ঢাকা   বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

কাশিপুর জামিয়ায় অস্থিরতা চরমে: চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী



কাশিপুর জামিয়ায় অস্থিরতা চরমে: চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী

নারায়ণগঞ্জের কাশিপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া কাসিমুল উলূম মাদানিয়া আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি মাদরাসার স্বনামধন্য শায়খুল হাদীস ও মুহতামিম হযরত মাওলানা মুফতি আব্দুস সবুর কাসেমী হাফিযাহুল্লাহকে ঘিরে একটি বিতর্কিত ও অসম্মানজনক চিঠি প্রকাশের ঘটনায় যে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে চারজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়েরের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজির শিকদারের উদ্যোগে দায়েরকৃত এ মামলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এ ঘটনাকে একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, মুফতি আব্দুস সবুর কাসেমী হাফিযাহুল্লাহর সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ইলম, আমল, আখলাক ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে একজন গ্রহণযোগ্য আলেম হিসেবে পরিচিত। সাবেক মুহতামিমের ইন্তেকালের পর শিক্ষকবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর অনুরোধে তিনি জামিয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আন্তরিকতার সাথে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন।

তাঁদের অভিযোগ, এর আগে তাঁকে "মাদরাসার জন্য অপ্রয়োজনীয়" বলে একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, যা একজন সম্মানিত আলেমের মর্যাদার পরিপন্থী এবং দ্বীনি অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সেই বিতর্কের সমাপ্তি না হতেই চারজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় আলেম-ওলামা ও সচেতন মহলের একাংশ মনে করেন, দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারণ, ইলমী নেতৃত্ব এবং শরিয়তসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ আলেমদের মতামত ও পরামর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষ পরিচালনা কমিটিতে থাকলেও দ্বীন ও শরিয়তের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে আলেমদের সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনাই অধিক গ্রহণযোগ্য হওয়া প্রয়োজন।

তাঁরা আরও বলেন, মাদরাসা কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দ্বীনি ইলম, আখলাক ও আদর্শ গঠনের কেন্দ্র। তাই এখানে উদ্ভূত সংকটের সমাধান মামলা-মোকদ্দমা বা বিরোধ বৃদ্ধির মাধ্যমে নয়, বরং শূরা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আলেমদের সমন্বিত পরামর্শের মাধ্যমে হওয়াই সমীচীন।

এলাকাবাসীর অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চলমান এ বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে মাদরাসার সুনাম, শিক্ষার পরিবেশ এবং দ্বীনি কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাঁরা দ্রুত এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, সকল পক্ষের প্রজ্ঞা, সহনশীলতা ও দ্বীনি দায়িত্ববোধের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠান আবারও তার ইলমী ঐতিহ্য, সুনাম ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অটুট রাখতে সক্ষম হবে।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


কাশিপুর জামিয়ায় অস্থিরতা চরমে: চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের কাশিপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া কাসিমুল উলূম মাদানিয়া আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি মাদরাসার স্বনামধন্য শায়খুল হাদীস ও মুহতামিম হযরত মাওলানা মুফতি আব্দুস সবুর কাসেমী হাফিযাহুল্লাহকে ঘিরে একটি বিতর্কিত ও অসম্মানজনক চিঠি প্রকাশের ঘটনায় যে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে চারজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়েরের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজির শিকদারের উদ্যোগে দায়েরকৃত এ মামলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এ ঘটনাকে একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, মুফতি আব্দুস সবুর কাসেমী হাফিযাহুল্লাহর সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ইলম, আমল, আখলাক ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে একজন গ্রহণযোগ্য আলেম হিসেবে পরিচিত। সাবেক মুহতামিমের ইন্তেকালের পর শিক্ষকবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর অনুরোধে তিনি জামিয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আন্তরিকতার সাথে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন।

তাঁদের অভিযোগ, এর আগে তাঁকে "মাদরাসার জন্য অপ্রয়োজনীয়" বলে একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, যা একজন সম্মানিত আলেমের মর্যাদার পরিপন্থী এবং দ্বীনি অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সেই বিতর্কের সমাপ্তি না হতেই চারজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় আলেম-ওলামা ও সচেতন মহলের একাংশ মনে করেন, দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারণ, ইলমী নেতৃত্ব এবং শরিয়তসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ আলেমদের মতামত ও পরামর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষ পরিচালনা কমিটিতে থাকলেও দ্বীন ও শরিয়তের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে আলেমদের সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনাই অধিক গ্রহণযোগ্য হওয়া প্রয়োজন।

তাঁরা আরও বলেন, মাদরাসা কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দ্বীনি ইলম, আখলাক ও আদর্শ গঠনের কেন্দ্র। তাই এখানে উদ্ভূত সংকটের সমাধান মামলা-মোকদ্দমা বা বিরোধ বৃদ্ধির মাধ্যমে নয়, বরং শূরা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আলেমদের সমন্বিত পরামর্শের মাধ্যমে হওয়াই সমীচীন।

এলাকাবাসীর অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চলমান এ বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে মাদরাসার সুনাম, শিক্ষার পরিবেশ এবং দ্বীনি কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাঁরা দ্রুত এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, সকল পক্ষের প্রজ্ঞা, সহনশীলতা ও দ্বীনি দায়িত্ববোধের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠান আবারও তার ইলমী ঐতিহ্য, সুনাম ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অটুট রাখতে সক্ষম হবে।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত