ঢাকা   রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

কলেজ ছাত্রের রগ কাটার ঘটনায় কথিত যুবদল নেতাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা



কলেজ ছাত্রের রগ কাটার ঘটনায় কথিত যুবদল নেতাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ৫ লাখ টাকার চাঁদাদাবীকে কেন্দ্রে করে  এক কলেজ ছাত্রের পায়ের রগ কেটে গুরুতর জখম করার ঘটনায় কথিত যুবদল নেতাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে ভুক্তভোগী'র চাচা আলমগীর হোসেন মামলা রুজু করেন। যার নং- ২৬(৪)২৬ইং।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বন্দর থানাধীন জিওধরা এলাকায় মোঃ আলমগীর হোসেন (৫২) তার মালিকানাধীন জমিতে ভেকু দিয়ে বালু ভরাটের কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা কাজ বন্ধ করে দেয় এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি প্রদান করে।

এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলে গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুরে আলমগীর হোসেনের বড় ভাই মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৫৫) আল মদিনা জামে মসজিদের সামনে গেলে অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ করে। তিনি বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়।

পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর হোসেনের ডাক চিৎকারে তার ভাতিজা কলেজ ছাত্র মোঃ আব্দুর রহমান আসিফ এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে এক অভিযুক্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বাম পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে অন্যরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় বন্দর থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— মোঃ পারভেজ (২২), মোঃ জয়নাল (২৮), মোঃ সজীব (২৫), মোঃ মানিক (৪০), মোঃ দ্বীন ইসলাম (৩৬), মোঃ সাদ্দাম (২২), মোঃ মারুফ (২২), শাহ আলম ওরফে জুবায়েদ আলম, আরিফ (২৮) ও আরাফাত (১৯)।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ,  বর্তমান সময়ে সরকারদলীয় পরিচয় ব্যবহার করে মামলার ৫ নম্বর আসামি দ্বীন ইসলাম ও তার অনুসারীরা চাঁদাবাজি, হামলা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এতে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দ্বীন ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠরা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিল এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে নিজেদের দলীয় পরিচয় বদলের চেষ্টা করে। এভাবে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তথ্যসূত্রে জানা গেছে, দ্বীন ইসলাম ও তার সহযোগীরা আগে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা নিজেদের যুবদল নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। এ সময় তারা উঠতি বয়সী কিছু তরুণকে নিয়ে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তোলে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জিওধরা চৌরাস্তা এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মাহাবুবকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও প্রভাব খাটিয়ে তারা আইনের আওতার বাইরে থেকে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।

এছাড়া ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর একই এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি নেতা সাহাদাত হোসেনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


কলেজ ছাত্রের রগ কাটার ঘটনায় কথিত যুবদল নেতাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ৫ লাখ টাকার চাঁদাদাবীকে কেন্দ্রে করে  এক কলেজ ছাত্রের পায়ের রগ কেটে গুরুতর জখম করার ঘটনায় কথিত যুবদল নেতাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে ভুক্তভোগী'র চাচা আলমগীর হোসেন মামলা রুজু করেন। যার নং- ২৬(৪)২৬ইং।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বন্দর থানাধীন জিওধরা এলাকায় মোঃ আলমগীর হোসেন (৫২) তার মালিকানাধীন জমিতে ভেকু দিয়ে বালু ভরাটের কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা কাজ বন্ধ করে দেয় এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি প্রদান করে।


এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলে গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুরে আলমগীর হোসেনের বড় ভাই মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৫৫) আল মদিনা জামে মসজিদের সামনে গেলে অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ করে। তিনি বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়।


পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর হোসেনের ডাক চিৎকারে তার ভাতিজা কলেজ ছাত্র মোঃ আব্দুর রহমান আসিফ এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে এক অভিযুক্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বাম পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে অন্যরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে।


পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


এ ঘটনায় বন্দর থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— মোঃ পারভেজ (২২), মোঃ জয়নাল (২৮), মোঃ সজীব (২৫), মোঃ মানিক (৪০), মোঃ দ্বীন ইসলাম (৩৬), মোঃ সাদ্দাম (২২), মোঃ মারুফ (২২), শাহ আলম ওরফে জুবায়েদ আলম, আরিফ (২৮) ও আরাফাত (১৯)।


 


স্থানীয়দের অভিযোগ,  বর্তমান সময়ে সরকারদলীয় পরিচয় ব্যবহার করে মামলার ৫ নম্বর আসামি দ্বীন ইসলাম ও তার অনুসারীরা চাঁদাবাজি, হামলা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এতে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দ্বীন ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠরা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিল এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে নিজেদের দলীয় পরিচয় বদলের চেষ্টা করে। এভাবে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।


তথ্যসূত্রে জানা গেছে, দ্বীন ইসলাম ও তার সহযোগীরা আগে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা নিজেদের যুবদল নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। এ সময় তারা উঠতি বয়সী কিছু তরুণকে নিয়ে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তোলে বলেও অভিযোগ রয়েছে।


অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জিওধরা চৌরাস্তা এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মাহাবুবকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও প্রভাব খাটিয়ে তারা আইনের আওতার বাইরে থেকে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।


এছাড়া ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর একই এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি নেতা সাহাদাত হোসেনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।


তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ আল মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত