ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

​আড়াইহাজারে কুমির আতঙ্ক: এলাকায় মাইকিং


বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
| ফটো কার্ড

​আড়াইহাজারে কুমির আতঙ্ক: এলাকায় মাইকিং

ইউসুফ আলী প্রধান নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মেঘনা নদীর শাখা নদীতে বিশাল এক কুমিরের সন্ধান পাওয়ার খবরে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নদী পারাপার ও গোসল করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকাল ৭:৩০ মিনিটের দিকে আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের জাংগালিয়া চেঙ্গাকান্দীপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মোঃ মাহফুজ সকালের মক্তব পড়ানো শেষ করে মসজিদ ঘাটে যান। ঘাট থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে নদীর মাঝখানে তিনি প্রথম কুমিরটিকে ভাসতে দেখেন।

​ঘটনার বিবরণ দিয়ে মুয়াজ্জিন মোঃ মাহফুজ বলেন ​"আমি নদীর মাঝখানে কুমিরটি দেখতে পেয়ে মোবাইল বের করে ছবি তোলার চেষ্টা করি। ছবি তুলতে তুলতেই কুমিরটি পানিতে অদৃশ্য হয়ে যায়। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই সেটি দ্রুত ঘাটের একদম কাছাকাছি এসে ভেসে ওঠে। তখন আমি ভয় পেয়ে যাই, তবে সাহস করে ছবি তুলি। পরে দ্রুত এলাকাবাসীকে বিষয়টি জানাই এবং সবাইকে সতর্ক করতে এলাকায় মাইকিং করার ব্যবস্থা করি।"

​মুয়াজ্জিন মাহফুজ কুমিরের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড দিলে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অনেকেই ছবিটিকে ভুয়া বা অন্য কোনো জায়গার বলে দাবি করেন।

​ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে স্থানীয় নিউজ পোর্টাল 'আড়াইহাজার টাইমস'-এর সম্পাদক ও সাংবাদিক নজরুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যান। তিনি ছবিটির সাথে ঘটনাস্থলের ব্যাকগ্রাউন্ড মিলিয়ে দেখতে 'জিওগ্রাফিক্যাল ম্যাচ' (ভৌগোলিক অবস্থান পরীক্ষা) করেন এবং ছবিটির সাথে পরিবেশের সম্পূর্ণ মিল খুঁজে পান। ফলে ছবিটির সত্যতা শতভাগ নিশ্চিত হয়।

​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে ৭জুলাই মঙ্গলবার সকালেও একই নদীর উচিৎপুরা বাজার এলাকায় একাধিক ব্যক্তি কুমিরটিকে ভাসতে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন। ফলে পুরো ইউনিয়ন জুড়ে এখন নতুন করে কুমির আতঙ্ক ভর করেছে।

উল্লেখ্য, মূল মেঘনা নদী থেকে এই ঘটনাস্থল তথা শাখা নদীটির দূরত্ব প্রায় ২ কিলোমিটার। স্থানীয় পরিবেশবিদ ও প্রবীণদের মতে, বর্ষা মৌসুমে নদীতে নতুন জোয়ারের পানি আসায় মূল নদী থেকে কুমির বা এই জাতীয় বন্যপ্রাণী শাখা নদীতে চলে আসা একদমই অসম্ভব কিছু নয়। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আড়াইহাজার উপজেলা প্রানীসম্পদ কর্মকর্তা আবু কাউছার জানান এই বিষয়টি আমাকে কেউই জানায়নি। তবে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবো।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


​আড়াইহাজারে কুমির আতঙ্ক: এলাকায় মাইকিং

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image


ইউসুফ আলী প্রধান নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মেঘনা নদীর শাখা নদীতে বিশাল এক কুমিরের সন্ধান পাওয়ার খবরে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নদী পারাপার ও গোসল করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।


​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকাল ৭:৩০ মিনিটের দিকে আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের জাংগালিয়া চেঙ্গাকান্দীপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মোঃ মাহফুজ সকালের মক্তব পড়ানো শেষ করে মসজিদ ঘাটে যান। ঘাট থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে নদীর মাঝখানে তিনি প্রথম কুমিরটিকে ভাসতে দেখেন।


​ঘটনার বিবরণ দিয়ে মুয়াজ্জিন মোঃ মাহফুজ বলেন ​"আমি নদীর মাঝখানে কুমিরটি দেখতে পেয়ে মোবাইল বের করে ছবি তোলার চেষ্টা করি। ছবি তুলতে তুলতেই কুমিরটি পানিতে অদৃশ্য হয়ে যায়। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই সেটি দ্রুত ঘাটের একদম কাছাকাছি এসে ভেসে ওঠে। তখন আমি ভয় পেয়ে যাই, তবে সাহস করে ছবি তুলি। পরে দ্রুত এলাকাবাসীকে বিষয়টি জানাই এবং সবাইকে সতর্ক করতে এলাকায় মাইকিং করার ব্যবস্থা করি।"


​মুয়াজ্জিন মাহফুজ কুমিরের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড দিলে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অনেকেই ছবিটিকে ভুয়া বা অন্য কোনো জায়গার বলে দাবি করেন।


​ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে স্থানীয় নিউজ পোর্টাল 'আড়াইহাজার টাইমস'-এর সম্পাদক ও সাংবাদিক নজরুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যান। তিনি ছবিটির সাথে ঘটনাস্থলের ব্যাকগ্রাউন্ড মিলিয়ে দেখতে 'জিওগ্রাফিক্যাল ম্যাচ' (ভৌগোলিক অবস্থান পরীক্ষা) করেন এবং ছবিটির সাথে পরিবেশের সম্পূর্ণ মিল খুঁজে পান। ফলে ছবিটির সত্যতা শতভাগ নিশ্চিত হয়।


​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে ৭জুলাই মঙ্গলবার সকালেও একই নদীর উচিৎপুরা বাজার এলাকায় একাধিক ব্যক্তি কুমিরটিকে ভাসতে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন। ফলে পুরো ইউনিয়ন জুড়ে এখন নতুন করে কুমির আতঙ্ক ভর করেছে।


উল্লেখ্য, মূল মেঘনা নদী থেকে এই ঘটনাস্থল তথা শাখা নদীটির দূরত্ব প্রায় ২ কিলোমিটার। স্থানীয় পরিবেশবিদ ও প্রবীণদের মতে, বর্ষা মৌসুমে নদীতে নতুন জোয়ারের পানি আসায় মূল নদী থেকে কুমির বা এই জাতীয় বন্যপ্রাণী শাখা নদীতে চলে আসা একদমই অসম্ভব কিছু নয়। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


আড়াইহাজার উপজেলা প্রানীসম্পদ কর্মকর্তা আবু কাউছার জানান এই বিষয়টি আমাকে কেউই জানায়নি। তবে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবো।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত