ফতুল্লার ব্যস্ততম সড়ক মেরামতে জেলা প্রশাসকের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ: স্বস্তিতে এলাকাবাসী
দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকা ফতুল্লার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারের নির্দেশ দিয়ে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। তাঁর এই মানবিক ও দ্রুত পদক্ষেপে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ভোগান্তির চিত্র
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়নের চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড লিংক রোডের সঙ্গে যুক্ত ইসদাইর প্রবেশের রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ। বিপজ্জনক অবস্থার কারণে প্রতিদিন রিকশা উল্টে যাওয়া, গাড়ির বাম্পার ভেঙে যাওয়া এবং ড্রেনের স্লাবে ধাক্কা লেগে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছিল। এই পথে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী চরম ঝুঁকির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে রাস্তাটির এমন করুণ দশা থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
জেলা প্রশাসকের তাৎক্ষণিক নির্দেশ
গতকাল কার্যালয়ে যাওয়ার পথে রাস্তাটির বেহাল দশা জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের নজরে আসে। জনগণের কষ্ট লাঘবে তিনি কালক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনের নিজস্ব তহবিল থেকে রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশের পরপরই মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল থেকে পুরোদমে সংস্কারকাজ শুরু হয়। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে রড, সিমেন্ট, ইটের সুরকি ও বালু ব্যবহার করে ঢালাইয়ের মাধ্যমে সড়কটি নতুন করে চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
যা বললেন জেলা প্রশাসক
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, "জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করাই প্রশাসনের প্রথম ও প্রধান কাজ। একটি রাস্তার কারণে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রিকশাচালক ও সাধারণ মানুষ কষ্ট পাবে—এটি মেনে নেওয়া যায় না। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই আমরা কাজ করছি। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থেই দ্রুত এই সংস্কারকাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।"
এলাকাবাসীর কৃতজ্ঞতা
জেলা প্রশাসকের এই দ্রুত ও মানবিক উদ্যোগে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা গভীর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, “জনবান্ধব প্রশাসনের এমন উদ্যোগই জনগণের আস্থা বাড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের যে ভোগান্তি ছিল, জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে তার দ্রুত সমাধান হচ্ছে। আমরা তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।”
প্রশাসনের এই ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপ স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন