ঢাকা   সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

ফতুল্লায় খাসজমি ও ফুটপাতে চাঁদাবাজির রাজত্ব: নেপথ্যে মিন্টু মেম্বার ও সেন্টু চেয়ারম্যানের সিন্ডিকেট



ফতুল্লায় খাসজমি ও ফুটপাতে চাঁদাবাজির রাজত্ব: নেপথ্যে মিন্টু মেম্বার ও সেন্টু চেয়ারম্যানের সিন্ডিকেট
ফতুল্লায় খাসজমি ও ফুটপাতে চাঁদাবাজির রাজত্ব

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুইঘর বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘিরে গড়ে উঠেছে চাঁদাবাজির এক ভয়াবহ সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় মিন্টু মেম্বার ফ্লাইওভারের নিচে ও রাস্তার পশ্চিম পাশের সরকারি খাসজমিতে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাঁদা আদায় করছেন। এই অবৈধ দখলদারিত্বের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে এবং নিয়মিত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

ফুটপাত দখল ও জনদুর্ভোগ

ভুইঘর বাসস্ট্যান্ডের ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। জননিরাপত্তার জন্য থাকা ফুটপাতগুলো এখন বেদখল হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিন্টু মেম্বার ফুটপাত ভাড়া দিয়ে এই চাঁদা তুলছেন। অবৈধ দোকানপাটের কারণে পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছেন না, ফলে তাদের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

মিন্টুর নেপথ্যে 'সেন্টু চেয়ারম্যান'র ছায়া

অভিযুক্ত মিন্টু মেম্বার বর্তমানে আত্মগোপনে থাকলেও তার নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট ঠিকই নিয়মিত চাঁদা তুলে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, মিন্টু মেম্বার খাসজমিকে নিজেদের জমি দাবি করে এই বেআইনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ভয়ের সংস্কৃতি ও প্রভাবশালীদের যোগসাজশের কারণে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই পুরো অপকর্মের পেছনে রয়েছে স্থানীয় সেন্টু চেয়ারম্যানের আশীর্বাদ। রাজনৈতিক পালাবদলে খোলস পাল্টানোয় ওস্তাদ এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বিএনপির আমলে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের আমলে আওয়ামী লীগের দোসরে পরিণত হয়েছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি পুনরায় বিএনপিতে আশ্রয় নিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, কুতুবপুরে ফ্যাসিবাদের দোসররা সেন্টু চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় থেকেই সব ধরণের অপরাধ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনায় এলাকাবাসী

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “আমরা আতঙ্কে আছি। রাস্তা দখল করে চাঁদাবাজি চলছে, প্রশাসন সব দেখেও নিরব। সেন্টু চেয়ারম্যানের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এরা এলাকায় রাজত্ব কায়েম করেছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬


ফতুল্লায় খাসজমি ও ফুটপাতে চাঁদাবাজির রাজত্ব: নেপথ্যে মিন্টু মেম্বার ও সেন্টু চেয়ারম্যানের সিন্ডিকেট

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুইঘর বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘিরে গড়ে উঠেছে চাঁদাবাজির এক ভয়াবহ সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় মিন্টু মেম্বার ফ্লাইওভারের নিচে ও রাস্তার পশ্চিম পাশের সরকারি খাসজমিতে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাঁদা আদায় করছেন। এই অবৈধ দখলদারিত্বের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে এবং নিয়মিত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

ফুটপাত দখল ও জনদুর্ভোগ

ভুইঘর বাসস্ট্যান্ডের ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। জননিরাপত্তার জন্য থাকা ফুটপাতগুলো এখন বেদখল হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিন্টু মেম্বার ফুটপাত ভাড়া দিয়ে এই চাঁদা তুলছেন। অবৈধ দোকানপাটের কারণে পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছেন না, ফলে তাদের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

মিন্টুর নেপথ্যে 'সেন্টু চেয়ারম্যান'র ছায়া

অভিযুক্ত মিন্টু মেম্বার বর্তমানে আত্মগোপনে থাকলেও তার নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট ঠিকই নিয়মিত চাঁদা তুলে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, মিন্টু মেম্বার খাসজমিকে নিজেদের জমি দাবি করে এই বেআইনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ভয়ের সংস্কৃতি ও প্রভাবশালীদের যোগসাজশের কারণে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই পুরো অপকর্মের পেছনে রয়েছে স্থানীয় সেন্টু চেয়ারম্যানের আশীর্বাদ। রাজনৈতিক পালাবদলে খোলস পাল্টানোয় ওস্তাদ এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বিএনপির আমলে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের আমলে আওয়ামী লীগের দোসরে পরিণত হয়েছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি পুনরায় বিএনপিতে আশ্রয় নিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, কুতুবপুরে ফ্যাসিবাদের দোসররা সেন্টু চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় থেকেই সব ধরণের অপরাধ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনায় এলাকাবাসী

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “আমরা আতঙ্কে আছি। রাস্তা দখল করে চাঁদাবাজি চলছে, প্রশাসন সব দেখেও নিরব। সেন্টু চেয়ারম্যানের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এরা এলাকায় রাজত্ব কায়েম করেছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত