ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পশুর হাট, নেপথ্যে বিএনপি নেতা!



নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পশুর হাট, নেপথ্যে বিএনপি নেতা!
নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পশুর হাট, নেপথ্যে বিএনপি নেতা!

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দপুর এলাকায় তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নিচে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অবৈধভাবে পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন ও তার সহযোগীরা এই হাট পরিচালনা করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ওয়ার্ডে উন্মুক্ত দরপত্রের (টেন্ডার) মাধ্যমে অনুমোদিত দুʼটি হাট ছাড়া অন্য কোনো স্থানে পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে চিত্র: সৈয়দপুরের কয়লাঘাট এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বিআইডব্লিউটিএ (BIWTA) এবং বিআইডব্লিউটিসি (BIWTC)-এর সীমানা প্রাচীরের ভেতরে বিশাল জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই হাট। অথচ সরকারি এই দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। সাধারণত ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে প্রতিটি হাটে বড় তোরণ বা গেইট নির্মাণ এবং সেখানে ইজারাদারের নাম-ঠিকানা স্পষ্টভাবে লেখা থাকার নিয়ম থাকলেও, এই হাটে তার কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সৈয়দপুর এলাকার বাসিন্দা আশরাফ আলী বলেন:

“গত বছরও এখানে ছোট একটা হাট হইছিল। এবার আরও বড় হইছে এই হাট। এলাকার বিএনপির লোকজনই তো এটা করছে। গত বছরও আক্তার ভাই ডাক (ইজারা) আনছিল।”

এলাকার অন্তত আরও পাঁচজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, হাটটি মূলত বিএনপি নেতা আক্তার হোসেনের তত্ত্বাবধানে স্থাপন করা হয়েছে এবং তার অনুসারী ও লোকজনই সরাসরি এটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন।

দায়িত্বপ্রাপ্তদের লুকোচুরি ও সিটি করপোরেশনের বক্তব্য: হাটের বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা সংবাদকর্মী পরিচয় পেয়ে প্রথমে কথা বলতে রাজি হননি। পরে হাটের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি দাবি করেন, সিটি করপোরেশনের সব কাগজপত্র তাদের কাছে আছে এবং এটি কোনো অবৈধ হাট নয়। তবে চ্যালেঞ্জ করে হাটের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন:

“১৮ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের অনুমোদিত দুটি হাট রয়েছে। সেতুর নিচে কোনো হাটের অনুমতি দেওয়া হয়নি, এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। ওই এলাকার এক বিএনপি নেতা আমাদের সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দলীয় লোক। তিনি চেষ্টা করছেন কোনোভাবে এর একটি ব্যাকডেটেড বৈধতা নেওয়া যায় কিনা। তবে আমরা এর পক্ষে নই। কারণ অলরেডি সিটির হাটগুলোর টেন্ডার হয়ে গেছে। এখন নতুন করে এই হাট দিলে বিতর্ক তৈরি হবে।”

বিআইডব্লিউটিএ ও অভিযুক্ত নেতার বক্তব্য: এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএʼর যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমাদের জায়গায় কাউকে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। কেউ যদি জোরপূর্বক করে থাকে তবে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, ইজারা ছাড়া অবৈধভাবে হাট পরিচালনার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “গত বছর আমি নিয়মতান্ত্রিকভাবে এখানে হাট পরিচালনা করেছি। কিন্তু এবার আমার নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই হাটের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে এই এলাকারই কিছু বিএনপি নেতা এর সাথে জড়িত থাকতে পারে।”

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পশুর হাট, নেপথ্যে বিএনপি নেতা!

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দপুর এলাকায় তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নিচে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অবৈধভাবে পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন ও তার সহযোগীরা এই হাট পরিচালনা করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ওয়ার্ডে উন্মুক্ত দরপত্রের (টেন্ডার) মাধ্যমে অনুমোদিত দুʼটি হাট ছাড়া অন্য কোনো স্থানে পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে চিত্র: সৈয়দপুরের কয়লাঘাট এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বিআইডব্লিউটিএ (BIWTA) এবং বিআইডব্লিউটিসি (BIWTC)-এর সীমানা প্রাচীরের ভেতরে বিশাল জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই হাট। অথচ সরকারি এই দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। সাধারণত ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে প্রতিটি হাটে বড় তোরণ বা গেইট নির্মাণ এবং সেখানে ইজারাদারের নাম-ঠিকানা স্পষ্টভাবে লেখা থাকার নিয়ম থাকলেও, এই হাটে তার কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সৈয়দপুর এলাকার বাসিন্দা আশরাফ আলী বলেন:

“গত বছরও এখানে ছোট একটা হাট হইছিল। এবার আরও বড় হইছে এই হাট। এলাকার বিএনপির লোকজনই তো এটা করছে। গত বছরও আক্তার ভাই ডাক (ইজারা) আনছিল।”

এলাকার অন্তত আরও পাঁচজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, হাটটি মূলত বিএনপি নেতা আক্তার হোসেনের তত্ত্বাবধানে স্থাপন করা হয়েছে এবং তার অনুসারী ও লোকজনই সরাসরি এটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন।

দায়িত্বপ্রাপ্তদের লুকোচুরি ও সিটি করপোরেশনের বক্তব্য: হাটের বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা সংবাদকর্মী পরিচয় পেয়ে প্রথমে কথা বলতে রাজি হননি। পরে হাটের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি দাবি করেন, সিটি করপোরেশনের সব কাগজপত্র তাদের কাছে আছে এবং এটি কোনো অবৈধ হাট নয়। তবে চ্যালেঞ্জ করে হাটের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন:

“১৮ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের অনুমোদিত দুটি হাট রয়েছে। সেতুর নিচে কোনো হাটের অনুমতি দেওয়া হয়নি, এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। ওই এলাকার এক বিএনপি নেতা আমাদের সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দলীয় লোক। তিনি চেষ্টা করছেন কোনোভাবে এর একটি ব্যাকডেটেড বৈধতা নেওয়া যায় কিনা। তবে আমরা এর পক্ষে নই। কারণ অলরেডি সিটির হাটগুলোর টেন্ডার হয়ে গেছে। এখন নতুন করে এই হাট দিলে বিতর্ক তৈরি হবে।”

বিআইডব্লিউটিএ ও অভিযুক্ত নেতার বক্তব্য: এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএʼর যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমাদের জায়গায় কাউকে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। কেউ যদি জোরপূর্বক করে থাকে তবে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, ইজারা ছাড়া অবৈধভাবে হাট পরিচালনার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “গত বছর আমি নিয়মতান্ত্রিকভাবে এখানে হাট পরিচালনা করেছি। কিন্তু এবার আমার নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই হাটের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে এই এলাকারই কিছু বিএনপি নেতা এর সাথে জড়িত থাকতে পারে।”


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত