ঢাকা   শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

বোরকা ও হিজাব নিয়ে সংসদ সদস্যের কটূক্তির প্রতিবাদে হেফাজতের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ



বোরকা ও হিজাব নিয়ে সংসদ সদস্যের কটূক্তির প্রতিবাদে হেফাজতের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ
বোরকা ও হিজাব নিয়ে সংসদ সদস্যের কটূক্তির প্রতিবাদে হেফাজতের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ

জাতীয় সংসদে মুসলিম নারীদের ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক বোরকা ও হিজাব নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর করা মন্তব্যকে ‘কটূক্তিকর ও অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়খ সাজিদুর রহমান।

সোমবার (১৫ জুন) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই প্রতিবাদ জানান।

‘এটি দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ’

বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যের মুখ থেকে ইসলামের ফরজ বিধান ও নারীদের শালীন পোশাক নিয়ে এ ধরনের বিদ্রূপাত্মক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং ধর্মীয় বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে নারীদের ধর্মীয় পোশাক নিয়ে উপহাস করাকে তারা ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের চরম পর্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা আরও বলেন, এ ধরনের আচরণ সভ্য ও শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।

‘তৌহিদী জনতার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে’

হেফাজত নেতারা কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বোরকা ও হিজাব মুসলিম নারীদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় মৌলিক অধিকার। ইসলামের এই অকাট্য বিধান নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও তামাশা কোটি কোটি তৌহিদী জনতার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ইসলামের চেতনা ও সংস্কৃতির ওপর কোনো ধরনের আঘাত বরদাশত করা হবে না।

সংসদকে ইসলামবিদ্বেষী এজেন্ডার আখড়া না বানানোর আহ্বান

জাতীয় সংসদকে দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী পবিত্র প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে নেতৃদ্বয় প্রশ্ন রাখেন, সেখানে দাঁড়িয়ে এমন ইসলামবিদ্বেষী ও উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করে জনগণের কাছে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে? ব্যক্তিগত পোশাক বা ধর্মীয় পরিচয়কে টার্গেট করে বিষোদগারকে বিকৃত মানসিকতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেন, সংসদকে কোনো নির্দিষ্ট মহলের ইসলামবিদ্বেষী এজেন্ডা বাস্তবায়নের আখড়া বানাতে দেওয়া যাবে না।

ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম

বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা অনতিবিলম্বে মনিরুল হক চৌধুরীকে তার ‘আপত্তিকর ও ধৃষ্টতাপূর্ণ’ বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার জোর দাবি জানান। অন্যথায়, ঈমান ও আমলের সুরক্ষায় দেশের তৌহিদী জনতা রাজপথে কঠোর জবাব দিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি প্রদান করেন তারা। পরিশেষে, জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান হেফাজতের শীর্ষ এই নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬


বোরকা ও হিজাব নিয়ে সংসদ সদস্যের কটূক্তির প্রতিবাদে হেফাজতের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদে মুসলিম নারীদের ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক বোরকা ও হিজাব নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর করা মন্তব্যকে ‘কটূক্তিকর ও অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়খ সাজিদুর রহমান।

সোমবার (১৫ জুন) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই প্রতিবাদ জানান।

‘এটি দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ’

বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যের মুখ থেকে ইসলামের ফরজ বিধান ও নারীদের শালীন পোশাক নিয়ে এ ধরনের বিদ্রূপাত্মক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং ধর্মীয় বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে নারীদের ধর্মীয় পোশাক নিয়ে উপহাস করাকে তারা ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের চরম পর্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা আরও বলেন, এ ধরনের আচরণ সভ্য ও শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।

‘তৌহিদী জনতার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে’

হেফাজত নেতারা কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বোরকা ও হিজাব মুসলিম নারীদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় মৌলিক অধিকার। ইসলামের এই অকাট্য বিধান নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও তামাশা কোটি কোটি তৌহিদী জনতার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ইসলামের চেতনা ও সংস্কৃতির ওপর কোনো ধরনের আঘাত বরদাশত করা হবে না।

সংসদকে ইসলামবিদ্বেষী এজেন্ডার আখড়া না বানানোর আহ্বান

জাতীয় সংসদকে দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী পবিত্র প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে নেতৃদ্বয় প্রশ্ন রাখেন, সেখানে দাঁড়িয়ে এমন ইসলামবিদ্বেষী ও উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করে জনগণের কাছে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে? ব্যক্তিগত পোশাক বা ধর্মীয় পরিচয়কে টার্গেট করে বিষোদগারকে বিকৃত মানসিকতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেন, সংসদকে কোনো নির্দিষ্ট মহলের ইসলামবিদ্বেষী এজেন্ডা বাস্তবায়নের আখড়া বানাতে দেওয়া যাবে না।

ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম

বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা অনতিবিলম্বে মনিরুল হক চৌধুরীকে তার ‘আপত্তিকর ও ধৃষ্টতাপূর্ণ’ বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার জোর দাবি জানান। অন্যথায়, ঈমান ও আমলের সুরক্ষায় দেশের তৌহিদী জনতা রাজপথে কঠোর জবাব দিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি প্রদান করেন তারা। পরিশেষে, জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান হেফাজতের শীর্ষ এই নেতৃবৃন্দ।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত