বন্দরে আবারো সক্রিয় আজমেরী ওসমানের ‘হোন্ডা বাহিনী’: আতঙ্কে এলাকাবাসী
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে আত্মগোপনে থাকা আজমেরী ওসমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত দুর্ধর্ষ ‘হোন্ডা বাহিনী’। নিষিদ্ধ সংগঠনের দাপুটে নেতা ও সাবেক পদস্থ ক্যাডারদের সমন্বয়ে গঠিত এই চক্রটি নতুন কৌশলে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
‘ডাবল গেম’-এর অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, মহানগর সৈনিক লীগের সহ-সভাপতি আলমগীর এবং যুবলীগ নেতা সাজু—এই দুই সহোদর বর্তমানে ‘ডাবল গেম’ খেলছেন। অভিযোগ রয়েছে, দিনের আলোতে তারা বন্দর উপজেলা বিএনপি নেতা মোমেনের সান্নিধ্যে থেকে নিজেদের রাজনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন। কৌশলে বিএনপির আদর্শে মিশে যাওয়ার অভিনয় করলেও নেপথ্যে তারা আজমেরী ওসমানের নির্দেশনায় নাশকতার নীল নকশা তৈরিতে ব্যস্ত।
মূলত আগামী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বন্দরে বড় ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে এই সিন্ডিকেটের।
আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছেন শামসুজ্জোহা
এই পুরো চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করছেন তাদের আরেক ভাই ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি শামসুজ্জোহা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাতারাতি ‘বিএনপি নেতা’ পরিচয়ে ক্ষমতাসীন বলয়ে ঢোকার চেষ্টা করছেন। মূলত দুই ভাই আলমগীর ও সাজুকে আইনি সুরক্ষা দিতেই তিনি এই রাজনৈতিক ঢাল ব্যবহার করছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।
ছাত্র-জনতার মাঝে ক্ষোভ
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে আজমেরী ওসমানের নির্দেশে আলমগীর ও সাজু তাদের ‘হোন্ডা বাহিনী’ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পৈশাচিক তাণ্ডব চালিয়েছিল। রাজপথে অস্ত্র হাতে রক্ত ঝরানো এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় ছাত্র-জনতা ও স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
বন্দরের উত্তর অঞ্চলসহ পুরো এলাকাকে নিরাপদ রাখতে এই ‘রাজনৈতিক গিরগিটি’ ও নাশকতার পরিকল্পনাকারীদের এখনই রুখে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অবিলম্বে শামসুজ্জোহা, আলমগীর ও সাজুকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এই চক্রটিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে বন্দরের শান্ত পরিবেশ যেকোনো সময় রক্তাক্ত হতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন