।

 গত ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে অনেক কঠিন ধাপ পেরিয়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হোন মান্নান। কিন্তু ওই নির্বাচনে ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীনের সঙ্গে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ ছিল সেলিম ও মোমেন খানের। সেলিম হক রুমীকে নামকাওয়াস্তে নির্বাচনের আগে দু‘একদিন ভোটের মাঠে দেখা গেলেও প্রকাশ্যে ধানের শীষের বিরোধীতা করেছেন মোমেন খান।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর এই আসন থেকে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে প্রাথমিকভাবে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এরপরও জেলার ৭জন নেতা মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। ওই সময় থেকে কাঁচপুরের সেলিম হক রুমীর সঙ্গে গিয়াসের গোপন যোগাযোগ বিদ্যমান থাকে। পরবর্তীতে মান্নানকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও নির্বাচনের স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী গিয়াসের কাছ থেকে মোটা অংশের অর্থ হাতিয়ে নেন সেলিম ও মোমেন খান। তারা গিয়াসকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরের ৮০ ভাগ ভোট গিয়াসের ফুটবল মার্কায় দেয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন।

একই সঙ্গে সেলিম হক রুমীর সঙ্গে সোনারগাঁও ‍উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির যেসব নেতাদের সুসম্পর্ক রয়েছে তাদেরকে গিয়াসের ফুটবল মার্কার পক্ষে আনার কাজ বর্গা দেন সেলিম হক রুমী। বিনিময়ে গিয়াস আরো বেশি বিশেষ সুবিধা দেন তাকে। গিয়াসের পক্ষে সোনারগাঁয়ে বিরাট একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে ফেলেন সেলিম। যে সিন্ডিকেটের অনেকেই মান্নানের পাশে প্রকাশ্যে থাকলেও গোপনে গিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। তারা ভেবেছিলেন মান্নান পরাজিত হলে গিয়াস বিজয়ী হোন এবং গিয়াস বিজয়ী হয়ে গেলে গিয়াসের সঙ্গে যাতে রাজনীতিটা করতে পারেন সেজন্য গিয়াসের পক্ষ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন অনেকেই। অনেকেই গিয়াসের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলেও ফুটবলের পক্ষে কাজ করেননি।

সেলিম হক রুমীর মাধ্যমে পুরো সোনারগাঁও উপজেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের হাতে ফুটবলের পক্ষে আর্থিক সুবিধা পৌছে দেয়া হয়। ওই গিয়াসের অন্যতম ঘনিষ্ঠজন সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুর রহমান স্বপন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ প্রধানের মাধ্যমে সেলিম হক রুমীর হাতে বিশেষ সুবিধাগুলো পৌছে দেয়া হয়।

গিয়াসের অনুগামী গিয়াসের বিশ্বস্ত বেশকজন নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচনের পূর্বে গিয়াসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন সেলিম হক রুমী, মোমেন খান, মোগরাপাড়ার আতাউর রহমান, পারভেজ সাজ্জাদ চপল, পিরোজপুরের জয়নাল মেম্বার, মান্নানের মামাতো ভাই বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনির, সনমান্দির সাফির উদ্দীন মজনু, আশরাফ মোল্লা, পৌরসভার মোতালেব মিয়া, শফিকুল ইসলাম নয়ন, জিয়াউল ইসলাম চয়ন, হারুন অর রশিদ মিঠু, সাদ্দাম হোসেন, জামপুরের গোলজার প্রধান, নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আতাউর রহমান মেম্বার, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের নূরে ইয়াসিন নোবেল, বারদীর হালিম মেম্বার, আব্দুল আলী, আলমগীর মেম্বার, শম্ভুপুরার নোবেল মীর, সাদিপুরের সেলিম সরকার, মোহাম্মদ কাউসারসহ আরো বেশকজন। এসব নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন গোপনে তারা গিয়াসের ফুটবলের পক্ষে ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


নির্বাচনে মান্নানকে পরাজিত করতে গিয়াসের সঙ্গে সেলিমের যোগসূত্র ফাঁস!

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানকে পরাজিত করতে সোনারগাঁয়ে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রেখেছেন সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী সেলিম হক রুমী ও কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোমেন খান।

 গত ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে অনেক কঠিন ধাপ পেরিয়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হোন মান্নান। কিন্তু ওই নির্বাচনে ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীনের সঙ্গে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ ছিল সেলিম ও মোমেন খানের। সেলিম হক রুমীকে নামকাওয়াস্তে নির্বাচনের আগে দু‘একদিন ভোটের মাঠে দেখা গেলেও প্রকাশ্যে ধানের শীষের বিরোধীতা করেছেন মোমেন খান।


অনুসন্ধানে জানাগেছে, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর এই আসন থেকে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে প্রাথমিকভাবে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এরপরও জেলার ৭জন নেতা মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। ওই সময় থেকে কাঁচপুরের সেলিম হক রুমীর সঙ্গে গিয়াসের গোপন যোগাযোগ বিদ্যমান থাকে। পরবর্তীতে মান্নানকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও নির্বাচনের স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী গিয়াসের কাছ থেকে মোটা অংশের অর্থ হাতিয়ে নেন সেলিম ও মোমেন খান। তারা গিয়াসকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরের ৮০ ভাগ ভোট গিয়াসের ফুটবল মার্কায় দেয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন।


একই সঙ্গে সেলিম হক রুমীর সঙ্গে সোনারগাঁও ‍উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির যেসব নেতাদের সুসম্পর্ক রয়েছে তাদেরকে গিয়াসের ফুটবল মার্কার পক্ষে আনার কাজ বর্গা দেন সেলিম হক রুমী। বিনিময়ে গিয়াস আরো বেশি বিশেষ সুবিধা দেন তাকে। গিয়াসের পক্ষে সোনারগাঁয়ে বিরাট একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে ফেলেন সেলিম। যে সিন্ডিকেটের অনেকেই মান্নানের পাশে প্রকাশ্যে থাকলেও গোপনে গিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। তারা ভেবেছিলেন মান্নান পরাজিত হলে গিয়াস বিজয়ী হোন এবং গিয়াস বিজয়ী হয়ে গেলে গিয়াসের সঙ্গে যাতে রাজনীতিটা করতে পারেন সেজন্য গিয়াসের পক্ষ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন অনেকেই। অনেকেই গিয়াসের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলেও ফুটবলের পক্ষে কাজ করেননি।


সেলিম হক রুমীর মাধ্যমে পুরো সোনারগাঁও উপজেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের হাতে ফুটবলের পক্ষে আর্থিক সুবিধা পৌছে দেয়া হয়। ওই গিয়াসের অন্যতম ঘনিষ্ঠজন সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুর রহমান স্বপন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ প্রধানের মাধ্যমে সেলিম হক রুমীর হাতে বিশেষ সুবিধাগুলো পৌছে দেয়া হয়।


গিয়াসের অনুগামী গিয়াসের বিশ্বস্ত বেশকজন নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচনের পূর্বে গিয়াসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন সেলিম হক রুমী, মোমেন খান, মোগরাপাড়ার আতাউর রহমান, পারভেজ সাজ্জাদ চপল, পিরোজপুরের জয়নাল মেম্বার, মান্নানের মামাতো ভাই বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনির, সনমান্দির সাফির উদ্দীন মজনু, আশরাফ মোল্লা, পৌরসভার মোতালেব মিয়া, শফিকুল ইসলাম নয়ন, জিয়াউল ইসলাম চয়ন, হারুন অর রশিদ মিঠু, সাদ্দাম হোসেন, জামপুরের গোলজার প্রধান, নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আতাউর রহমান মেম্বার, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের নূরে ইয়াসিন নোবেল, বারদীর হালিম মেম্বার, আব্দুল আলী, আলমগীর মেম্বার, শম্ভুপুরার নোবেল মীর, সাদিপুরের সেলিম সরকার, মোহাম্মদ কাউসারসহ আরো বেশকজন। এসব নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন গোপনে তারা গিয়াসের ফুটবলের পক্ষে ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত