মদনপুরে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের সহায়তায় বিএনপি নেতা হিরনের মার্কেট দখল
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মদনপুর এলাকায় একতা সুপার মার্কেট নামে একটি সমবায় ভিত্তিতে পরিচালিত মার্কেট ও পরিচালনা কমিটির কার্যালয় দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরন এর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এর ছেলে ও রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশার নাম ভাঙ্গিয়ে উক্ত মার্কেটটি দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই মার্কেটের মালিকপক্ষ সমবায় সমিতির সদস্যরা।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর উক্ত মার্কেটটি দখল নেন হিরন ও তার ভাগিনা সাকিব রায়হানের সন্ত্রাসী বাহিনী। দখলের পর থেকে সেখানে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে মার্কেটে বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা প্রতিদিন নিজে মার্কেটে অবস্থান করছে, রাত হলে মার্কেটের ছাদ থেকে ফাকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাখছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
সোমবার ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর মদনপুর স্ট্যান্ড এলাকায় একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে একতা সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর নেতৃবৃন্দ মার্কেটের ভুক্তভোগী দোকান মালিকেরা সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে একতা সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় লিমিটেড এর সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক আব্দুল মতিন বলেন, ১৯৯৭ সালে মদনপুরে ১০১জন সদস্য সম্পূর্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১১৪শতাংশ জমি প্রতেক্যের নিজ নিজ নামে সমান ভাবে ক্রয় ও নিজ নামে খারিজ করেন। পরবর্তীতে উক্ত জমির উপরে বহুতল মার্কেট নির্মাণ এর ইচ্ছায় ১০১জন সদস্য নিজেদের মধ্যে একটি সমবায় সমিতি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ২০০০ সালে একতা সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামক একটি সমবায় সমিতি গঠন করেন যার নিবন্ধন নাম্বার ৩৩৬। উক্ত সমিতি শুধুমাত্র মার্কেট পরিচালনার জন্য গঠন করা হয়। সমিতি কখনও মার্কেটের মালিক ছিলনা এখনও নাই। ২০০০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সমবায় আইন অনুযায়ী ১২ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে সমিতি পারিচালিত হয়ে আসছিলো। বিধান অনুযায়ী প্রতি ৩ বছর পর পর ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচিত হবে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২০২৭ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রয়েছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দলীয় সন্ত্রাসী খলিল মেম্বারকে সাথে নিয়ে বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরন এর নেতৃত্বে ২০০ শতাধিক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মার্কেটে প্রবেশ করে এবং সমিতির অফিস দখল করে নেয়। তারা সমিতির নির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সদস্য এবং মার্কেটের ম্যানেজার ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তরক্ষীদের মারধর করে। সিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর সহ অফিসে রক্ষিত থাকা নগদ অর্থ সহ সমিতির গুরুত্বপূর্ন নথি নষ্ট করে।
তিনি আরো বলেন, এরপর থেকে মার্কেটে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে মহড়া সহ মার্কেটটি দখলে রেখে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে জোড়পূর্বক ভাড়া আদায় করছে। অন্যথায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া মার্কেটের নিচ তলায় অবস্থিত মায়মুনা ড্রাগ হাউজ এর মালিক ও মদনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কাবিল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার দোকানে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা মালামাল রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর যেদিন মার্কেট দখল করা হয় সেদিন আমাদের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের ছেলে আবু কাউসার আশা, সাথে কিছু বিএনপির লোক এবং কিছু বহিরাগত লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মার্কেটে প্রবেশ করে। ওইদিনও আমার দোকান খোলা ছিল। ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল পর্যন্ত আমি দোকান করেছি। বিকেলের পর আমার দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত বন্ধ আছে। দোকান খোলার কথা বললে বলে চাঁদা দিলে দোকান খুলতে পারবা। আমি নারায়ণগঞ্জের এসপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করছি। হিরন বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে এসব কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
একতা সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সুপারভাইজারের দায়িত্বে থাকা মদনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়া জানান, আমি বিএনপি করি, আমার পুরো বংশ বিএনপি করে। বিএনপি করতে গিয়ে আমি ১১টি মামলার আসামি হয়েছি। মামলা চালাতে গিয়ে আমি আমার ১৭টি গাড়ি বিক্রি করেছি। এখন আমি একতা সুপার মার্কেটের সুপারভাইজারের চাকরি করতাম। আজকে তারা বিএনপি করে আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে অস্ত্রশস্ত্র সহ এসে মার্কেট দখল করলো। প্রতিদিন রাতে এই মার্কেট উপর থেকে শত শত রাউন্ড গুলি ছুড়া হয়। তারা মাদক বিক্রি করে। এই দোসরদের নির্মূল না করে তাদেরকে সাথে নিয়ে আমাদের এমপির ছেলেকে নিয়ে এই একতা মার্কেটটি দখল করে নিয়েছে। তারা মার্কেটে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেয়। আমাদের বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরন এসব করাচ্ছে। আমি আমার দলের পক্ষ থেকে একতা মার্কেট সহ আশেপাশের এলাকার সকল মানুষের নিরাপত্তা চাই। তাদের প্রত্যেকের কাছে অস্ত্র রয়েছে। ইস্ট টাউনে সার্কেল এসপি থাকেন তিনিও প্রতি রাতে গুলি আওয়াজ পান। আমরা বিএনপি করেও আজকে আওয়ামী লীগের দোসর খলিল মেম্বারের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছি। বিএনপি সভাপতি হিরন তাদের দিয়ে এসব করাচ্ছে। আমি আমার মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ সহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে আমরা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
আপনার মতামত লিখুন