ফতুল্লায় শ্বশুরবাড়ি থেকে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে অপহরণের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় গভীর রাতে ঘরের তালা ভেঙে শ্বশুরবাড়ি থেকে ৪ মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কনে পক্ষের স্বজনদের বিরুদ্ধে। বাধা দিতে গেলে ওই তরুণীর শ্বশুর ও শাশুড়িকে এলোপাতাড়ি মারধর করে জখম করা হয়।
গত ১১ মে (সোমবার) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটে ফতুল্লা মডেল থানাধীন এনায়েতনগর ইউনিয়নের উত্তর নবীনগর এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর শ্বশুর মোঃ আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন— ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ আরাফাতনগর এলাকার আশরাফ আলী, সোহরাব, হাশেম মাদবর ও হেলেনা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে উত্তর নবীনগর এলাকার মোঃ আনোয়ার হোসেনের ছেলে আকাশের সাথে ধর্মগঞ্জ এলাকার আশরাফ আলীর মেয়ে মোসাঃ আফরিন জাহান রানীর (১৭) প্রেমের সম্পর্ক ধরে বিয়ে হয়। কিন্তু মেয়ের পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি। উল্টো ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পূর্বে আকাশের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় একটি 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে' মামলা দায়ের করে এবং আকাশের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কিছুদিন কনে পক্ষের জিম্মায় থাকার পর তরুণী আফরিন জাহান রানী পুনরায় স্বেচ্ছায় তার স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন এবং স্বামীর সাথে সংসার করতে থাকেন। বর্তমানে তিনি ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মেয়ে জামাতার বাড়িতে ফিরে আসায় কনে পক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ১১ মে রাত আড়াইটার দিকে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরে প্রবেশ করে আকাশের বাবা আনোয়ার হোসেন ও মা জোৎনা বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করে নীলফোলা জখম করে। এ সময় তারা ঘরে থাকা ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রানীকে জোরপূর্বক ও টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আকাশের বাবা আনোয়ার হোসেন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "বিবাদীরা আমাদের বাড়ি থেকে আমার ছেলের বউকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে। তারা এখন আমাদের ও আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমরা চরম আশঙ্কার মধ্যে আছি যে, রানীর মা-বাবা জোরপূর্বক তার ৪ মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট (গর্ভপাত) করে তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।"
এই বেআইনি ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের প্রতিকার, অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূকে উদ্ধার এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) দ্রুত ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগটি তদন্ত করে ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
আপনার মতামত লিখুন