ঢাকা   সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

সিদ্ধিরগঞ্জে নারী লাঞ্ছনার প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১



সিদ্ধিরগঞ্জে নারী লাঞ্ছনার প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক নারীকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ করায় ফজলুল হক (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক কিশোর গ্যাং বা সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। নাসিক ৮নং ওয়ার্ড, সৈয়দপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। ফজলুল হক (৫০), পিতা- হাবিবুর রহমান। গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার দেউলাবাড়ি গ্রামে (বর্তমানে সৈয়দ পাড়ার মোহাম্মদ আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া) লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ; এজাহারভুক্ত আসামি রবিন গ্রেপ্তার।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সৈয়দপাড়া এলাকায় 'নোবেল বাহিনী' নামক একটি চক্রের সদস্যরা এক বহিরাগত নারীকে লাঞ্ছিত করছিল। এ সময় ফজলুল হক নামের ওই ব্যক্তি ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে সন্ত্রাসীরা ওই নারীকে ছেড়ে দিয়ে ফজলুল হকের ওপর চড়াও হয়। তাকে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেদম মারধর করা হয়।

​গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু মারধরের দুদিন পর, রবিবার সকালে ফজলুল হক হঠাৎ রক্তবমি শুরু করেন এবং নিজ বাসাতেই তার মৃত্যু হয়।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই হামলার নেতৃত্বে ছিল নোবেল (পিতা- রমজান শেখ)। সে নাসিক ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি শামসুদ্দিন শেখের ভাতিজা হওয়ায় এলাকায় নিজস্ব একটি বাহিনী গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম করে আসছিল। হামলার সময় নোবেলের সাথে রবিন (পিতা- মো. আবু), অন্তু (পিতা- অজ্ঞাত) ও মিলন (পিতা- মোক্তার হোসেন) সহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিল বলে জানা গেছে। ​"নোবেল বিএনপির রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করেছে। তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়েই আজ একজন নিরীহ মানুষকে প্রাণ হারাতে হলো।" — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান নিহতের মেয়ের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু নারী লাঞ্ছনার প্রতিবাদই নয়, বরং পুরনো শত্রুতা ও প্রতিশোধের বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে। তিনি জানান ​গত এক বছর আগে তার ভাইকেও একদল সন্ত্রাসী ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছিল। ​ওই মামলায় ফজলুল হক নিজেই বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ​মামলার একজন আসামি সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে ফজলুল হককে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। ​পরিবারের ধারণা, মামলার বাদী হওয়ার কারণে পূর্বপরিকল্পিতভাবেও এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।

​ফজলুল হকের মৃত্যুর খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর এসআই তারেক মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

​সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক জানান, ​"ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তৎপর রয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রবিন (৩০) নামের একজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। তবে এই বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।"

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


সিদ্ধিরগঞ্জে নারী লাঞ্ছনার প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক নারীকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ করায় ফজলুল হক (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক কিশোর গ্যাং বা সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। নাসিক ৮নং ওয়ার্ড, সৈয়দপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। ফজলুল হক (৫০), পিতা- হাবিবুর রহমান। গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার দেউলাবাড়ি গ্রামে (বর্তমানে সৈয়দ পাড়ার মোহাম্মদ আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া) লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ; এজাহারভুক্ত আসামি রবিন গ্রেপ্তার।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সৈয়দপাড়া এলাকায় 'নোবেল বাহিনী' নামক একটি চক্রের সদস্যরা এক বহিরাগত নারীকে লাঞ্ছিত করছিল। এ সময় ফজলুল হক নামের ওই ব্যক্তি ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে সন্ত্রাসীরা ওই নারীকে ছেড়ে দিয়ে ফজলুল হকের ওপর চড়াও হয়। তাকে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেদম মারধর করা হয়।

​গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু মারধরের দুদিন পর, রবিবার সকালে ফজলুল হক হঠাৎ রক্তবমি শুরু করেন এবং নিজ বাসাতেই তার মৃত্যু হয়।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই হামলার নেতৃত্বে ছিল নোবেল (পিতা- রমজান শেখ)। সে নাসিক ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি শামসুদ্দিন শেখের ভাতিজা হওয়ায় এলাকায় নিজস্ব একটি বাহিনী গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম করে আসছিল। হামলার সময় নোবেলের সাথে রবিন (পিতা- মো. আবু), অন্তু (পিতা- অজ্ঞাত) ও মিলন (পিতা- মোক্তার হোসেন) সহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিল বলে জানা গেছে। ​"নোবেল বিএনপির রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করেছে। তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়েই আজ একজন নিরীহ মানুষকে প্রাণ হারাতে হলো।" — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান নিহতের মেয়ের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু নারী লাঞ্ছনার প্রতিবাদই নয়, বরং পুরনো শত্রুতা ও প্রতিশোধের বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে। তিনি জানান ​গত এক বছর আগে তার ভাইকেও একদল সন্ত্রাসী ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছিল। ​ওই মামলায় ফজলুল হক নিজেই বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ​মামলার একজন আসামি সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে ফজলুল হককে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। ​পরিবারের ধারণা, মামলার বাদী হওয়ার কারণে পূর্বপরিকল্পিতভাবেও এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।

​ফজলুল হকের মৃত্যুর খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর এসআই তারেক মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

​সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক জানান, ​"ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তৎপর রয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রবিন (৩০) নামের একজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। তবে এই বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।"


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত