ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

২.৭০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: ফেঁসে গেলেন বাউফলের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান



২.৭০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: ফেঁসে গেলেন বাউফলের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান
বাউফলের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ২ কোটি ৭০ লাখ ১৩ হাজার ৯০০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি রুজু করা হয়। বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

সম্পদের হিসাব ও অসংগতি

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অনুসন্ধানে আবদুল মোতালেব হাওলাদারের নামে মোট ৩ কোটি ১০ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪০ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫ হাজার ৮৭৫ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৭৬৫ টাকা।

অন্যদিকে, তার বৈধ আয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৬২ লাখ ২০ হাজার টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দিয়ে তার প্রকৃত বৈধ সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪০ লাখ ৭৯ হাজার ৭৪০ টাকা। অর্থাৎ, তার বৈধ আয়ের তুলনায় ২ কোটি ৭০ লাখ ১৩ হাজার ৯০০ টাকার সম্পদের কোনো বৈধ বা দালিলিক প্রমাণ তিনি দাখিল করতে পারেননি।

মামলার প্রেক্ষাপট

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখল করে আসছেন। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলা দায়েরের আবেদন করেন। পরবর্তীতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনক্রমে পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সাইদুর রহমান অপু মামলাটি রুজু করেন।

যা বলা হয়েছে এজাহারে

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পটুয়াখালী জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া অনুসন্ধানকালে এই ঘটনার সাথে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে এজাহারে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


২.৭০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: ফেঁসে গেলেন বাউফলের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ২ কোটি ৭০ লাখ ১৩ হাজার ৯০০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি রুজু করা হয়। বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

সম্পদের হিসাব ও অসংগতি

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অনুসন্ধানে আবদুল মোতালেব হাওলাদারের নামে মোট ৩ কোটি ১০ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪০ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫ হাজার ৮৭৫ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৭৬৫ টাকা।

অন্যদিকে, তার বৈধ আয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৬২ লাখ ২০ হাজার টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দিয়ে তার প্রকৃত বৈধ সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪০ লাখ ৭৯ হাজার ৭৪০ টাকা। অর্থাৎ, তার বৈধ আয়ের তুলনায় ২ কোটি ৭০ লাখ ১৩ হাজার ৯০০ টাকার সম্পদের কোনো বৈধ বা দালিলিক প্রমাণ তিনি দাখিল করতে পারেননি।

মামলার প্রেক্ষাপট

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখল করে আসছেন। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলা দায়েরের আবেদন করেন। পরবর্তীতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনক্রমে পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সাইদুর রহমান অপু মামলাটি রুজু করেন।

যা বলা হয়েছে এজাহারে

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পটুয়াখালী জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া অনুসন্ধানকালে এই ঘটনার সাথে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে এজাহারে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত