বন্দরে মাদক ব্যবসায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতা: ৩ এসআই বদলি, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
‘পুলিশের শেল্টারে ৫০ মাদক স্পটে রমরমা ব্যবসা’—বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানা প্রশাসন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বন্দর থানা থেকে এসআই মনির হোসেন, এসআই শহিদুল ইসলাম ও এসআই ফারুককে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। এছাড়া আরও দুই এসআই, ইদ্রিস ও মোতালেবকেও সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা
সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা এখন নিজেদের দোষ ঢাকতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন, যা ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার’ শামিল। বন্দর থানা সংলগ্ন রূপালী আবাসিক এলাকা ও আশপাশের বাগানে গড়ে ওঠা মাদকের স্পটগুলো পুলিশের নাকের ডগায় চললেও এতদিন রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জনপ্রত্যাশা ও কঠোর ব্যবস্থা
সচেতন মহল বলছেন, মাদক সিন্ডিকেটের সাথে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা এখন ওপেন সিক্রেট। পুলিশের দায়িত্বহীনতার কারণে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। তাই কেবল বদলি নয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
প্রশাসনের বক্তব্য
বন্দরের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনিসুর রহমান ৩ অফিসারের বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (“খ” সার্কেল) দীপংকর ঘোষ জানিয়েছেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রমাণ মিললে সবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন