ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

আদালতে মামলা বিচারাধীন জমিতে কাজ বন্ধ ও জোরপূর্বক মীমাংসার চাপের অভিযোগ বন্দর ওসির বিরুদ্ধে



আদালতে মামলা বিচারাধীন জমিতে কাজ বন্ধ ও জোরপূর্বক মীমাংসার চাপের অভিযোগ বন্দর ওসির বিরুদ্ধে

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কল্যান্দি এলাকায় আদালতে মালিকানা সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও জমিতে কাজ বন্ধ রাখা এবং জোরপূর্বক মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ভুক্তভোগী পরিবার এই অভিযোগ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্দর উপজেলার মাধবপাশা মৌজার সিএস ও এসএ ৩২১ নম্বর দাগ এবং আরএস ৪০০ নম্বর দাগে ১৫ শতাংশ জমি নিয়ে হাজী আব্দুল আউয়াল গং বনাম শফিউদ্দিন গংদের মধ্যে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আদালতে মালিকানা সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে।

খতিয়ান সূত্রে জানা যায়, ১৯২৫ সালে মহবুল্লাহ নোয়াব আলীর কাছে ১৫ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। পরবর্তীতে ১৯৩২ সালে নোয়াব আলী পুনরায় মহবুল্লাহর কাছে তা বিক্রি করেন। এর ধারাবাহিকতায় মহবুল্লাহর দুই ছেলে সানাউল্লাহ ও আব্দুল লতিফ কুসাই ১৯৪৫ সালে নোয়াব আলীর নিকট ৬ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। এই সম্পত্তি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আইনি লড়াই দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।

ভুক্তভোগী মহবুল্লাহ ওয়াশিগংদের দাবি, সম্প্রতি ওই জমিতে কোনো ১৪৫ ধারা বা আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি না থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ জালাল গংদের পক্ষে বন্দর থানার ওসি মো. জামাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশের কপি দেখিয়ে সেখানে চলমান কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং আগামী শনিবার পর্যন্ত সব ধরনের নির্মাণ বা সংস্কার কাজ স্থগিত রাখতে বলেন।

ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ফারুক জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি ওসির কাছে আদালতের বৈধ কাগজপত্র এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয়ের রায়ের কপি প্রদর্শন করেন। কিন্তু ওসি কোনো কাগজপত্রের তোয়াক্কা না করে একতরফাভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে আদেশের কথা বলা হয়েছে, সেটির কাগজ দেখতে চাইলে ওসি তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।

ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে এবং কোনো নিষেধাজ্ঞা বা ১৪৫ ধারা জারি না থাকা সত্ত্বেও একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে আদালতের কার্যপরিধি পেরিয়ে এমন একতরফা নির্দেশ দিতে পারেন? আইন রক্ষাকারী পদে থেকে এমন আচরণ সম্পূর্ণ বেআইনি ও রহস্যজনক বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জামাল উদ্দিনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


আদালতে মামলা বিচারাধীন জমিতে কাজ বন্ধ ও জোরপূর্বক মীমাংসার চাপের অভিযোগ বন্দর ওসির বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কল্যান্দি এলাকায় আদালতে মালিকানা সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও জমিতে কাজ বন্ধ রাখা এবং জোরপূর্বক মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ভুক্তভোগী পরিবার এই অভিযোগ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্দর উপজেলার মাধবপাশা মৌজার সিএস ও এসএ ৩২১ নম্বর দাগ এবং আরএস ৪০০ নম্বর দাগে ১৫ শতাংশ জমি নিয়ে হাজী আব্দুল আউয়াল গং বনাম শফিউদ্দিন গংদের মধ্যে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আদালতে মালিকানা সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে।

খতিয়ান সূত্রে জানা যায়, ১৯২৫ সালে মহবুল্লাহ নোয়াব আলীর কাছে ১৫ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। পরবর্তীতে ১৯৩২ সালে নোয়াব আলী পুনরায় মহবুল্লাহর কাছে তা বিক্রি করেন। এর ধারাবাহিকতায় মহবুল্লাহর দুই ছেলে সানাউল্লাহ ও আব্দুল লতিফ কুসাই ১৯৪৫ সালে নোয়াব আলীর নিকট ৬ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। এই সম্পত্তি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আইনি লড়াই দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।

ভুক্তভোগী মহবুল্লাহ ওয়াশিগংদের দাবি, সম্প্রতি ওই জমিতে কোনো ১৪৫ ধারা বা আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি না থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ জালাল গংদের পক্ষে বন্দর থানার ওসি মো. জামাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশের কপি দেখিয়ে সেখানে চলমান কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং আগামী শনিবার পর্যন্ত সব ধরনের নির্মাণ বা সংস্কার কাজ স্থগিত রাখতে বলেন।

ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ফারুক জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি ওসির কাছে আদালতের বৈধ কাগজপত্র এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয়ের রায়ের কপি প্রদর্শন করেন। কিন্তু ওসি কোনো কাগজপত্রের তোয়াক্কা না করে একতরফাভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে আদেশের কথা বলা হয়েছে, সেটির কাগজ দেখতে চাইলে ওসি তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।

ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে এবং কোনো নিষেধাজ্ঞা বা ১৪৫ ধারা জারি না থাকা সত্ত্বেও একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে আদালতের কার্যপরিধি পেরিয়ে এমন একতরফা নির্দেশ দিতে পারেন? আইন রক্ষাকারী পদে থেকে এমন আচরণ সম্পূর্ণ বেআইনি ও রহস্যজনক বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জামাল উদ্দিনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত