ঢাকা   সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

আকিজ উদ্দিনের উত্তরসূরিদের মানবিক সেবার গল্প ও একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা



আকিজ উদ্দিনের উত্তরসূরিদের মানবিক সেবার গল্প ও একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা
আকিজ উদ্দিনের উত্তরসূরিদের মানবিক সেবার গল্প ও একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা

মরহুম আকিজ উদ্দিন (মৃত ২০০৬) ছিলেন বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসার জগতের এক কিংবদন্তি উদ্যোক্তা। কলকাতার রাস্তায় অতি সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসা দিয়ে শুরু করে কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে তিনি গড়ে তুলেছিলেন বিশাল ‘আকিজ গ্রুপ’। তার এই সংগ্রামী জীবন আজও অনেক নতুন উদ্যোক্তার প্রেরণার উৎস। শিল্পের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে তার চিন্তা ও উত্তরাধিকারীদের সৃজনশীলতা আজ জনসেবায় এক নতুন উচ্চতা ছুঁয়েছে।

বিশেষ করে, তার সুযোগ্য সন্তান ডা. মহিউদ্দিনের প্রতিষ্ঠিত ‘আদ-দ্বীন হাসপাতাল’ এবং ‘আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ’ যেন গরীব ও অসহায় মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে হিজাব মেনে পড়াশোনার পরিবেশসহ নারীদের জন্য আধুনিক চিকিৎসাসেবার যে পথ তিনি তৈরি করেছেন, তা এক অনন্য মাইলফলক।

গরীবের হাসপাতাল হিসেবে আদ-দ্বীনের সুনাম

আদ-দ্বীন হাসপাতাল দীর্ঘ সময় ধরে ‘গরীবের হাসপাতাল’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে মা ও শিশু চিকিৎসায় এই হাসপাতালের অবদান অনস্বীকার্য। আকিজ ট্রাস্ট বা ওয়াকফের অধীনে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত নামমাত্র মূল্যে বিশ্বমানের সেবা পেয়ে আসছেন। আকিজ উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের নামে পরিচালিত বিভিন্ন ওয়ার্ডগুলোও সেবার বাতিঘর হিসেবে সুপরিচিত।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে একজন ভুক্তভোগী অভিভাবক বলেন, "২০০৪ সালের দিকে আমার বড় মেয়ে আয়শা মুনমুনের চিকিৎসার প্রয়োজনে যখন বড় বড় হাসপাতালে বিশ হাজার টাকার বেশি খরচের হিসাব দেওয়া হচ্ছিল, তখন মাত্র চার হাজার টাকায় আদ-দ্বীন হাসপাতাল থেকে অত্যন্ত সুন্দর ও নিরাপদ সেবা পেয়েছিলাম।"

উদ্বেগের কারণ ও প্রত্যাশা

সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্তের যে গুঞ্জন বা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অনেক সচেতন মহলের অভিযোগ, বিভিন্ন নাটকীয় ও বিতর্কিত ঘটনার আড়ালে এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চলছে।

হাসপাতালটির অনুরাগী ও সেবা গ্রহণকারীদের মতে, যেখানে মুনাফালোভী হাসপাতালের ভিড়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা প্রায় নাগালের বাইরে, সেখানে আদ-দ্বীনের মতো একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি। একজন ভুক্তভোগী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "ডা. মহিউদ্দিন ও আদ-দ্বীনের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ২৫ বছর আগে আমি যে সেবা পেয়েছি, আজ অনেক লক্ষ টাকা খরচ করেও সেই মানসিক শান্তি পাওয়া দুষ্কর।"

শেষ কথা

আদ-দ্বীন হাসপাতাল শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, বরং এটি অনেক অসহায় মায়ের নিরাপদ আশ্রয় এবং শত শত শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের কারখানা। আকিজ পরিবারের এই দীর্ঘদিনের মানবিক কার্যক্রম যেন কোনো ষড়যন্ত্রের বলি না হয়, সেটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি। সমাজের কল্যাণকামী মানুষ ও কর্তৃপক্ষ এই প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়িয়ে আদ-দ্বীনের সেবাকার্যক্রমকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬


আকিজ উদ্দিনের উত্তরসূরিদের মানবিক সেবার গল্প ও একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

মরহুম আকিজ উদ্দিন (মৃত ২০০৬) ছিলেন বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসার জগতের এক কিংবদন্তি উদ্যোক্তা। কলকাতার রাস্তায় অতি সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসা দিয়ে শুরু করে কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে তিনি গড়ে তুলেছিলেন বিশাল ‘আকিজ গ্রুপ’। তার এই সংগ্রামী জীবন আজও অনেক নতুন উদ্যোক্তার প্রেরণার উৎস। শিল্পের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে তার চিন্তা ও উত্তরাধিকারীদের সৃজনশীলতা আজ জনসেবায় এক নতুন উচ্চতা ছুঁয়েছে।

বিশেষ করে, তার সুযোগ্য সন্তান ডা. মহিউদ্দিনের প্রতিষ্ঠিত ‘আদ-দ্বীন হাসপাতাল’ এবং ‘আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ’ যেন গরীব ও অসহায় মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে হিজাব মেনে পড়াশোনার পরিবেশসহ নারীদের জন্য আধুনিক চিকিৎসাসেবার যে পথ তিনি তৈরি করেছেন, তা এক অনন্য মাইলফলক।

গরীবের হাসপাতাল হিসেবে আদ-দ্বীনের সুনাম

আদ-দ্বীন হাসপাতাল দীর্ঘ সময় ধরে ‘গরীবের হাসপাতাল’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে মা ও শিশু চিকিৎসায় এই হাসপাতালের অবদান অনস্বীকার্য। আকিজ ট্রাস্ট বা ওয়াকফের অধীনে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত নামমাত্র মূল্যে বিশ্বমানের সেবা পেয়ে আসছেন। আকিজ উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের নামে পরিচালিত বিভিন্ন ওয়ার্ডগুলোও সেবার বাতিঘর হিসেবে সুপরিচিত।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে একজন ভুক্তভোগী অভিভাবক বলেন, "২০০৪ সালের দিকে আমার বড় মেয়ে আয়শা মুনমুনের চিকিৎসার প্রয়োজনে যখন বড় বড় হাসপাতালে বিশ হাজার টাকার বেশি খরচের হিসাব দেওয়া হচ্ছিল, তখন মাত্র চার হাজার টাকায় আদ-দ্বীন হাসপাতাল থেকে অত্যন্ত সুন্দর ও নিরাপদ সেবা পেয়েছিলাম।"

উদ্বেগের কারণ ও প্রত্যাশা

সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্তের যে গুঞ্জন বা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অনেক সচেতন মহলের অভিযোগ, বিভিন্ন নাটকীয় ও বিতর্কিত ঘটনার আড়ালে এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চলছে।

হাসপাতালটির অনুরাগী ও সেবা গ্রহণকারীদের মতে, যেখানে মুনাফালোভী হাসপাতালের ভিড়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা প্রায় নাগালের বাইরে, সেখানে আদ-দ্বীনের মতো একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি। একজন ভুক্তভোগী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "ডা. মহিউদ্দিন ও আদ-দ্বীনের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ২৫ বছর আগে আমি যে সেবা পেয়েছি, আজ অনেক লক্ষ টাকা খরচ করেও সেই মানসিক শান্তি পাওয়া দুষ্কর।"

শেষ কথা

আদ-দ্বীন হাসপাতাল শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, বরং এটি অনেক অসহায় মায়ের নিরাপদ আশ্রয় এবং শত শত শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের কারখানা। আকিজ পরিবারের এই দীর্ঘদিনের মানবিক কার্যক্রম যেন কোনো ষড়যন্ত্রের বলি না হয়, সেটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি। সমাজের কল্যাণকামী মানুষ ও কর্তৃপক্ষ এই প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়িয়ে আদ-দ্বীনের সেবাকার্যক্রমকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানিয়েছেন।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত