ঢাকা   বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

বন্দরে ভেঙে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা: ওসি’র অপসারণ দাবিতে উত্তাল জনপদ



বন্দরে ভেঙে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা: ওসি’র অপসারণ দাবিতে উত্তাল জনপদ
বন্দরে ভেঙে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা: ওসি’র অপসারণ দাবিতে উত্তাল জনপদ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ক্রমবর্ধমান অপরাধ ও চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, ডাকাতি এবং একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাটি এখন অপরাধীদের ‘অভয়ারণ্যে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এই পরিস্থিতির জন্য বন্দর থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিনের অদূরদর্শিতাকে দায়ী করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র লুটের মতো ঘটনা

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহতার বড় প্রমাণ মেলে গত মে মাসে। চৌধুরীবাড়ি এলাকায় অপরাধী ধরতে গিয়ে দুর্ধর্ষ ‘সিফাত বাহিনী’র হামলায় দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন এবং সে সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশ সদস্যদের সরকারি শর্টগান ছিনিয়ে নেয়। ওসির কমান্ডের অভাবে নিজের ফোর্স ও সরকারি অস্ত্রই যেখানে নিরাপদ নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

হত্যাকাণ্ডের মিছিল ও জনরোষ

বন্দরে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেই চলেছে। মদনগঞ্জে ড্রেজার ও মাদকের প্রতিবাদ করায় মাকসুদুর রহমান জুয়েলকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অতি সম্প্রতি এনায়েতনগর এলাকায় মাত্র একটি মোবাইল ফোনের জন্য ১৮ বছরের তরুণ হসিয়ারি শ্রমিক জোবায়েরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। মৃত্যুর আগে চার দিন জোবায়েরের লড়াই ও পরবর্তীতে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতা মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করতে বাধ্য হয়।

থানায় মামলা নয়, ‘ঘুষের বাণিজ্য’

অভিযোগ রয়েছে, অপরাধ দমনের চেয়ে থানায় ‘বাণিজ্যিক’ মনোভাব বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। নিহত জোবায়েরের পরিবার মামলা করতে গেলে এসআই মাসুদ তাদের কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও পরবর্তীতে বিক্ষোভের মুখে ওই এসআইকে ক্লোজ করা হয়েছে, তবে সমালোচকরা বলছেন—ওসির তদারকির অভাবই মূলত এমন নৈতিক অবক্ষয়ের মূল কারণ। এছাড়া বন্দর বাসস্ট্যান্ডে ‘ঢালী বিরিয়ানি হাউজ’-এ প্রকাশ্যে লুটপাটের ঘটনায়ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ছিল স্পষ্ট।

রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ

ক্রমবর্ধমান অস্থিরতায় খোদ স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) আস্থা হারিয়েছেন বর্তমান ওসি। প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অযোগ্যতার কারণে এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে, যেকোনো সময় তাকে প্রত্যাহার করা হতে পারে। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সব স্তরের মানুষ এখন ওসির অপসারণ দাবি করছেন।

জনসাধারণের দাবি

বন্দরবাসী এখন আতঙ্কমুক্ত জীবন চায়। এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে বর্তমান ওসিকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করে একজন দক্ষ ও সাহসী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদানের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয় জনগণ।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


বন্দরে ভেঙে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা: ওসি’র অপসারণ দাবিতে উত্তাল জনপদ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ক্রমবর্ধমান অপরাধ ও চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, ডাকাতি এবং একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাটি এখন অপরাধীদের ‘অভয়ারণ্যে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এই পরিস্থিতির জন্য বন্দর থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিনের অদূরদর্শিতাকে দায়ী করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র লুটের মতো ঘটনা

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহতার বড় প্রমাণ মেলে গত মে মাসে। চৌধুরীবাড়ি এলাকায় অপরাধী ধরতে গিয়ে দুর্ধর্ষ ‘সিফাত বাহিনী’র হামলায় দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন এবং সে সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশ সদস্যদের সরকারি শর্টগান ছিনিয়ে নেয়। ওসির কমান্ডের অভাবে নিজের ফোর্স ও সরকারি অস্ত্রই যেখানে নিরাপদ নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

হত্যাকাণ্ডের মিছিল ও জনরোষ

বন্দরে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেই চলেছে। মদনগঞ্জে ড্রেজার ও মাদকের প্রতিবাদ করায় মাকসুদুর রহমান জুয়েলকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অতি সম্প্রতি এনায়েতনগর এলাকায় মাত্র একটি মোবাইল ফোনের জন্য ১৮ বছরের তরুণ হসিয়ারি শ্রমিক জোবায়েরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। মৃত্যুর আগে চার দিন জোবায়েরের লড়াই ও পরবর্তীতে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতা মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করতে বাধ্য হয়।

থানায় মামলা নয়, ‘ঘুষের বাণিজ্য’

অভিযোগ রয়েছে, অপরাধ দমনের চেয়ে থানায় ‘বাণিজ্যিক’ মনোভাব বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। নিহত জোবায়েরের পরিবার মামলা করতে গেলে এসআই মাসুদ তাদের কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও পরবর্তীতে বিক্ষোভের মুখে ওই এসআইকে ক্লোজ করা হয়েছে, তবে সমালোচকরা বলছেন—ওসির তদারকির অভাবই মূলত এমন নৈতিক অবক্ষয়ের মূল কারণ। এছাড়া বন্দর বাসস্ট্যান্ডে ‘ঢালী বিরিয়ানি হাউজ’-এ প্রকাশ্যে লুটপাটের ঘটনায়ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ছিল স্পষ্ট।

রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ

ক্রমবর্ধমান অস্থিরতায় খোদ স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) আস্থা হারিয়েছেন বর্তমান ওসি। প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অযোগ্যতার কারণে এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে, যেকোনো সময় তাকে প্রত্যাহার করা হতে পারে। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সব স্তরের মানুষ এখন ওসির অপসারণ দাবি করছেন।

জনসাধারণের দাবি

বন্দরবাসী এখন আতঙ্কমুক্ত জীবন চায়। এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে বর্তমান ওসিকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করে একজন দক্ষ ও সাহসী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদানের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয় জনগণ।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত