ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

হেফাজতের মিথ্যাচার ও হুমকির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে হেজবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন



হেফাজতের মিথ্যাচার ও হুমকির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে হেজবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন

হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের কুরুচিপূর্ণ মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির প্রতিবাদে এবং সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ আগষ্ট মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ জেলা রিপোটার্স ক্লাবে জেলা হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা হেযবুত তওহীদ এর সভাপতি মোঃ আরিফ উদ্দিন  । সভাপতিত্ব করে জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রাজু । আরও বক্তব্য রাখেন নারী সম্পাদক কিরণ ইসলাম । আরো উপস্হিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা দপ্তর সম্পাদক উম্মতিযান মাখদুমা অনি ; গণমাধ্যম ও যোগাযোগ সম্পাদক সাজেদা ইসলাম সহ আরো অনেকে। 

সংবাদ সম্মেলনে  বলা হয়, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে। ওই সমাবেশে বক্তারা হেযবুত তওহীদের ইমাম ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক এবং হিংসাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন। তারা হেযবুত তওহীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে দেশ থেকে উৎখাত করা এবং সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নারীদের অবমাননাকর ভাষায় ‘পতিতা’ বলার মতো নজিরবিহীন হুমকি দেন। প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট শর্তের কোনোটিই তারা রক্ষা করেনি। এ ছাড়া ফটিকছড়িতে তাদের পক্ষ থেকে পেশকৃত ৯ দফা দাবিপত্রের ৬ নম্বর দফাতেও হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার অন্যায্য দাবি তোলা হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, এই উগ্রগোষ্ঠীটি হেযবুত তওহীদের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির নীলনকশা করছে। এর আগে উগ্রবাদীদের ইন্ধনে পোরকরা গ্রামে হেযবুত তওহীদের ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের গ্রামের বাড়িতে চারবার সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়েছে। ওই সব হামলায় তাদের দুজন নিরপরাধ সদস্যকে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং শতাধিক সদস্যকে আহত করা হয়। বর্তমানে এই অপতৎপরতার কারণে তাদের হাজার হাজার সদস্য এবং নোয়াখালীতে তাদের স্কুল, হাসপাতাল, খামার ও পোশাক কারখানাসহ অর্ধশতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

বক্তারা বলেন, হেযবুত তওহীদ একটি অরাজনৈতিক সংস্কারমূলক আন্দোলন। আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে তারা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে কাজ করে আসছে। তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রায় ছয় শতাধিক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হলেও গত ৩১ বছরে তাদের কোনো সদস্যই আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হননি, বরং সবাই খালাস পেয়েছেন। তাদের আকিদা ও বিশ্বাস ইসলামের মৌলিক বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালন ও প্রচারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। মূলত হেফাজতে ইসলাম নিজেদের উগ্র এজেন্ডা হাসিল করতে সরকারের ওপর ভর করে এই অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- উসকানি ও ফতোয়া প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মসজিদ ব্যবহার করে উসকানি বন্ধ করা, হেযবুত তওহীদের কার্যালয়, সদস্যদের পরিবার ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের মতপ্রকাশের ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করা।

বক্তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমসহ সচেতন নাগরিকদের উগ্রবাদ, মব সহিংসতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা দেশের সংবিধান, আইনের শাসন ও প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


হেফাজতের মিথ্যাচার ও হুমকির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে হেজবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের কুরুচিপূর্ণ মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির প্রতিবাদে এবং সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ আগষ্ট মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ জেলা রিপোটার্স ক্লাবে জেলা হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা হেযবুত তওহীদ এর সভাপতি মোঃ আরিফ উদ্দিন  । সভাপতিত্ব করে জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রাজু । আরও বক্তব্য রাখেন নারী সম্পাদক কিরণ ইসলাম । আরো উপস্হিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা দপ্তর সম্পাদক উম্মতিযান মাখদুমা অনি ; গণমাধ্যম ও যোগাযোগ সম্পাদক সাজেদা ইসলাম সহ আরো অনেকে। 

সংবাদ সম্মেলনে  বলা হয়, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে। ওই সমাবেশে বক্তারা হেযবুত তওহীদের ইমাম ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক এবং হিংসাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন। তারা হেযবুত তওহীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে দেশ থেকে উৎখাত করা এবং সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নারীদের অবমাননাকর ভাষায় ‘পতিতা’ বলার মতো নজিরবিহীন হুমকি দেন। প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট শর্তের কোনোটিই তারা রক্ষা করেনি। এ ছাড়া ফটিকছড়িতে তাদের পক্ষ থেকে পেশকৃত ৯ দফা দাবিপত্রের ৬ নম্বর দফাতেও হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার অন্যায্য দাবি তোলা হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, এই উগ্রগোষ্ঠীটি হেযবুত তওহীদের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির নীলনকশা করছে। এর আগে উগ্রবাদীদের ইন্ধনে পোরকরা গ্রামে হেযবুত তওহীদের ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের গ্রামের বাড়িতে চারবার সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়েছে। ওই সব হামলায় তাদের দুজন নিরপরাধ সদস্যকে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং শতাধিক সদস্যকে আহত করা হয়। বর্তমানে এই অপতৎপরতার কারণে তাদের হাজার হাজার সদস্য এবং নোয়াখালীতে তাদের স্কুল, হাসপাতাল, খামার ও পোশাক কারখানাসহ অর্ধশতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

বক্তারা বলেন, হেযবুত তওহীদ একটি অরাজনৈতিক সংস্কারমূলক আন্দোলন। আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে তারা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে কাজ করে আসছে। তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রায় ছয় শতাধিক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হলেও গত ৩১ বছরে তাদের কোনো সদস্যই আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হননি, বরং সবাই খালাস পেয়েছেন। তাদের আকিদা ও বিশ্বাস ইসলামের মৌলিক বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালন ও প্রচারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। মূলত হেফাজতে ইসলাম নিজেদের উগ্র এজেন্ডা হাসিল করতে সরকারের ওপর ভর করে এই অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- উসকানি ও ফতোয়া প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মসজিদ ব্যবহার করে উসকানি বন্ধ করা, হেযবুত তওহীদের কার্যালয়, সদস্যদের পরিবার ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের মতপ্রকাশের ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করা।

বক্তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমসহ সচেতন নাগরিকদের উগ্রবাদ, মব সহিংসতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা দেশের সংবিধান, আইনের শাসন ও প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত