সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা মনি হত্যা: আসামি বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর শিশু জান্নাতুল নেসা ইরা মনি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত বাবু শেখকে (৪৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
ঘটনার তারিখ: ১ মার্চ।
অভিযোগ: চকলেট কিনে দেওয়া ও ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান প্রতিবেশী বাবু শেখ। সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি চিৎকার করে সবাইকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে, বাবু শেখ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে পালিয়ে যান।
উদ্ধার ও মৃত্যু: সড়ক সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ শিশু ইরা মনি মারা যায়।
নিহত শিশুর পরিচয়
ইরা মনি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলামের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
মামলা ও বিচারিক কার্যক্রম
গ্রেপ্তার: ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে। তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং ইরা মনিদের পাশের বাসায় ভাড়া থাকতেন।
হত্যার কারণ: তদন্তে বেরিয়ে আসে, ইরা মনির বাবা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে ধর্ষণ চেষ্টার পর হত্যা করা হয়েছে।
বিচার প্রক্রিয়া:
১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
১৮ জুন অভিযোগ গঠন এবং ২১ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
মাত্র ছয় কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর জেরা ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২ জুলাই যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়।
সবশেষে ৯ জুলাই আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
আপনার মতামত লিখুন