ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজ করবে -এটিএম মা'ছুম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে বার্ষিক সদস্য (রুকন) সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাঙ্গামাটি শহরের বনরুপা ইসলামিক সেন্টার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গামাটি জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুহাম্মদ আব্দুল আলিম এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মুনসুরুল হক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ.টি.এম. মা'ছুম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও অঞ্চলের টিম সদস্য জাফর সাদেক, কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের টিম সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের প্রফেসর ড. সাবের আহাম্মদ এবং রাঙ্গামাটি জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম।
এছাড়া জেলা কর্মপরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন উপজেলা জামায়াতের আমীর এবং প্রায় দুই শতাধিক মহিলা ও পুরুষ রুকন সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা এ.টি.এম. মা'ছুম বলেন, একজন ইসলামী আন্দোলনের কর্মীর প্রধান পরিচয় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে মানুষের কল্যাণে কাজ করা। তিনি বলেন, ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সততা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও দেশপ্রেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অন্যায়, বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
রুকন ও দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংগঠনের কর্মীদের আত্মশুদ্ধি, শৃঙ্খলা, ত্যাগ ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত সাংগঠনিক চর্চা, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে গতি, উদ্যম ও দায়িত্ববোধ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তরুণ সমাজকে নৈতিক অবক্ষয়, মাদক, দুর্নীতি ও অপসংস্কৃতি থেকে রক্ষা করতে ইসলামী আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইসলামের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বক্তব্যের শেষে তিনি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করেন।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিটের সদস্য (রুকন) এবং দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন