নাসিক নির্বাচনে জামায়াতের চূড়ান্ত প্রার্থী আবদুল জব্বার
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকল রাজনৈতিক দলগুলোই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। সেই সাথে দেশের প্রধান বিরোধী জাময়াতে ইসলামীও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থী হিসেবেও মহানগর জাময়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বারকে প্রায় চূড়ান্ত করে রেখেছেন। শুধুমাত্র ঘোষণার বাকী রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। সেই সাথে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা বিভিন্ন রকমের কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা যায়, দীর্ঘদিন পর সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও বেশ উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে দিয়েই অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এই নির্বাচনের মধ্যে অনেক রাজনৈতিক নতুন করে অনেক ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়েছেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলাম এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনসাধারণে বেশ নজর কেড়েছে। তারা এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে অভূতপূর্ব সফলতা দেখিয়েছেন।
এই সংসদ নির্বাচনের পর এবার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে সর্বমহলেই আলাপ আলোচনা চলমান রয়েছে। নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্ধী হতে পারেন তাদের নিয়ে চলছে নানা আলাপ আলোচনা। আর এই আলাপ আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থীরা জায়গা করে নিয়েছেন। তাদের নিয়েও রাজনীতিতে চর্চা হচ্ছে।
ঘোষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন- ১ নং ওয়ার্ডে মো. কফিল আহমাদ, ২ নং ওয়ার্ডে মো. জামাল হোসাইন, ৫ নং ওয়ার্ডে মাওলানা হাবিবুল্লাহ বাহার, ৬ নং ওয়ার্ডে মাওলানা আব্দুল গফুর, ৮ নং ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর দেওয়ান, ৯ নং ওয়ার্ডে মো. ইসমাঈল হোসাইন, ১১ নং ওয়ার্ডে মো. খোরশেদ আলম, ১৩ নং ওয়ার্ডে এইচ এম নাসির উদ্দিন, ১৪ নং ওয়ার্ডে মো. সারওয়ারুল ইসলাম খান, ১৫ নং ওয়ার্ডে মো আনিসুজ্জামান, ১৬ নং ওয়ার্ডে মো. আব্দুল বাতেন, ১৭ নং ওয়ার্ডে মো. তমিজ উদ্দিন, ১৮ নং ওয়ার্ডে মো. তোফাজ্জল হোসেন টিটয়া, ২১ নং ওয়ার্ডে মো. ফজলুর হাই জাফরি, ২৫ নং ওয়ার্ডে হাফেজ আব্দুল্লাহ ও ২৭ নং ওয়ার্ডে মো. মহিউদ্দিন। এসকল কাউন্সিলর প্রার্থীরা এলাকায় কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
সেই সাথে তারা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে আগে থেকেই মাঠ গোছানো শুরু করেছেন। সিটি কর্পোরেশনের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদেরকে সামনে রেখে বিভিন্ন রকমের সভা সমাবেশ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে গত মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচনের প্রস্তুতিতে তারা অন্যদের চেয়ে বেশ এগিয়েও রয়েছেন।
এদিকে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বার নারায়ণগঞ্জ-৪ এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি বিগত সময়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকায় বেশ জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন। সেই রেশ ধরে এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনের সফলতা এসেছে। সেই সফলতার সূত্র ধরে মাওলানা আব্দুল জব্বারকে সামনে রেখে তারা আশাবাদী।
পাশাপাশি দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হবে তাকে নিয়েই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে লড়াই করবেন। সেই সাথে তারা প্রাণপণভাবে সেই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে ফলাফল তাদের করে নিবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হচ্ছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট হিসেবেও জামায়াতে ইসলামী মেয়র পদে মনোনয়ন নেয়ার চেষ্টা করে যাবেন। কারণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলাম জনপ্রিয় অবস্থানে নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকায় ছাড় দিয়েছেন। সেই সূত্র ধরে এবার তারা মেয়র পদের মনোনয়ন তাদের করে নেয়ার চেষ্টা করবেন। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।
এছাড়া এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির জয় ঘটেছে, একটিতে জামায়াতের ইসলামী জোটের শরীক দল এনসিপি চমক দেখিয়েছে। গত দেড় দশকে এবার নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে সেখানে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত, ঘটেনি কোন সহিংসতা। শান্তিপূর্ণ এ ভোটের পরিবেশে বিএনপির জয় হলেও একটি বিষয় সামনে এসেছে সেটা হলো বিএনপির বিরুদ্ধে ভোটারদের অবস্থান ও জামায়াত সহ অন্য দলের প্রতি সমর্থন। সেটাও একেবারে গোপন।
জেলার চারটি আসনে বিএনপির প্রতিদ্বদ্বীতাকারী জামায়াতের ভোটের অবস্থান রীতিমত ঘাম ঝরিয়েছে। অথচ তারা যে সংখ্যক ভোট পেয়েছে সেরকম প্রচারণা তো ছিল নাই বরং কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এ পরিস্থিতি। সেই ধারাবাহিকতা সামনের নির্বাচনগুলোতেও জামায়াতে ইসলাম ধরে রাখবেন বলে ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের।
আপনার মতামত লিখুন