নারায়ণগঞ্জে মাদরাসার ৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা: এলাকায় চরম উত্তেজনা
নারায়ণগঞ্জের কাশিপুরের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘জামিয়া কাসিমুল উলূম মাদানিয়া’ আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের শায়খুল হাদীস ও মুহতামিম মুফতি আব্দুস সবুর কাসেমী হাফিযাহুল্লাহকে নিয়ে বিতর্কিত চিঠির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মাদরাসার চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজির শিকদারের উদ্যোগে দায়ের করা এই মামলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
কী ঘটেছিল?
দীর্ঘদিন ধরে ইলম, আমল ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে পরিচিত ব্যক্তিত্ব মুফতি আব্দুস সবুর কাসেমী। প্রতিষ্ঠানের সাবেক মুহতামিমের ইন্তেকালের পর সবার অনুরোধে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তাকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠিতে ‘মাদরাসার জন্য অপ্রয়োজনীয়’ উল্লেখ করার ঘটনায় দ্বীনি অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। সেই বিতর্কের রেশ না কাটতেই সম্প্রতি চারজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো।
সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় আলেম-ওলামা ও সচেতন মহলের মতে, দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারণ ও শরীয়াহ সংক্রান্ত বিষয়ে অভিজ্ঞ আলেমদের মতামতের গুরুত্ব থাকা আবশ্যক। পরিচালনা পর্ষদে সাধারণ মানুষ থাকলেও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মামলা-মোকদ্দমা কাম্য নয় বলে মনে করছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, “মাদরাসা কেবল সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি দ্বীন ও আখলাক গঠনের কেন্দ্র। এখানে বিদ্যমান সংকট নিরসনে মামলা নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও শূরার (পরামর্শ) মাধ্যমে সমাধান প্রয়োজন।”
মাদরাসার ভাবমূর্তি রক্ষার দাবি
এলাকাবাসী ও শুভানুধ্যায়ীদের আশঙ্কা, এই বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সুনাম, শিক্ষার পরিবেশ এবং সামগ্রিক দ্বীনি কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্রুত এই সংঘাতময় পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে মাদরাসায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও ইলমী পরিবেশ অটুট রাখতে পরিচালনা কমিটি ও আলেম সমাজ দ্রুত আলোচনায় বসে সংকটের একটি সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করবেন।
আপনার মতামত লিখুন