ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

জুলাই বিপ্লবে ৬২ ভাগ শহীদ শ্রমিক : ডা. শফিকুর রহমান



জুলাই বিপ্লবে ৬২ ভাগ শহীদ শ্রমিক : ডা. শফিকুর রহমান
জুলাই বিপ্লবে ৬২ ভাগ শহীদ শ্রমিক : ডা. শফিকুর রহমান

জুলাই বিপ্লবে আত্মত্যাগকারী শহীদের ৬২ ভাগ শ্রমিক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলেন নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেন, ২৪ এর বিপ্লবে এদেশ থেকে ফ্যাসিজমের বিনাশ ঘটেছে। এই বিপ্লবে শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে শ্রমিকরা। শ্রমিকের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো বিপ্লব সফল হয় না বলে তিনি উল্লেখ করে বলেন, পৃথিবী ও ইসলামের ইতিহাসে শ্রমিকরা সকল আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, মক্কার জীবনে রাসুল (সা.) এর দক্ষিণ হস্ত ছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও নব্বইয়ের গণ অভ্যুত্থানেও শ্রমিকরা একই ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি আজ রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এদেশের শ্রমিকদের চাওয়া পাওয়া খুব মামুলী। কিন্তু এদেশের কোনো সরকার আজ পর্যন্ত শ্রমিকদের ন্যূনতম এই দাবিটুকু পূরণ করেনি। মূলত রাষ্ট্র ক্ষমতায় যারা যায় তারা তো সোনার চামুচ নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। ফলে তারা শ্রমিকদের দুঃখ কষ্ট অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়। তিনি বলেন, বামপন্থীরা শ্রেণি সংগ্রাম দমনের নামে মালিক ও উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করেছে। আমি তাদেরকে কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই মালিক যদি না থাকে তাহলে শ্রমিকরা কাজ করবে কোথায়? শ্রমিকদের কর্মসংস্থান কোথায় হবে? তারা মালিক-শ্রমিকের মাঝে বিভেদের দেয়াল তুলতে চাইলেও আমরা মালিক-শ্রমিকের মাঝে ভাইয়ের সম্পর্ক তৈরি করতে চাই। ইসলাম বলে, শ্রমিক-মালিক পরস্পর সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শন করবে। একে অপরের শত্রু হবে না। শ্রমিক বাঁচলে মালিক বাঁচবে। শিল্পও বাঁচবে।

তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, শ্রমিকের সকল দায়িত্ব মালিকের ঘাড়ে চাপিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। মালিক ইনসাফ অনুযায়ী শ্রমিকের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। অবশিষ্ট দায়িত্ব রাষ্ট্রকে গ্রহণ করতে হবে। তিনি সরকারের কাছে শ্রমঘন এলাকায় বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নিতে জোর দাবি জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেন, শ্রমিকদের সকল সমস্যা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন ছাড়া শ্রমিক আন্দোলন কার্যকর হয় না বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, যত পেশা তত ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের আজকের দিনটি ঐতিহাসিক স্মৃতি হিসাবে ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ থাকবে। ষাটের দশক থেকে এদেশে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একদল শ্রমিক নেতা শ্রমিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি হিসাবে বারংবার ব্যবহার করেছে। ফলে শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

সম্মেলনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাওলানা আব্দুল হালিম আগামী তিন বছরের জন্য ৭৫ সদস্যের প্যানেল প্রস্তাব করলে ডেলিগেটরা কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন করেন। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হোন যথাক্রমে বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি লস্কর মো, তসলিম।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, পাবনা-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, শেরপুর-১ আসনের এমপি রাশেদুল ইসলাম, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও বিলস্ এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমদ, শ্রমিক নেতা এ.এ. এম ফয়েজ হোসেন, বাবুল আখতার, প্রভাষক আব্দুল করিমসহ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এছাড়্ওা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


জুলাই বিপ্লবে ৬২ ভাগ শহীদ শ্রমিক : ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জুলাই বিপ্লবে আত্মত্যাগকারী শহীদের ৬২ ভাগ শ্রমিক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলেন নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেন, ২৪ এর বিপ্লবে এদেশ থেকে ফ্যাসিজমের বিনাশ ঘটেছে। এই বিপ্লবে শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে শ্রমিকরা। শ্রমিকের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো বিপ্লব সফল হয় না বলে তিনি উল্লেখ করে বলেন, পৃথিবী ও ইসলামের ইতিহাসে শ্রমিকরা সকল আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, মক্কার জীবনে রাসুল (সা.) এর দক্ষিণ হস্ত ছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও নব্বইয়ের গণ অভ্যুত্থানেও শ্রমিকরা একই ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি আজ রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক এমপি আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এদেশের শ্রমিকদের চাওয়া পাওয়া খুব মামুলী। কিন্তু এদেশের কোনো সরকার আজ পর্যন্ত শ্রমিকদের ন্যূনতম এই দাবিটুকু পূরণ করেনি। মূলত রাষ্ট্র ক্ষমতায় যারা যায় তারা তো সোনার চামুচ নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। ফলে তারা শ্রমিকদের দুঃখ কষ্ট অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়। তিনি বলেন, বামপন্থীরা শ্রেণি সংগ্রাম দমনের নামে মালিক ও উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করেছে। আমি তাদেরকে কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই মালিক যদি না থাকে তাহলে শ্রমিকরা কাজ করবে কোথায়? শ্রমিকদের কর্মসংস্থান কোথায় হবে? তারা মালিক-শ্রমিকের মাঝে বিভেদের দেয়াল তুলতে চাইলেও আমরা মালিক-শ্রমিকের মাঝে ভাইয়ের সম্পর্ক তৈরি করতে চাই। ইসলাম বলে, শ্রমিক-মালিক পরস্পর সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শন করবে। একে অপরের শত্রু হবে না। শ্রমিক বাঁচলে মালিক বাঁচবে। শিল্পও বাঁচবে।

তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, শ্রমিকের সকল দায়িত্ব মালিকের ঘাড়ে চাপিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। মালিক ইনসাফ অনুযায়ী শ্রমিকের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। অবশিষ্ট দায়িত্ব রাষ্ট্রকে গ্রহণ করতে হবে। তিনি সরকারের কাছে শ্রমঘন এলাকায় বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নিতে জোর দাবি জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেন, শ্রমিকদের সকল সমস্যা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন ছাড়া শ্রমিক আন্দোলন কার্যকর হয় না বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, যত পেশা তত ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের আজকের দিনটি ঐতিহাসিক স্মৃতি হিসাবে ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ থাকবে। ষাটের দশক থেকে এদেশে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একদল শ্রমিক নেতা শ্রমিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি হিসাবে বারংবার ব্যবহার করেছে। ফলে শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

সম্মেলনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাওলানা আব্দুল হালিম আগামী তিন বছরের জন্য ৭৫ সদস্যের প্যানেল প্রস্তাব করলে ডেলিগেটরা কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন করেন। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হোন যথাক্রমে বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি লস্কর মো, তসলিম।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, পাবনা-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, শেরপুর-১ আসনের এমপি রাশেদুল ইসলাম, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও বিলস্ এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমদ, শ্রমিক নেতা এ.এ. এম ফয়েজ হোসেন, বাবুল আখতার, প্রভাষক আব্দুল করিমসহ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এছাড়্ওা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত