বন্দরে জমি দখল ও হত্যার হুমকি আলী হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন বারপাড়া এলাকায় আদালতের রায় ও ডিগ্রি পাওয়ার পরও পৈত্রিক জমি জবরদখলের চেষ্টা এবং হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী দোসর আলী হোসেনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী বোরহান উদ্দিন।
অভিযুক্ত আলী হোসেন উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত। জমি দখলের সময় তিনি ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি চেয়ারম্যান নির্বাচন না করলে তোমাকে জমিতেই পুঁতে ফেলতাম।”
থানায় লিখিত অভিযোগসূত্রে জানা যায়, বারপাড়া মৌজার এসএ-১০২, আরএস-২০৯৩/২০৯৪ এবং এসএ-১০৩৭, আরএস-২০৯২ দাগের মোট ৫৪ শতাংশ নাল জমি ভুক্তভোগী বোরহান উদ্দিন (৫২) ও তার ছোট ভাই মোঃ শরিফ হোসেনের পৈত্রিক সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই জমিতে গাছপালা রোপণ ও পুকুরে মাছ চাষ করে ভোগদখল করে আসছেন। জমির খাজনা-খারিজও তাদের নামেই রয়েছে।
ভুক্তভোগী বোরহান উদ্দিন জানান, একই এলাকার মৃত আব্দুল ছামাদের ছেলে আলী হোসেন (৬০) এবং সামসু উদ্দিনের ছেলে শাহা আলম (৪৫)-সহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জন লোক এই জমির ওপর লোলুপ দৃষ্টি দেয়। তারা একটি ভূয়া ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ তৈরি করে জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করছে।আলী হোসেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে আমাদের দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছিল। আমরা আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত আমাদের পক্ষে রায়, ডিগ্রি ও রফানামা প্রদান করেন। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে বিবাদীরা প্রতিনিয়ত আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে।”
বোরহান উদ্দিন বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, সর্বশেষ গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখ বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে শাসনেরবাগ স্ট্যান্ড সংলগ্ন খালপাড়ে নিজেদের জমিতে ফসল আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বোরহান উদ্দিন। এ সময় আলী হোসেন ও শাহা আলমের নেতৃত্বে একদল লোক এসে কাজে বাধা দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। বোরহান উদ্দিন বাধা দিতে গেলে বিবাদীরা তাকে খুন-জখমের হুমকি দেয়। এ সময়ই আলী হোসেন তাকে জমিতে পুঁতে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিবাদীদের কারণে যেকোনো সময় তাদের জীবন ও সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এই পরিস্থিতিতে পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা এবং পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
আপনার মতামত লিখুন