ঢাকা   রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

​সৌদি আরবে দুর্ঘটনার কবলে জুনায়েদ সাকির কর্মী মনির হোসেন



​সৌদি আরবে দুর্ঘটনার কবলে জুনায়েদ সাকির কর্মী মনির হোসেন
জুনায়েদ সাকি ও মনির হোসেন

উন্নত জীবনের আশায় বিদেশ পাড়ি দেওয়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা ও গণসংহতি আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী মনির হোসেন সৌদি আরবে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে পঙ্গুত্ববরণ করে মানবেতর দিন কাটানো মনিরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সরকারি মহলের মানবিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবার।

মনির হোসেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ভান্ডারীপুল এলাকার নয়াপাড়া মহল্লায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। চার সদস্যের অভাব-অনটনের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রায় দুই বছর আগে সৌদি আরবে পারি জমান তিনি। বাংলাদেশে থাকাকালীন মনির হোসেন জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বাধীন গণসংহতি আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। নারায়ণগঞ্জের রাজপথের মিছিল-মিটিং থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—সবক্ষেত্রেই সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে পা রাখার পর দালাল চক্রের প্রতারণার শিকার হন মনির। বৈধ আকামা না থাকায় নিরুপায় হয়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হতো তাকে। একপর্যায়ে একটি ভবনের নির্মাণ কাজ করার সময় দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে পড়ে যান তিনি। এতে তার হাত-পা ভেঙে যাওয়াসহ মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি শয্যাশায়ী। স্থানীয় কিছু প্রবাসীর সহায়তায় প্রাথমিক চিকিৎসা পেলেও, আকামাহীন অবস্থায় উন্নত চিকিৎসা বা দেশে ফেরার খরচ বহন করা তার পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকলেও দলীয় পর্যায় থেকে তার কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। তারা বলছেন, "যে মনির জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের জন্য রাজপথে নেমেছিল, আজ সে বিদেশের মাটিতে মৃত্যুর প্রহর গুনছে, অথচ দলের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।"

​এলাকাবাসী ও স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, বর্তমান সরকারে গণসংহতি আন্দোলনের অংশগ্রহণ রয়েছে এবং দল থেকে একজন প্রতিমন্ত্রীও দায়িত্ব পালন করছেন। এই পরিস্থিতিতে দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতারা উদ্যোগ নিলে সরকারি কূটনৈতিক সহায়তায় খুব সহজেই মনিরকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনিরের স্বজনরা বলেন, "সে দলের জন্য সবসময় নিবেদিত ছিল। আজ সে বিপদে পড়ে নিঃস্ব। আমরা দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে আকুল আবেদন জানাই, আপনারা দয়া করে আমাদের বিষয়টি আমলে নিন এবং মনিরকে অন্তত চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন।"

​নিজের দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর এমন সংকটাপন্ন অবস্থায় দ্রুত রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের বিশ্বাস, সরকার ও দলের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে পঙ্গু এই কর্মীকে পরিবার আপনজনের মাঝে ফিরে পাবে।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


​সৌদি আরবে দুর্ঘটনার কবলে জুনায়েদ সাকির কর্মী মনির হোসেন

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

উন্নত জীবনের আশায় বিদেশ পাড়ি দেওয়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা ও গণসংহতি আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী মনির হোসেন সৌদি আরবে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে পঙ্গুত্ববরণ করে মানবেতর দিন কাটানো মনিরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সরকারি মহলের মানবিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবার।

মনির হোসেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ভান্ডারীপুল এলাকার নয়াপাড়া মহল্লায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। চার সদস্যের অভাব-অনটনের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রায় দুই বছর আগে সৌদি আরবে পারি জমান তিনি। বাংলাদেশে থাকাকালীন মনির হোসেন জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বাধীন গণসংহতি আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। নারায়ণগঞ্জের রাজপথের মিছিল-মিটিং থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—সবক্ষেত্রেই সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে পা রাখার পর দালাল চক্রের প্রতারণার শিকার হন মনির। বৈধ আকামা না থাকায় নিরুপায় হয়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হতো তাকে। একপর্যায়ে একটি ভবনের নির্মাণ কাজ করার সময় দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে পড়ে যান তিনি। এতে তার হাত-পা ভেঙে যাওয়াসহ মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি শয্যাশায়ী। স্থানীয় কিছু প্রবাসীর সহায়তায় প্রাথমিক চিকিৎসা পেলেও, আকামাহীন অবস্থায় উন্নত চিকিৎসা বা দেশে ফেরার খরচ বহন করা তার পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকলেও দলীয় পর্যায় থেকে তার কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। তারা বলছেন, "যে মনির জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের জন্য রাজপথে নেমেছিল, আজ সে বিদেশের মাটিতে মৃত্যুর প্রহর গুনছে, অথচ দলের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।"

​এলাকাবাসী ও স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, বর্তমান সরকারে গণসংহতি আন্দোলনের অংশগ্রহণ রয়েছে এবং দল থেকে একজন প্রতিমন্ত্রীও দায়িত্ব পালন করছেন। এই পরিস্থিতিতে দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতারা উদ্যোগ নিলে সরকারি কূটনৈতিক সহায়তায় খুব সহজেই মনিরকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনিরের স্বজনরা বলেন, "সে দলের জন্য সবসময় নিবেদিত ছিল। আজ সে বিপদে পড়ে নিঃস্ব। আমরা দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে আকুল আবেদন জানাই, আপনারা দয়া করে আমাদের বিষয়টি আমলে নিন এবং মনিরকে অন্তত চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন।"

​নিজের দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর এমন সংকটাপন্ন অবস্থায় দ্রুত রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের বিশ্বাস, সরকার ও দলের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে পঙ্গু এই কর্মীকে পরিবার আপনজনের মাঝে ফিরে পাবে।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত